জুরাছড়ি উপজেলার বালিশপাড়ার লক্ষ্মী কুমার চাকমার ছেলে উজ্জ্বল কান্তি চাকমা। জীবনের শুরু থেকেই সীমাহীন দরিদ্রতার সঙ্গে বসবাস তার। কিন্তু মেধাবী ছাত্র উজ্জ্বলের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দারিদ্র্য। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল করার পর এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উজ্জ্বল কান্তি চাকমা। এবার রাঙামাটি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এই আনন্দের দিনে উজ্জ্বল ও তার পরিবার পড়েছে মহাদুশ্চিন্তায়। কারণ উজ্জ্বলের জুমচাষি বাবার পক্ষে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এমনকি ভর্তির ফি দিয়ে উজ্জ্বল মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবেন কিনা, সেটাও অনিশ্চিত।

উজ্জ্বল কান্তি চাকমার বাবা একজন জুমচাষি। নিজস্ব জমি বলতে কিছুই নেই। প্রতি বছর এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে জুম চাষাবাদের কারণে ঘর স্থানান্তর করতে হয়। উজ্জ্বল ছোটবেলা থেকে জুরাছড়ি কুসুমছড়ি লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহারে কাজ করতেন। পাশাপাশি ডেবাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পান উজ্জ্বল। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত সুবলং খাগড়াছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পরিবার থেকে চাপ আসে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে রোজগার করার জন্য। ২০১৪ সালে স্থানীয় সাংবাদিক সুমন্ত চাকমার সহায়তায় বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে স্থাপিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পান উজ্জ্বল। তিনি জেএসসিতে জিপিএ ৫, এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮৯, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেন। উজ্জ্বল কান্তি চাকমা বলেন, 'আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।

মানুষের সেবা করতে চাই। কিন্তু আমার পরিবারের যে আর্থিক অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে আমার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে। বাবা জুম চাষ করে কোনমতে সংসার চালান-সেখানে আমার মেডিকেলে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মনে হচ্ছে মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলেও পড়া হবেনা দরিদ্রতার কারণে।'

উজ্জ্বল কান্তি চাকমার বাবা লক্ষী কুমার চাকমা বলেন, ছেলেটির অদম্য চেষ্টা দেখে কষ্ট করে এতদিন তাকে পড়িয়েছি। এখন মেডিকেলে সুযোগ পেয়ে আমাদের পাহাড়ে আনন্দ এনে দিয়েছি। কিন্তু আমার পক্ষে তার পরড়ালেখার ব্যয় বহন করা একেবারে সম্ভব নয়। তাই বিত্তবান ও হৃদয়বানদের কাছে আমার আবেদন-আমার ছেলের সহায়তায় এগিয়ে আসুন। আপনারা আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ালে আমার মেধাবী ছেলেটা মেডিকেলে পড়তে পারবে, তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।'

মন্তব্য করুন