সাধারণ ওয়ার্ডের মতো দলের বিদ্রোহীদের মুখে বেকায়দায় পড়েছে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত নারী প্রার্থীরা। ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১২টিতেই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে একক প্রার্থী নিয়ে বেশ নির্ভার আছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। তাদের মাত্র দুটি ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের একেকটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বিপরীতে বিএনপির দুটি ওয়ার্ডে একজন করে মাত্র দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

আ'লীগের একাধিক বিদ্রোহী যেসব ওয়ার্ডে :২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর জোবাইরা নার্গিস খান। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে চারজন। তারা হলেন- অশ্রু চৌধুরী, সিরাজুন নুর বেগম, শামসুন নাহার ও রোকেয়া বেগম। ৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (৯, ১০ ও ১৩ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তছলিমা বেগম (নুরজাহান)। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন তিনজন। তারা হলেন- সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, নাদিরা সুলতানা ও আয়শা আক্তার।

৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১৭, ১৮ ও ১৯ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শাহীন আক্তার রোজী। এই ওয়ার্ডেও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে তিনজন। তারা হলেন- সালেহা বেগম, শামিমা নাসরিন ও শাহিদা বেগম পারভিন। ৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (২২, ৩০ ও ৩১ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নীলু নাগ। এই ওয়ার্ডেও বিদ্রোহী প্রার্থী তিনজন। তারা হলেন- জিন্নাত সুলতানা, আলতাজ বেগম বুবলী, পম্পি দাশ।

১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১, ২ ও ৩ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর সৈয়দা কাশপিয়া নাহরিন। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুইজন। তারা হলেন- সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌস বেগম মুন্নী ও মোবাশ্বেরা বেগম। ৭ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১৬, ২০ ও ৩২ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রুমকি সেনগুপ্ত। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন দুইজন। তারা হলেন- সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম ও চৈতী বসু মল্লিক।

৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১২, ২৩ ও ২৪ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহেদা বেগম পপি। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর ফারহানা জাবেদ ও গুলজার বেগম রুবি। ১০ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১১, ২৫ ও ২৬ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুরে আরা বেগম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন রাধা রানী দেবী ও সুপ্তি তলাপাত্র।

৫ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১৪, ১৫ ও ২১ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আঞ্জুমান আরা। বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন একজন। তিনি হলেন- নবুয়াত আরা সিদ্দিকা। ১৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (৩৩, ৩৪ ও ৩৫ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী লুৎফুন্নেছা দোভাষ বেবী। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নন্দিতা দাশগুপ্তা।

শেষ মুহূর্তে আ'লীগের সমর্থন হারান দুই প্রার্থী

৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ও ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ড মিলে ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড। নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতে এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জোহরা বেগমের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১৮ জানুয়ারি সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসীকে সমর্থন দিয়ে জোহরা বেগমের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। একই দিন ১১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জিন্নাত আরা  বেগমের ওপর থেকেও সমর্থন প্রত্যাহার করে সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর প্রার্থী ফেরদৌসি আকবরকে সমর্থন দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না দু'জনের কেউই। ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন জোহরা বেগম ও নুরতাজ বেগম। ১১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন জিন্নাত আরা বেগম ও বিবি মরিয়ম।

দুই ওয়ার্ডে বিএনপি'র বিদ্রোহী প্রার্থী :৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সখিনা বেগম। এই ওয়ার্ডে বিএনপি'র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন ইসমত আরা জেরিন। ৫ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন রেজিয়া বেগম।

এ প্রসঙ্গে মনোয়ারা বেগম মনি সমকালকে বলেন, 'ওয়ার্ডের ভোটারের সমর্থন নিয়ে তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। এবার তাদের সমর্থন আমার পক্ষে থাকবে বলে আশা করছি। দলীয় সমর্থন পাওয়ায় দলের লোকজনও আমার পক্ষে কাজ করছে।'

দুই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী :১২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (২৭, ৩৭ ও ৩৮ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী আফরোজা জহুর ও ১৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (৩৯, ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ড) আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শাহানুর বেগম।

যেসব ওয়ার্ডে বিএনপি'র একক প্রার্থী :১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রোকসানা বেগম, ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জিন্নাতুন নেছা জিনু, ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মাহমুদা সুলতানা, ৭ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট পারভীন আক্তার চৌধুরী, ৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আরজুন নাহার মান্না, ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে খালেদা বোরহান, ১০ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, ১১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কামরল্ফম্নন নাহার লিজা, ১২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সাহিদা খানম, ১৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মনোয়ারা বেগম ও ১৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জাহিদা হোসাইন।

মন্তব্য করুন