মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। হাসপাতালের ৫০ শয্যায় বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন মাত্র দু'জন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি শয্যাও খালি পড়ে আছে। করোনার প্রকোপ বাড়া ও লকডাউনের কারণে হাসপাতালে রোগী কমে গেছে বলে সংশ্নিষ্টরা ধারণা করছেন।

হাসপাতালের বহির্বিভাগের নেই তেমন রোগী। বৃহস্পতিবার সকালে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে এ চিত্র।

সরেজমিন দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে পুরুষ ওয়ার্ডের ১৬টি শয্যা ও পুরোনো ভবনে মহিলা ওয়ার্ডের ১৪টি শয্যার সবগুলো খালি পড়ে রয়েছে। পুরোনো ভবনে শিশু ওয়ার্ডের ১০টি শয্যার মধ্যে ভর্তি রয়েছেন তিন বছরের মাহিম বাদশা নামে এক শিশু। ওই শিশুর মা কামরুনাহার জানান, বুধবার রাতে ডায়রিয়া ও বমি হওয়ার কারণে সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের বাড়ি ধুম ইউনিয়নের নাহেরপুর এলাকায়। আরেক রোগী রিয়াদ হাসান (২১) গত ১০ দিন আগে টাইফয়েড ও জন্ডিস নিয়ে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। তার মা রেহানা আক্তার জানান, পুরুষ ওয়ার্ডে কোনো রোগী না থাকায় সেখান থেকে বুধবার রাতে শিশু ওয়ার্ডে চলে এসেছেন। পুরোনো ভবনে ডেলিভারি ওয়ার্ডেও নেই কোনো রোগী।

এদিকে, প্রতিদিনেই মিরসরাইয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ জন মেডিকেল অফিসার, একজন কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের উপজেলা নির্বাহীসহ ৫ কর্মকর্তার করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা পরীক্ষার শুরু থেকে গত বুধবার পর্যন্ত মিরসরাইয়ে ৩৮৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩২৬ জন। গত ১০ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১১ জনের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স নরুল আফছার জানান, স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু গত কয়েকদিন রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। তিনি জানান, গত ১০ এপ্রিল রোগী ভর্তি ছিলেন ১১ জন, ১১ এপ্রিল ভর্তি ছিলেন ১৯ জন, ১২ এপ্রিল ভর্তি ছিলেন ১৪ জন, ১৩ এপ্রিল ভর্তি ছিলেন ১৩ জন, ১৪ এপ্রিল ভর্তি ছিলেন ৯ জন ও ১৫ এপ্রিল ভর্তি আছেন ৪ জন। ওই ৪ জনের মধ্যে দু'জন প্রসূতি রোগী রয়েছেন। ভর্তি দেখানো ওই রোগীদের মধ্যে ১৬ জন প্রসূতি রোগী ছিলেন।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য টিকিট প্রদানকারী সুভাষ নাথ জানান, হাসপাতালে জরুরি প্রয়োজন না হলে রোগী আসছে না। যেখানে প্রতিদিন শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে সেখানে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত মাত্র ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'করোনার প্রভাব ও লকডাউনের কারণে সড়কে যানবাহন না থাকায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমেছে। যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন তারা বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন।'

মন্তব্য করুন