নগরীর আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ব্যতীত আবাসিক এলাকায় কাছাকাছি দুটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করায় তা ভেঙে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চসিকের ২৭, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে এসব ক্যাম্প ভেঙে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ শিকদার। এ সময় কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় পরিচয় সংবলিত অবশিষ্ট পোস্টার, ব্যানারগুলো নিজ দায়িত্বে অপসারণ করে তা জব্দ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২ নম্বর সরাইপাড়া, ২৩ নম্বর পাঠানটুলি, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ও সংরক্ষিত ৯ নম্বর মহিলা কাউন্সিলর ওয়ার্ডে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় অভিযানে সরাইপাড়া ওয়ার্ডের হালিশহর রোডের পানিরকল, বউবাজার এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক) পক্ষে মোটর যানবাহনে পোস্টার লাগিয়ে মাইকযোগে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম করছিলেন। মোটর যানবাহনে পোস্টার লাগানোর দায়ে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ৮ (৮) ধারা ভঙ্গ করায় কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী জালালউদ্দিন আকবরকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অনুমোদনবিহীন আকারের পিভিসি ব্যানার দিয়ে আলোকসজ্জা করার সময় একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীদের কাছ থেকে ব্যানার ও আলোকসজ্জার বাতি জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। পাশাপাশি সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারে দলীয় মনোনীত শব্দ যাতে না থাকে সে জন্য সতর্ক করা হয় ও যেগুলো টাঙানো আছে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলমগীরের নেতৃত্বে নগরীর ১৪, ১৫ ও ২১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে (সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড-৫) সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ প্রতিপালনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় পরিচয় সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করা হয়। অবশিষ্ট দলীয় পরিচয় সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুকের নেতৃত্বে চসিক নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায় বেশিরভাগ কাউন্সিলরদের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটে নিজেদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কাউন্সিলরদের জন্য এটি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় তাদের এ ধরনের পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট সরিয়ে ফেলা হয়।

গত ৩ দিন সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে লিফলেট সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে সতর্ক করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার নেতৃত্বে নগরীর ৭, ৮ ও সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী আচরণবিধির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে নির্বাচনী আচরণবিধির সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬-এর ৮ (৮) ভঙ্গ করে ব্যানার ও পোস্টার লাগানোয় একজনকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রার্থীদের টেলিফোনে আচরণবিধি প্রতিপালনে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে নগরীর ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী আচরণবিধি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটেনি, তাই কোনো জরিমানা করা হয়নি।

মন্তব্য করুন