হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদানে অনিয়ম

১২টায়ও আসেন না ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, হাটহাজারী

১১ আগস্ট শনিবার, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট। তখনও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান ইব্রাহিম অফিসে আসেননি। এমনকি এ বিভাগের দরজাও ছিল বন্ধ। এদিকে সকাল ৯টা থেকেই ৩০ জন মা নবজাতক শিশু নিয়ে টিকা দিতে এসে অপেক্ষা করছেন। অভিভাবকদের বসার জন্য নেই কোনো চেয়ার, নেই ফ্যান। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা অভিভাবকদের। এই চিত্র এখানে নিয়মিত দেখা যায় বলে অভিযোগ।

অভিভাবকরা জানান, সকাল ৯টা থেকেই টিকা দেওয়ার জন্য তারা শিশুদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিশুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কিন্তু টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার নামই নেই। এক পর্যায়ে ৩০টির বেশি নবজাতক শিশুকে নিয়ে কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিভাবকরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত টেকনিশিয়ান বা টিকাদান কেন্দ্রের কর্মী আসেননি। তখন শিশুদের বাবা-মায়েরা অস্থির হয়ে পড়েন। কেন্দ্রের সামনে বসার জন্য কোনো চেয়ার কিংবা ফ্যান না থাকায় গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়েন অভিভাবকরা। এ সময় গরমে নবজাতকরা কান্না করতে থাকে। অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টিকাদান কেন্দ্রের টেকনিশিয়ান ইব্রাহিম এসে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক অভিভাবক নবজাতক নিয়ে ফিরে যান।

হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে দুর্ভোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকত্র্‌া আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ দৈনিক সমকালকে বলেন, 'ওইদিন ইপিআই মাঠ কর্মীদের মিটিং থাকায় টেকনিশিয়ান কাজ শুরু করতে পারেননি।' কাজ বন্ধ রেখে মিটিং করার নিয়ম আসে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আগে থেকেই এভাবে চলে আসছে।' টিকাদান কেন্দ্রের সামনে টিকা দিতে আসা শিশুর অভিভাবকদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই, তীব্র গরমেও ফ্যান নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে থেকেই এ অবস্থা চলে আসছে।

অভিভাবক অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম টিকা দিতে এসে দুর্ভোগের শিকার হন। তিনি বলেন, কয়েক মাস বয়সী শিশুদের টিকা না দিয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এভাবে বসিয়ে রাখা চরম দায়িত্বহীনতা। আর এ কাজ মাসের পর মাস করে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেন, সংশ্নিষ্টদের মনে রাখা উচিত জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। জনগণকে সেবা না দিয়ে কষ্ট দিলে তাদের পদে থাকার অধিকার থাকে না।