মিরসরাই-সীতাকুণ্ড রুটে লেগুনা

মহাসড়কে চালকের আসনে অদক্ষ কিশোর

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

বিপুল দাশ, মিরসরাই

মহাসড়কে চালকের আসনে অদক্ষ কিশোর

মহাসড়কে বেপরোয়া লেগুনা চালায় কিশোর চালকরা- সমকাল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালকের আসনে বসেছে অদক্ষ কিশোররা। গাড়ির পেছনে হেলপারের দায়িত্ব পালন করছেন শিশুরা। বারইয়ারহাট থেকে বড়দারোগাহাট-সীতাকুণ্ড রুটে ব্যস্ত এই সড়কে লেগুনা চালায় ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সের শিশু-কিশোররা। তাদের কোনো লাইসেন্স নেই। মাত্র কয়েকদিন গাড়িতে হেলপারের দায়িত্ব পালন করার পর স্টিয়ারিং ধরে চালক বনে যাচ্ছে তারা। যাত্রীরা বলেন, অল্প বয়সী এসব চালক গাড়ি চালায় বেপরোয়া গতিতে। ফলে সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

গত বৃহস্পতিবার মহাসড়কে এক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে বারইয়ারহাট-বড়দারোগাহাট রুটে তিনজন কিশোরকে সেইফ লাইন ও লেগুনার গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। তাদের বয়স বড়জোর ১৩-১৫ বছর হবে বলে তারা জানায়। একজনের নাম ইকবাল হোসেন, আরেকজনের নাম বাহার। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। গাড়ির পেছনে হেলপারের দায়িত্বও পালন করছে শিশুরা।

দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা স্বীকার করে গাড়ির এক মালিক রবিউল হোসেন বলেন, ইকবালের বয়স কিছুটা কম হলেও সে ভালোভাবে গাড়ি চালায়। তিনি আরও বলেন, এই রুটে যে পরিমাণ লেগুনা ও সেইফ লাইন আছে, সে তুলনায় চালক নেই। বাধ্য হয়ে মালিকরা কম বয়সী চালকদের গাড়ি দিচ্ছেন।

চালক ইকবালের দাবি তার বয়স ১৬ বছর। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। এখনও লাইন্সেস বের হয়নি। তবে এ নিয়ে তার কোনো সমস্যা হয় না বলে জানায় ইকবাল। আরেক চালক বাহারের দাবি, তার বয়স ১৯ বছর। সে ৮ বছর ধরে মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছে। তবে তার লাইসেন্স নেই। কয়েকজন যাত্রী বলেন, বাহারের বয়স ১৪-১৫ বছরের বেশি হবে না।

গাড়ির মালিক মামুন বলেন, চালকের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাহার একটি লাইসেন্স দেখিয়েছিল। তিনি লাইসেন্স যাচাই করে দেখবেন। যদি লাইসেন্সটি ভুয়া হয়, তাহলে তাকে আর গাড়ি চালাতে দেবেন না। কথা হয় হেলাপারের দায়িত্ব পালন করা রাব্বি, ওছমান, নুর উদ্দিন, মোশারফসহ একাধিক শিশুর সঙ্গে। তাদের মধ্যে কেউ পরিবারকে সহযোগিতা করতে গাড়িতে উঠেছে। কেউ পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ায় মা-বাবা গাড়িতে তুলে দিয়েছেন। আবার কেউ হেলপার থেকে চালক হওয়ার আশায় এই পেশায় এসেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়ার পর লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি দিয়ে বারইয়ারহাট-বড়দারোগাহাট ও সীতাকুণ্ড রুটে লেগুনা ও সেইফ লাইন নামে শত শত গাড়ি নামানো হয়েছে। আর সেই গাড়িতে অদক্ষ, শিশু-কিশোরদের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, গাড়িতে ওঠার সময় চালকের দিকে তাকাননি তিনি। বিকাশ ভৌমিক বলেন, এই রুটে ১৩-১৪ বছর বয়সী অনেক চালক আছে। যানবাহনের সংকটের কারণে ঝুঁকি আছে জেনেও তারা এসব গাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন।

মিরসরাই সদরের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, ওয়াজিউল্যা বলেন, মহাসড়কে লেগুনা-সেইফ লাইন পরিবহনের অনেক চালক কিশোর। তারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সোহেল সরকার বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করছে হাইওয়ে পুলিশ। কিশোর চালকদের হাতে গাড়ি না দিতে তারা বিভিন্ন সময়ে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছেন। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভা করেও সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।