গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে মাত্র ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। অথচ দুই মাসের ব্যবধানে গত এক সপ্তাহ ধরে রোগী শনাক্ত হচ্ছে গড়ে ৪৫০ জন। সে হিসাবে চট্টগ্রামে দুই মাসের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে ১৫০ গুণ। আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ৩ এপ্রিল রেকর্ড ৫১৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে রেকর্ড ২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। ৮ এপ্রিল একদিনেই সর্বোচ্চ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টানা কয়েক মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর চট্টগ্রামে আবার লাফিয়ে বাড়ছে মহামারি করোনার সংক্রমণ। এর মধ্যে মৃত্যু ও রোগী শনাক্তে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। বাড়ছে সংক্রমণের হার; বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও। দুই সপ্তাহ ধরেই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। গত এক বছরে প্রাণঘাতী করোনা চট্টগ্রামে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে শিশুসহ চার শতাধিক মানুষের প্রাণ। আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে পৌঁছেছে ৪৩ হাজারের ঘরে।

আক্রান্তের তালিকায় একে একে যোগ হচ্ছে চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেক সম্মুখযোদ্ধার নাম। এক পরিবারে একাধিক সদস্যও বর্তমানে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। হঠাৎ করেই রোগী শনাক্তের হার কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। জরুরি ভিত্তিতে অনেকের অক্সিজেন ও আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হলেও মিলছে না তা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গতবারের চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এত কিছুর পরও করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়েনি সচেতনতা। এ কারণে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন দিয়েও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির হার ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন। এদিকে করোনা প্রতিরোধক টিকা নেওয়ার পরও চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সিভিল সার্জনসহ আরও কয়েকজন সম্মুখযোদ্ধা। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়ছে সংশ্নিষ্টদের মাঝে।

করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মুখে মাস্ক পরার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। অথচ এখনও মাস্ক পরতেই যত অনীহা মানুষের। জরিমানা ও মুচলেখা নিয়েও সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে পারছে না প্রশাসনও। রেড জোন হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড ও নমুনা পরীক্ষার বুথের সামনেও অনেকেই ঘুরছেন মাস্ক ছাড়াই। মাস্ক না পরতে 'অজুহাতের' শেষ নেই অসচেতন মানুষদের। বিষয়টি উদ্বেগের বলছেন সচেতন মহল। এখনও জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও। করোনাকে পুঁজি করে মানহীন মাস্কে সয়লাব হয়ে গেছে চট্টগ্রামের অলিগলি। মাত্র ২ টাকায় তিনটি মাস্ক মিলছে বন্দর নগরে। সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সভা নিষিদ্ধ করাসহ নেওয়া হয়েছে আরও বেশকিছু কঠোর সিদ্ধান্ত। তবে এত কঠোরতার পরও সংক্রমণের হার ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রামে গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তার ছয় দিন পর ৯ এপ্রিল করোনায় প্রথম রোগী মৃত্যুর দুঃসংবাদটি পান চট্টগ্রামবাসী। প্রথম করোনা রোগী মৃত্যুর পর গত এক বছরে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে একে একে চার শতাধিক মানুষের নাম। গত ৮ এপ্রিল একদিনেই রেকর্ড ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর একদিন আগে মারা যান আরও তিনজন। করোনায় গত ৩১ মার্চ থেকে গত দুই সপ্তাহে শিশুসহ অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ এপ্রিল মারা যান তিনজন। এর আগের দিন চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীসহ মারা যান পাঁচজন। চলতি মাসের প্রথমদিনেই করোনায় মারা যান দু'জন।

গত ৩ এপ্রিল এ যাবতকালের সর্বোচ্চ একদিনে ৫১৮ জনের শরীরে নতুন করে করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। পরেরদিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯৪ জন শনাক্ত হয়। এর আগে ২ এপ্রিল ৪৬৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এটি চট্টগ্রামে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণ। আক্রান্ত মোট রোগীর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে শনাক্তের হার ৮০ শতাংশ এবং উপজেলায় ২০ শতাংশ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে রোগী শনাক্ত হচ্ছে সাড়ে চারশ'র ওপরে। করোনা প্রতিরোধক টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। গত ২৯ মার্চ নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে করোনা পজিটিভ আসে তার। প্রথমে তিনি 'হোম আইসোলেশনে' থাকলেও অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের প্রধান ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে আছেন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। সম্প্রতি আরও বেশ কয়েকজন সম্মুখযোদ্ধা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে করোনা প্রতিরোধক দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের কর্মসূচি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও কয়েকগুণ বেড়েছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিন্তু পর্যাপ্ত শয্যার অভাবে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে পাচ্ছেন না আইসিইউ সেবাও। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের।

সরেজমিন চিত্র :গত বুধবারও সরেজমিন দেখা যায়, করোনার রেডজোনে থাকা চট্টগ্রামের অতি ঝুঁকিপূর্ণ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড ও বুথে বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছেন। বিপজ্জনক এসব এলাকায় একে অপরের ঘা ঘেঁষে বসে দিচ্ছেন আড্ডাও। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসাদের অনেকের মুখেও দেখা যায়নি কোনো মাস্ক। অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের প্রধান ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালেও। কোনো প্রকার মাস্ক ছাড়াই কোলের সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসতে দেখা যায় অনেক অভিভাবককে। আবার কারও মাস্ক লাগানো হয়েছে মুখের নিচে; কেউবা লাগিয়েছেন গলার পেছনে। কেউ কেউ আবার মুখে না পরে হাতে মাস্ক নিয়েই ঘুরছেন ইচ্ছেমতো।

সরেজমিন নগরের ১০ নম্বর রুটের একটি সিটি বাসে দুই ঘণ্টা থেকে দেখা যায়, নগরের বহদ্দারহাট এলাকা থেকে প্রায় ২০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাসটি। জিইসি মোড়ে আসতে না আসতেই বাসের প্রতিটি আসন ভরে যায়। একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন আরও কয়েকজন। বসা ও দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগের মুখেই নেই মাস্ক। একজনকে দেখা যায় মাস্ক ছাড়াই বাসে বসে মুঠোফোনে বলছেন কথা। তার এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা বেকায়দায় পড়তে দেখা যায় পাশের সিটে মুখে মাস্ক দিয়ে বসা এক যাত্রীকে। অভিন্ন চিত্র দেখা যায় নগরের লালদিঘি পাড় থেকে ছাড়া ৬ নম্বর রুটের একটি বাসেও। লকডাউন চলমান থাকার মধ্যেও নগরের দুই নম্বর গেটের বিপ্লব উদ্যান, কাজির দেউড়ির শিশু পার্ক, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, দামপাড়া বাসস্টেশন, শাহ আমানত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের অধিকাংশের মুখে নেই মাস্ক। এ অবস্থায় এক গাড়ি থেকে নেমে ছড়িয়ে পড়ছেন নগরের বিভিন্ন স্থানে। গণপরিবহনের চালক ও হেলপারের অধিকাংশই ব্যবহার করেন না মাস্ক।

মাস্ক না পরতে যত অজুহাত :মুখে মাস্ক নেই কেন- জানতে চাইলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরিফ উদ্দীন বলেন, 'বেশিক্ষণ মাস্ক পরে থাকলে অস্বস্তি লাগে। তাই খুলে রেখেছি।' অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোখলেস আলম বলেন, 'মুখে মাস্ক পরলে মনে হয় শরীরের ওপর কী যেন একটা বহন করছি।' ষাটোর্ধ্ব জিয়া উদ্দিন বলেন, 'একটানা মাস্ক পরলে কান ব্যথা হয়ে যায়। মুখে এক ধরনের খারাপ লাগে।' শিক্ষিকা সেলিনা হক বলেন, 'মাস্ক পরলে ভালোভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারি না।' বাসচালক ইমাম হোসেন বলেন, 'গরমের কারণে বেশিক্ষণ মাস্ক পরতে ইচ্ছা করে না।' সহকারী জয়নাল বলেন, 'সার্বক্ষণ যাত্রী ডাকতে হয়; মাস্ক পরলে যাত্রীরা শুনেন না। চালকও ভালোভাবে শুনেন না আমার কথা। তাই মাস্ক ব্যবহার করি না।' যাত্রী সুজয় চৌধুরী বলেন, 'নিজে মাস্ক পরলেও পাশের সিটে বসা যাত্রীর মুখে নেই মাস্ক। এ অবস্থায় দিচ্ছেন হাঁছিও। মাস্ক না পরে অন্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন অনেকে।' নগরের জিইসি মোড়ে ফেরি করে মাস্ক বিক্রয় করা শিশু লিমন বলেন, 'এক প্যাকেটে থাকা ১০টি মাস্ক মাত্র ৫ টাকায় বিক্রি করছি। এত কম দামেও কিনতে আগ্রহ কম। মান ভাল খারাপ বুঝি না। দুই এক টাকা লাভ পেলেই হলো।' চট্টগ্রামে ওষুধের বৃহৎ মোকাম হাজারী গলির বিক্রেতা সুমন পাটোয়ারি বলেন, 'শুরুর দিকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মাস্ক বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র কয়েক'শ। মাস্ক পরার প্রতি আগ্রহী নয় বেশিরভাগ মানুষ। মানহীন মাস্কের চাহিদা বেশি।'

যা বললেন সংশ্নিষ্টরা :চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, 'চট্টগ্রামে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের হারের রেকর্ডের পাশাপাশি মারাও গেছেন অনেকে। তবে বাড়ছে না সচেতনতা। বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানাছেন না। আগে যেভাবে ভয়ভীতি কাজ করতো এখন তা একেবারেই নেই। সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসন মাস্ক পরার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও এ ব্যাপারে বেশিরভাগ মানুষ এখনো উদাসীন।'

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সবাইকে মাস্ক পরতে নির্দেশনা দিয়েছেন। শুরুম্ন থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বিষয়টির দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিন্তু এসবের কিছুই তোয়াক্কা করছেন না বেশিরভাগ মানুষ। যার যেমন ইচ্ছে তেমন নীতিতেই চলছে তারা। এতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও। সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে মাস্ক পরার বিকল্প নেই। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ায় ভালো। মানুষ নিজ থেকে সচেতন না হলে প্রশাসনের সকল প্রচেষ্টার সুফল আসবে না।'

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়া বলেন, 'করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক পরার বিকল্প নেই। মাস্ক পরলে জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। বিশেশ্ব বেশকিছু দেশ এরইমধ্যেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি ইনভলভমেন্ট খুব জরুরি। করোনা থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। উদাসীনতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।'

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট আবদুর রব মাসুম বলেন, 'গত একসপ্তাহ ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে বেড়েছে বাড়তি রোগীর চাপ। এরইমধ্যে শিশুসহ চার শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ বেশি। মানুষ এখনই সচেতন না হলে সামনে বিপদ আছে। উদাসীনতার খেসারত দিতে হবে সবাইকে।'

ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, 'সরকার ও প্রশাসন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তা মানতে এখনো অনেকেই উদাসীন। নগরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে পিলে চমকানোর মতো দৃশ্য দেখছি। অনেক অভিভাবক ছোট শিশুকে মাস্ক না পরিয়েই ঘুরছেন বিনোদন কেন্দ্রসহ যত্রতত্র। অধিকাংশ মানুষই মুখে মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির। জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েও অনেককে মাস্ক পরতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। বিষয়টি উদ্বেগের।'

চট্টগ্রাম রিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন কাদের লাভলু বলেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে খুবই উদাসীন। মাস্ক না পরা মানুষটি মাস্ক পরা অন্যের জন্য হুমকি।' সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ খান জানান, 'বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপেও একযোগে করোনার দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে ৫০ হাজার ১৩০ ডোজ টিকা মজুত আছে। এরমধ্যে শুক্রবার আরও ৩ লাখ ৬ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও'র তত্ত্বাবধানে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রেজিস্ট্রেশনের হিসাব মতে চাহিদা অনুযায়ী ইপিআই স্টোর থেকে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই শাখায় প্রাপ্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন খুব সাবধানতার সাথে ওয়াক-ইন-কুলারে (ডব্লিউআইসি) সংরক্ষণ করা রয়েছে। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৫ জন প্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন।


ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বললেন
জরিমানা করেও মাস্ক পরানো
যাচ্ছে না মানুষকে


জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, 'সরেজমিন বেশকিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাস্ক না পরার অপরাধে এক হাজারের বেশি মানুষকে জরিমানা করা হয়েছে; নেওয়া হয়েছে মুচলেখাও। এত কিছুর পরও সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। অনেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখান; যার কোনো যথার্থতা নেই। করোনাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের মাস্ক তৈরি ও ব্যবসায় নেমেছেন। একাধিক অভিযানে নিম্নমানের মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগের।'

মন্তব্য করুন