হাটহাজারীতে প্রতারকরা বিকাশে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা

'আমি বিপদে আমার জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠাও'

প্রতারণার শিকার প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক। প্রতারকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

হাটহাজারী প্রতিনিধি

হাটহাজারীতে হঠাৎ করে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নানা শেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ও পরিচয় দিয়ে হাটহাজারীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক বা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয় দিয়ে চক্রটি বিকাশে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চক্রটি গত এক বছর নির্দিষ্ট কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে অভিনব এই প্রতারণা চালালেও তারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে একাধিকবার। চক্রটির ফাঁদ থেকে বাঁচতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছে।

সূত্রমতে, চক্রটি কৌশলে হাটহাজারীর ব্যস্ততম বিভিন্ন বাজারে বিকাশ এজেন্ট কিংবা যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিকাশে লেনদেন হয়, সেখান থেকে বিকাশ নম্বরটি সংগ্রহ করে। এরপর তারা সুযোগ বুঝে ওইসব নম্বরে ফোন করে কখনও নিজেকে ইউপি চেয়ারম্যান, কখনও সাংবাদিক বা কখনও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয় দিয়ে দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ভিন্ন একটি নম্বরে বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে অনেকে বিশ্বাস করে ওই নম্বরে টাকা পাঠান। টাকা উত্তোলনের পর প্রতারক চক্র তাদের নম্বরটি বন্ধ করে দেয়। এভাবে গত এক বছরে প্রতারক চক্রের কাছে ৩৫ জন ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার হন। চক্রটি প্রতারণার ক্ষেত্রে ০১৯০৬৭৫৪০৫৬, ০১৭৩৮৭৪৩৩৩০ ও ০১৮৪২২০৫১৬৪ নম্বর ব্যবহার করে আসছে।

গত ১ অক্টোবর বিকেলে প্রতারণার শিকার হন নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের আজমীর স্টোরের পরিচালক। তার দোকানে বিকাশ লেনদেন হয়। তিনি বলেন, 'প্রতারক চক্র ০১৮৪২২০৫১৬৪ নম্বর থেকে তার বিকাশ নম্বরে ফোন করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. জাহেদের পরিচয় দিয়ে ৪০ হাজার ৮০০ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিষদে গিয়ে জানতে পারি, নম্বরটি সচিবের নয়।' এ ঘটনায় তিনি হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মেখল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'প্রতারক চক্র ০১৮৪২২০৫১৬৪ নম্বর ব্যবহার করে আমার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করি। জনগণকে সতর্ক করতে মাইকযোগে সতর্কবার্তা প্রচার করি। এ ছাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদের ইমামকে এ বিষয়ে মুসল্লিদের সতর্ক করার অনুরোধ করেছি। থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও করেছি।' একইভাবে গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুজিব বলেন, '০১৯০৬৭৫৪০৫৬ ও ০১৮৪২২০৫১৬৪ নম্বর থেকে আমার পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্র ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিকাশে টাকা চেয়েছেন।'

হাটহাজারী বাজারের ব্যবসায়ী করিম জানান, গত সোমবার ০১৭৩৮৭৪৩৩৩০ নম্বর থেকে পুলিশ উপ-পরিদর্শক কফিল পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোন করে বিকাশে টাকা চান।

দুই ঘণ্টার মধ্যে আমাকে থানা থেকে এসে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান। প্রথমে বিশ্বাস করে টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় আর টাকা দিইনি। পরে নিশ্চিত হলাম, এটি প্রতারক চক্রের নম্বর।

টিটু নামক এক ব্যবসায়ী বলেন, 'অন্তত ৬ মাস আগে আমাকে সাইফুল নামে এক সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে ০১৯০৬৭৫৪০৫৬ নম্বর থেকে কল করে। পরে বলে বিকাশে চার দফা ৬৪ হাজার টাকা নেয়। পরে জানতে পারি, ওই নম্বরটি সাংবাদিকের নয়, প্রতারক চক্রের। মাঝে মধ্যে নম্বরটি খোলা পাওয়া যায়, তবে ফোন করলে প্রতারক রিসিভ করে না।'

বিকাশের এজেন্ট মো. রহিম বলেন, '০১৯০৬৭৫৪০৫৬ নম্বর থেকে পরিচিত এক সাংবাদিকের নাম বলে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলেন। সন্দেহ হওয়ায় প্রকৃত সাংবাদিককে ফোন করি। পরে নিশ্চিত হই প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল।'