ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল সাবিদুল ইসলাম সাজ্জাদের (২২)। পড়ালেখার পর ফুটবল খেলাতেই বেশি সময় ব্যয় করতেন সাজ্জাদ। কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের বখাটের ছুরিকাঘাতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাজ্জাদ, পূরণ হলো না তার স্বপ্ন।

গত ১২ নভেম্বর সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসি মোড় এলাকায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বখাটে রবিউল ইসলাম সাজ্জাদের বুকে চুরিকাঘাত করে। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান সাজ্জাদ। সাজ্জাদের বন্ধু হৃদয়ের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বখাটে রবিউল ইসলামের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন সাজ্জাদ।

গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র সাজ্জাদ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মহানগরী মেট্রোপলিটন পাইওনিয়ার ফুটবল লিগে দোহাজারী আবাহনী ক্রীড়া চক্রের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। এ ছাড়া মেয়র গোল্ড কাপেও আলকরণ ৩২ নম্বর ওয়ার্ড দলের পক্ষে টুর্নামেন্টে অংশ নেন সাজ্জাদ। সর্বশেষ বান্দরবানে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টেও অংশ নেন। গত শুক্রবার সেই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচেও খেলার কথা ছিল তার। সেই ম্যাচ পরিচালনার খরচের টাকাও জোগাড় করেছিলেন তিনি, মৃত্যুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে।

নিহত সাজ্জাদের বড় ভাই হেলাল মাহামুদ জানান, 'সাজ্জাদের স্বপ্ন ছিল একজন প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার হওয়া। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন তিনি লালন করতেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সাজ্জাদ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে অনেকবার পুরস্কৃতও হয়েছেন। সাজ্জাদ সাবেক জাতীয় ফুটবলার শওকত খানের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং দোহাজারী আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সদস্য হিসেবে খেলতেন। পরিপূর্ণ ফুটবলার হয়ে ওঠার আগেই বখাটের হাতে তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো।'

এদিকে পুত্র হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি বৃদ্ধ মা ছফুরা বেগম। তিনি জানান, ঘটনার দিন দুপুরে সাজ্জাদ তার সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান। সে সময় সাজ্জাদ পরীক্ষার অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করার কথা বলে আসর নামাজের আগে তার বড় বোনের বাড়িতে চলে যান। এ ছিল মায়ের সঙ্গে সাজ্জাদের শেষ দেখা। মা ছফুরা বেগম বিলাপ করে বলেন, 'বুকে ছুরি মারার পর সাজ্জাদ আমাকে একবার দেখতে চেয়েছিল, কিন্তু সে সুযোগ ছেলেটা পায়নি।'

ঘটনার সময় সাজ্জাদের সঙ্গে থাকা ইমন জানান, বিওসি মোড় এলাকায় যাওয়ার পরপরই রবিউলের সঙ্গে সাজ্জাদের সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই রবিউল কোমর থেকে ছুরি বের করে সাজ্জাদের বুকে আঘাত করে। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাজ্জাদ মারা যান। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন