সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন ইন্টারনেট ব্যবহার এবং গুজব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে দুর্বার আয়োজিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন বাঁশখালী এক্সপ্রেসের সিইও রহিম সৈকত। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক।

মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী 'আসল চিনি' ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই ভিডিওচিত্র নির্মাণ করা হয়।

ভিডিওচিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতায় কয়েক হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হন রহিম সৈকত। এতে রানারআপ হন মো. রাকিবুল ইসলাম।

২০১৯ সালে রহিম সৈকতের নির্দেশনায় চলচ্চিত্র 'একাত্তরের বীরাঙ্গনা' চট্টগ্রামে বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৮ সালে তার স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র 'জন্মভূমি' আনোয়ারা উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। চলতি বছর 'বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি' শিরোনামের তথ্যচিত্র আনোয়ারা উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়।

রহিম সৈকত আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। সম্প্রতি তিনি এটুআইয়ের অধীনে শিক্ষক বাতায়নের জেলা অ্যাম্বাসেডর মনোনীত হয়েছেন। এই শর্টফিল্মে বিভিন্ন চরিত্র রূপায়ণ করেছেন আনোয়ারা থানার পুলিশ কর্মকর্তা ইরফান খান জুয়েল, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শওকত, সুজন, ইমরান, ইউসুফ, মেসবাহ, আসিফ, আরজু, রিশতা, ইমন প্রমুখ।

ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালক ও এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পল্গ্যাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বিসিসির নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, এলআইসিটি প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার সামি আহমেদ ও গুজবের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী তসলিমা বেগম রেনুর মামা নাসির উদ্দিন টিটো।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন হাসান বেনাউল ইসলাম।

প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, 'সমাজের সব স্তরের মানুষকে মিথ্যা ও গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার বিষয়ের গভীরে না গিয়ে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পল্গ্যাটফর্মে অনেকেই দেশ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির শক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।'

রহিম সৈকত বলেন, 'আমার এই সাফল্যের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আনোয়ারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, প্রধান শিক্ষক ও সহকর্মী, অনলাইনে, অফলাইনের বন্ধুবান্ধব যারা আমাকে এই কাজে অনুপ্ররণা দিয়েছেন তাদের প্রতি। ভবিষ্যতে নিজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারে সচেতনতা তৈরিতে আরও ভূমিকা রাখব।'

মন্তব্য করুন