বিলাইছড়ির নীলাদ্রি রিসোর্ট

পাহাড় চূড়ায় রূপের শহর

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই

রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ির বুকজুড়ে প্রকৃতির অপরূপ খেলা। পাহাড়, নদী, হ্রদ ও ছড়া প্রবাহিত হয়েছে এ উপজেলার কোলজুড়ে। এই উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগও সহজ। কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে হ্রদপথে ও রাঙামাটি হয়ে নদীপথে বিলাইছড়ি যাওয়া যায়। হ্রদপথে যাওয়ার সময় বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে সাম্পান কিংবা বোটযোগে হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি মনকে আচ্ছন্ন করে দেয় অন্যরকম ভালো লাগায়। সম্প্রতি উপজেলা শহরের পাশে হিলটপে গড়ে তোলা হয়েছে নীলাদ্রি রিসোর্ট ও শিশু পার্ক, যা অল্পদিনে বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় অসংখ্য ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে ধুপপানি বিলাইছড়ির যেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি। এ ছাড়া মুপ্পোছড়া বিলাইছড়ি, ন-কাটাছড়া বিলাইছড়ি, গাছকাটাছড়া বিলাইছড়ি দেখতে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় করেন। তবে আগে রাত যাপনের জন্য এখানে তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা ছিল না। সেই চিন্তা থেকেই বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরীর উদ্যোগে এবং এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় গত আগস্টে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হিলটপে গড়ে তোলা হয়েছে নীলাদ্রি রিসোর্ট ও শিশু পার্ক। এ ছাড়া রিসোর্ট সংলগ্ন উপজেলা ক্যাফেতে আসা পর্যটকদের জন্য ঘরোয়া পরিবেশে উন্নতমানের খাবারের সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নীলাদ্রি রিসোর্টে রয়েছে তিনটি উন্নতমানের কটেজ। কটেজগুলোর নামকরণ করা হয়েছে উপজেলার ঝরনা ও নদীর নামে। রিসোর্টের প্রবেশমুখে ঝুলন্ত সেতু ও রিসোর্টের কেন্দ্রে পাহাড়ের গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে দারুণ এক মাচাং। যেখানে বসে দূর পাহাড়ে মেঘের ছটা, পূর্ণিমার আলো অবলোকন করেন পর্যটকরা। তা ছাড়া রোদ-বৃষ্টির ছোঁয়ায় রংধনু দেখতে পাওয়া যায় এখানে বসে।

কটেজে তিনটি ডাবল কক্ষ রয়েছে। এগুলোর শুক্র ও শনিবার ভাড়া ৩ হাজার টাকা, বাকি দিনগুলোতে আড়াই হাজার টাকা।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের থাকার সুব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্গম এ উপজেলাকে ব্র্যান্ডিং করা, এলাকার জনগণের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং সার্বিকভাবে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অংশ হিসেবে নীলাদ্রি রিসোর্ট ও শিশু পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে এখানে শত শত পর্যটক এসে রাত যাপন করছেন। এত অল্প সময়ে এই পর্যটন কেন্দ্র এমন জনপ্রিয় হবে, তা ছিল অভাবিত।

বিলাইছড়ি উপজেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বড়ূয়া বাপ্পি বলেন, বিলাইছড়ি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এ রিসোর্ট ও শিশু পার্ক স্থাপনের ফলে প্রতিদিন বিকেলে এলাকার শিশুরা মুক্ত বাতাসে বেড়াতে পারছে ও বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা জাহাঙ্গীর আলম ও শাহনাজ দম্পতি বলেন, 'পরিবার-পরিজন নিয়ে এ উপজেলায় বেড়াতে এসে নীলাদ্রি রিসোর্টে রাত্রিযাপন করেছি। প্রকৃতির মাঝে দু'একদিন সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।'