সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনে রাঙ্গুনিয়ার মানুষ অনেকটা ঘরে বসেই দিন কাটাচ্ছেন। তবে কিছু কিছু মানুষ ঠিকই পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সচেতন নন। তবে যেসব মানুষ দিন এন দিনে খায় তাদের জন্য লকডাউন নিয়ে এসেছে অবর্ণনীয় কষ্ট। দিনমজুর, রিকশাচালক, বাসচালক, হোটেল শ্রমিক ও জেলেদের জীবনে নেমে এসেছে অভাব। এসব প্রান্তিক মানুষের সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ দরকার।

লকডাউন কার্যকরে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছে প্রশাসন। মানুষকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তারা সচেতন করছেন। প্রশাসন মানুষকে জরিমানার চেয়ে সচেতন করার দিকে বেশি মনোযোগী।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হয়ে উপজলায় এখনও কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। তবে গত বছরে প্রায় ২০ জন মারা যান। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল উপজেলায় করেনায় ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালের করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন ফাহিম।

সরেজমিন দেখা যায়, রাঙ্গুনিয়ায় লকডাউনের তৃতীয় দিনেও যানবাহনশূন্য ছিল সড়ক। স্বল্পসংখ্যক দোকান খোলা থাকলেও প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রথমদিন কঠোর লকডাউন পালিত হলেও দ্বিতীয় দিন ছিল অনেকটা ঢিলেঢালা। ১৬ এপ্রিল কাপ্তাই সড়ক যানবাহনশূন্য থাকলেও রাজত্ব ছিল অটোরিকশার। তবে একেবারে ভিন্ন চিত্র ছিল উপজেলার গ্রামগঞ্জের পরিস্থিতি। এসব জায়গায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলে অবাধে। খোলা ছিল বিভিন্ন দোকানপাট। সড়কজুড়ে সাধারণ মানুষকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতেও দেখা গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশি তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচু বাগান, দোভাষী বাজার, মরিয়াম নগর চৌমহনী, রোয়াজার হাট, শান্তির হাট, ধামাইরহাট, রানীর হাট, মোগলের হাটের বড় বড় মার্কেট ও বাজার একেবারে বন্ধ ছিল। হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। রাঙ্গুনিয়া থানার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মিল্ক্কী বলেন, রাস্তায় বের হওয়া গাড়িগুলো পুলিশ তল্লাশি করছে। বিনা প্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে কেউ বের হলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ মাস্ক না পরলে পরার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান বলেন, 'লকডাউন কার্যকরে মাঠে ছিল উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অভিযানকালে জরিমানা আদায়ের চেয়ে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে বেশি।'

মন্তব্য করুন