ছোট দলের ৫ প্রার্থীর 'বড় প্রচারণা'

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২১

শৈবাল আচার্য্য

 ছোট দলের ৫ প্রার্থীর 'বড় প্রচারণা'

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারে ভরে গেছে নগর-সমকাল

বৈশ্বিক মহামারির কারণে প্রায় ১০ মাস প্রচারণাসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর এখন চলছে প্রচারণার আসল সময়। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উত্তাপ। করোনাভাইরাসের এমন সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র পদের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেন।

বড় দলের দুই প্রার্থীর মতো নিজেদের এলাকায় প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছোট দলের পাঁচ মেয়র প্রার্থীও। তারা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের এমএ মতিন (মোমবাতি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর (আম), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং খোকন চৌধুরী (হাতি)। প্রধান দুই প্রার্থীর মতো ভোটারদের 'মন জয়' করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অপর পাঁচ মেয়র প্রার্থীও। তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা 'প্রতিশ্রুতি'। ছোট দলের প্রার্থীদের বড় আয়োজনের প্রচারণা দৃষ্টি কেড়েছে ভোটারদের।

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই নিজেদের ভোটের মাঠ গোছাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন পাঁচ মেয়র প্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনই নগরের কোনো না কোনো ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট চাইছেন তারা। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা এমএ মতিন বলেন, 'নির্বাচিত হলে নগরের খাল সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে উন্নতমানের পানি নিস্কাশন পদ্ধতির মাধ্যমে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করব। যানজট ও নোংরা পরিবেশ দূর করে আধুনিক পরিকল্পিত বাসযোগ্য পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেব। ডিজিটাল চট্টগ্রাম নগরী গড়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনা হবে।'

তিনি বলেন, 'সিটিজেন জার্নালিজম সেবা চালু করা হবে। এই সেবা চালু হলে যে কোনো নাগরিক তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ যেমন করতে পারবে, তেমনি নাগরিক সেবাও অতি দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নাগরিক সেবা দিতে অত্যাধুনিক বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত আইডিয়াল সিটি গঠন করা হবে। পেশিশক্তি বা ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে ভোটের ফলকে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এ জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।' তিনি মোমবাতি প্রতীকে নীরব ভোট বিপ্লবে অংশ নিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদ বলেন, 'নির্বাচিত হলে আমি একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সিটি করপোরেশন বিনির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপে এগিয়ে যাব। নগরীর নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- নিশ্চিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয় যাব। রাজনীতিতে অনাদর্শ প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় গণ আকাঙ্খা গুমরে মরছে। নির্বাচন কমিশনসহ সংশিস্নষ্ট প্রশাসনকে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোট ডাকাতির মতো পরিস্থিতি হলে জনগণই এর সঠিক জবাব দেবে।' তাই আসন্ন চসিক নির্বাচনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীকে সুফিবাদী আদর্শের প্রতীক চেয়ার মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি তিনি আহক্ষান জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম বলেন, 'দেশের মানুষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। জনমানসে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, সরকারদলীয় কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণার অর্থই হলো- তিনি নিশ্চিত বিজয়ী। এর কারণ নির্বাচন কমিশনের মেরল্ফম্নদ-হীনতা, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সরকারের অনৈতিক প্রভাব বিস্টত্মার। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। আসন্ন সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটারদের স্বতস্টম্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চাই। সংঘাত, সন্ত্রাস, হানাহানি-মারামারি, সংঘর্ষ, গোলাগুলি নির্বাচন চাই না।' নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণের বিপুল সমর্থন পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি। ভোটারদের মন জয়ে নানা প্রতিশ্রল্ফম্নতি তুলে ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন অপর দুই প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৃণমূল এনডিএম'র চেয়ারম্যান খোকন চৌধুরী। তারা দুজনও উৎসবমূখর ভোট উৎসবের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।