হাটহাজারীর মেখলে প্রবীণ মেলা প্রবীণেরা বোঝা নয়, জাতির সম্পদ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

হাটহাজারী সংবাদদাতা

ঘাসফুলের আয়োজনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় ৪ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর উত্তর মেখল ইউনিয়নে বায়তুল লেক্কা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেখল ইউনিয়নে ঘাসফুল বাস্তবায়নাধীন প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এ মেলার আয়োজন করা হয়। প্রবীণ মেলা উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, পিকেএসএফের ও সাবেক মুখ্যসচিব মো: আবদুল করিম, ঘাসফুল নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী।

মেলায় ড. মনজুর উল-আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঘাসফুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাবুর রহমান জাফরী। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন প্রবীণ ভাতা প্রাপ্ত উপকারভোগী রফিক উদ্দিন বাবু।

প্রধান অতিথি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, 'প্রবীণরা কখনও বৃদ্ধ নয়, মানসিক দিক দিয়ে অনেক সক্ষম, দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তনে এবং উন্নয়নে প্রবীণদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সমৃদ্ধি কর্মসূচি এমন এক কর্মসূচি যা সমাজের শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ জনগোষ্ঠী পর্যন্ত এ কর্মসূচির সেবা গ্রহণ করতে পারে, এমনকি মৃত্যুর পর দাফন-কাফন সেবা পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। প্রবীণরা দেশের বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে গণ্য করতে হবে, নারী-পুরুষ বিভাজন নয়, মানব মর্যাদায় সমাসীন করতে হবে।'

সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবদুল করিম বলেন, 'স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয়রাই ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে পিকেএসএফের সমৃদ্ধি কর্মসূচি। পিকেএসএফের সহায়তায় ঘাসফুল নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কাজ শুরু করেছে। হাটহাজারীর প্রসিদ্ধ লাল মরিচ জাতীয়ভাবে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচয় এবং বাজারজাতকরণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঘাসফুল কাজ করছে।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জসীম উদ্দিন, ফজলুল কাদের, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী, মেখল ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে শতবর্ষী একজন নারী আজব খাতুনকে সিনিয়র সিটিজেন সম্মাননা এবং প্রবীণ ভাতা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ১০০ জন প্রবীণকে প্রবীণ ভাতা, একজনকে অসচ্ছল প্রবীণ ভাতা, ২০ জনকে লাঠি, ২০ জনকে ছাতা, ২০ জনকে কমোড চেয়ার, ৬১ জনকে চশমা, দু'জনকে হুইলচেয়ার, পাঁচজনকে প্রবীণ সম্মাননা, একজনকে সিনিয়র সিটিজন সম্মাননা এবং জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।