চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

দুর্ভোগ কমাবে পটিয়া বাইপাস

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আহমদ উল্লাহ, পটিয়া

আগামী জুনের আগেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়কের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সড়কের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে। চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। পটিয়া সদরের দীর্ঘদিনের যানজট থেকে মুক্তি পেতে ১০ বছর আগে নেওয়া প্রকল্পটি এখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যাত্রীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠার অপেক্ষায়। পৌর সদরের ইন্দ্রপুল থেকে কচুয়াই গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বাইপাসটি চালু হলে মহাসড়কের যাত্রীদের সময় বাঁচবে প্রায় ৩০ মিনিট।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী জানান, 'বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলে পটিয়া পৌরসভার পোস্ট অফিস, থানার মোড় এলাকায় যে যানজট লেগে থাকে, তা থেকে মুক্তি পাবেন যাত্রীরা। চট্টগ্রামসহ অন্য এলাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো পটিয়ার ইন্দ্রপুল এলাকা থেকে সরাসরি বাইপাস সড়ক হয়ে গিরিশ চৌধুরী বাজার এলাকার মহাসড়কে উঠে যেতে পারবে। চন্দনাইশ, সাতকানিয়া হয়ে কক্সবাজারের পথে চলে যেতে পারবে। এর মাধ্যমে পটিয়া পৌরসভার যানজটের পাশাপাশি মহাসড়কে যাতায়াতে সময় কমবে। তিনি আরও বলেন, 'পটিয়া বাইপাসটি পুরো পটিয়ার চিত্র পাল্টে দেবে। একদিকে যানজট থেকে মুক্তি মিলবে, অন্যদিকে বাইপাসকে ঘিরে পটিয়া শহরের সম্প্রসারণ ঘটবে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজনের ভোগান্তি কমবে। তা ছাড়া পৌর সদরে যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা কমবে, সড়কও নিরাপদ হবে। পটিয়ার মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে।'

সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের ইন্দ্রপুল এলাকা থেকে বাইপাস সড়কটির এক পাশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষের দিকে হলেও ভাটিখাইন ইউনিয়নের শ্রীমাই এলাকা থেকে কচুয়াইয়ের গিরিশ চৌধুরী বাজার সংযোগ সড়ক অংশে এখনও পুরোপুরি কার্পেটিং করা হয়নি। তবে পিচ করার কাজ চলমান রয়েছে। বাইপাস সড়কের দুই পাশে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য বসানো হচ্ছে খুঁটি। এ সড়কটিতে ২০টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বিকেল হলেই এ সড়কে ঘুরতে আসেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। দুই ধারে বিল, মধ্যখানে বাইপাস সড়ক- সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘিরে তৈরি হয়েছে সড়কটি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌর সদর এলাকার প্রশস্ততা কম হওয়ায় ব্যস্ততম এ এলাকাটিতে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকত। বিশেষ করে পটিয়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা কমপ্লেক্স, যুগ্ম জেলা জজ আদালত, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পটিয়া থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সদর দপ্তর, পটিয়া ডাকঘর, পটিয়া সরকারি কলেজ, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, এ এস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাইমারি স্কুল, পটিয়া পিটিআই, শাহচান্দ আউলিয়া মাদ্রাসাসহ অসংখ্য ব্যাংকের শাখাসহ বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের সঙ্গে লাগানো। ফলে সবসময় অসংখ্য মানুষের চলাচল থাকে মহাসড়ক ঘিরে।

আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির প্রশস্ততা বাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতে পর্যটন শহর কক্সবাজার, বান্দরবান পার্বত্য জেলাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০ রুটে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে যানজটের কবলে পড়তে হতো। পটিয়া পৌর সদর অতিক্রম করতেই ৩০-৪০ মিনিট লেগে যেত। তাই যানজট দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পটিয়া মনসার টেক থেকে দোহাজারী সাঙ্গু সেতু সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। সে সময় মাটির অভাব, হিন্দুদের বাড়িঘর আর মন্দিরের কারণে বাইপাসসহ সড়কের সরলীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে পটিয়া পৌর এলাকায় যানবাহনের চাপে সৃষ্ট যানজট নৈমিত্যিক রূপ ধারণ করে। এ অবস্থায় স্থানীয় সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি কাটছাঁট করে বাস্তবায়ন করে সরকার।

২০০৮ সালে ২৫ জুন ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লি. (আইটিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পটিয়া ইন্দ্রপুল থেকে গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণও ওই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে বাইপাসের কাজ শুরু হলে এলাকায় কিছু স্থাপনা উচ্ছেদে বাধার সৃষ্টি হয়। তখন আরেক দফা বাধার মুখে পড়ে প্রকল্পের কাজ।

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা শেষে শুধু বাইপাস সড়ক নির্মাণে ২০১৬ সালে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বাইপাস নির্মাণে ওই বছরের ১ জুন রিলায়েবল বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রায় ৬২ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় আরো ১০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, 'বর্তমানে মহাসড়ক দিয়ে পটিয়া সদর অতিক্রম করতে একটি যানবাহনের যেখানে ৩০-৪০ মিনিট লাগে, বাইপাস চালু হলে মাত্র ৫-৭ মিনিট লাগবে। বর্তমানে বাইপাসের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।' আমরা ইতোমধ্যে বাইপাসটি পরীক্ষামূলকভাবে এক মাসের জন্য যানচলাচলের জন্য খুলে দিয়েছিলাম। তবে এখন কাজ শেষ করার জন্য যানচলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।'