দাগনভূঞার শ্মশানখালী খাল

শত বছরেও সেতু হলো না

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি

দাগনভূঞা উপজেলায় শ্মশানখালী খালের ওপর শত ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো, যা তিনটি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এলাকাবাসীর দাবি, এই সাঁকোর বয়স ১০০ বছরেরও বেশি।

১৯১১-১২ সালের দিকে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করা হয়েছিল। শত বছর পরেও সাঁকোর স্থানে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেয়নি কেউ। ইতোমধ্যে সেতু থেকে পড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর জানান, ১০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি প্রতি বছর বর্ষায় স্রোতের তোড়ে ভেসে যায়। তাই বর্ষা শেষে শুস্ক মৌসুমে এলাকাবাসীকে মেরামত করতে হয়। সাঁকোর স্থলে সেতু তৈরি করা জরুরি। ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম আরিফ বলেন, 'শ্মশানখালী সাঁকোটি সাত গ্রামের একমাত্র ভরসা। তাই এখানে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা দরকার।'

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান এ ব্যাপারে বলেন, শ্মশানখাল সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণ করা এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।

উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের হাসান গণিপুর ও চাঁদপুর, মাতুভূঞা ইউনিয়নের মহেশপুর, হীরাপুর ও দক্ষিণ লালপুর, জায়লস্কর ইউনিয়নের খুশিপুর ও দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের সীমান্ত এলাকায় সাঁকোটির অবস্থান। বিকল্প না থাকায় এ সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধিক মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান (৭৫) ও আবদুল মোমেন (৫৫) জানান, জন্মের পর থেকে তারা সাঁকোটি এভাবেই দেখছেন। তারা মুরব্বিদের কাছে শুনেছেন, অনুমানিক ১৯১১-১২ সালের দিকে, স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু পরে এই স্থানে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানায়, প্রতি বছর বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে সাঁকোটি ভেসে যায়। বর্ষা শেষে গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে তা আবার বাঁশ দিয়েই নির্মাণ করা হয়। এভাবেই চলছে যুগের পর যুগ। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো থেকে পড়ে মারা গেছে ছুট্টু নামের এক শিশু। খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্থানীয় মহেশপুর গ্রামের মোহাম্মদ ইয়াসিন সাঁকো থেকে পড়ে হাত ভেঙে ফেলেছে। নিলয়, অপু ও পবেল নামে তিনজনের হাত-পা ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় দক্ষিণ পাশের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে দাফন করার জন্য কলাগাছের ভেলায় করে উত্তরের কবরস্থানে মৃতদেহ নিয়ে যেতে হয়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় স্বজনদের।

স্থানীয় জামাল উদ্দিন, নুরুল আমীন, আবুল হোসেন জানান, বর্ষা ও শুস্ক মৌসুমে এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান বলেন, 'গ্রাম হবে শহর'- এই স্লোগান নিয়ে চলছে উন্নয়ন কার্যক্রম। এ উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে স্থানীয়দের বাদ যাবে না, আশা করি দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর সুপারিশে খুশিপুর পাকা সড়ক-গজারিয়া সড়ক ভায়া বাশার বাড়ি সড়কে ৯৮০ মিটার চেইনেজে সেতু নির্মাণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।