উচ্চ আদালতের আদেশে পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা অবৈধ একটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিতে গত মঙ্গলবার সকালে আনোয়ারা উপজেলার হলদিয়া পাড়ায় যায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল। শাহ্‌ মোহছেন আউলিয়া ব্রিকস নামের এই ইটভাটাটি উচ্ছেদ করতে বুলডোজার, সাঁজোয়া যানও নিয়ে যায় প্রশাসন। এ সময় র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন ওইদিনই ইটভাটাটি উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু হঠাৎ করে সব আয়োজন থেমে গেল। গুঁড়িয়ে না দিয়ে ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে অভিযান শেষ করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আফজারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের কথা, আনোয়ারা উপজেলায় গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা; যেগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এসব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ ও ফসলের মাঠ।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশে তিন ফসলি জমির পাশে ইট তৈরি চলছে। উর্বর জমির পাশে এই ইটভাটার কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ এলাকার ৫ শতাধিক কৃষক। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগও দিয়েছেন। কিন্তু জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যান ইটভাটার মালিক।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, প্রশাসন তো দেখছে ইটভাটাটি যেমন অবৈধ, তেমনি ইট তৈরির প্রক্রিয়াও অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। এভাবে ছাড় দিলে তো অবৈধ ইটভাটার মালিকরা আসকারা পাবেন, তারা আরও বেশি করে পরিবেশ দূষণে উৎসাহী হবেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। ইটভাটাটি নিয়ম মেনে স্থাপন করা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মালিক সামশুল আলম বলেন, 'এসব বিষয়ে আপনি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলুন। আমি কিছু বলতে পারব না।' এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।

অভিযান প্রসঙ্গে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিন বলেন, 'পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় শাহ মোহছেন আউলিয়া ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।'

এর আগেও কয়েকবার একই অপরাধে ইটভাটাটিকে জরিমানা করা হয়েছে; তাছাড়া ইটভাটার পাশে তিন ফসলি জমি রয়েছে। এরপরও উচ্ছেদ না করা প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিন বলেন, 'এবার শেষ সুযোগ। তিন মাসের মধ্যে কাগজপত্র ঠিক না করলে পুনরায় অভিযান চালানো হবে।'

চট্টগ্রাম আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ্‌উদ্দীন লিপু বলেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে কৃষিজমি ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষেধ। অথচ কৃষিজমিতেই করা হয়েছে ইটভাটা। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সাত দিনের সময় দেন। আদালতের আদেশে একই সঙ্গে বৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার ও কৃষিজমি বা পাহাড়ের মাটি কেটে ব্যবহারকারীদের তালিকাও দাখিল করতে বলা হয়েছে। এরপর থেকে চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।

মন্তব্য করুন