বছর ঘুরে ফিরে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বৈসাবি। নিয়ম অনুসারে আগামীকাল ১২ এপ্রিল থেকে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল এই উৎসব শুরু হওয়ার কথা। অথচ সবুজ পাহাড়ের কোথাও নেই রঙিন এই আয়োজনের কোনো আমেজ। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে ১০ ভাষাভাষী ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এই প্রাণের উৎসবের সব আনন্দ। করোনার কারণে গত বছরও উদযাপিত হয়নি পাহাড়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসব।

পাহাড়ের ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু, মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই এবং চাকমা সম্প্রদায় বিজু নামে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পালন করে থাকে। এই তিন সম্প্রদায়ের উৎসবের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই সামাজিক উৎসবের সমন্বিত নামকরণ হয়েছে বৈসাবি। অন্য পাহাড়ি সম্প্রদায়ও ভিন্ন ভিন্ন নামে ঐতিহ্যবাহী এই সামাজিক উৎসব পালন করে থাকে। নদীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে শুরু হতো তিন দিনব্যাপী এই সামাজিক উৎসব। অথচ এখন পাহাড়ি কন্যাদের ফুল তোলায় মন নেই, ফুল ভাসানোর আনন্দে ভাসার কোনো আয়োজন নেই।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাঘাইছড়িমুখ চাকমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালক আনন্দ মোহন চাকমা বলেন, 'করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরও পাহাড়ের মানুষ বৈসাবি উৎসব উদযাপন করতে পারেননি। এ বছরও একই অবস্থা। তবে এ বছর সাধারণ মানুষের মাঝে বৈসাবি উৎসব পালনের প্রস্তুতি থাকলেও দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার কারণে সবকিছু থমকে গেছে। তাই বৈসাবি ঘিরে পাড়া-মহল্লায় মানুষের মাঝে কোনো আনন্দ-উদ্দীপনা নেই।'

রাঙামাটির জুড়াছড়ি উপজেলার সংবাদকর্মী সুমন্ত চাকমা বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বেশি আনন্দময় ও উৎসবমুখর সামাজিক উৎসব হলো বৈসাবি। অথচ করোনাভাইরাসের কারণে পরপর দুই বছর ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবটি উদযাপন করতে পারছে না পাহাড়ের মানুষ। কোথাও নেই বৈসাবির কোনো আমেজ। কারও কারও মাঝে ঘরোয়া পরিবেশে এ উৎসব পালনের প্রস্তুতি থাকলেও উপজেলা সদর কিংবা গ্রামাঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিকতা করার সুযোগ নেই।'

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য শতরূপা চাকমা বলেন, 'আগে বৈসাবি ঘিরে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন করা হতো। কিন্তু এ বছর উৎসবের আগে হঠাৎ করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে বৈসাবির সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।'

মন্তব্য করুন