লকডাউনের মধ্যেই রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দোকান খোলা ও বন্ধ রাখার নিয়ম মানা হচ্ছে না। এতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। অনেক দোকানে একসঙ্গে ১০-২০ জন ঢুকে পড়েন। উপজেলার কমপক্ষে ২০টি বিপণিবিতান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কেটে দোকানের সামনের জায়গা ছোট হওয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা একে অপরের কাছাকাছি চলে আসছেন। প্রায় দোকানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ভিড় করে কেনাকাটা করছেন। চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারের ফুটপাতের দোকানে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। নিম্ন আয়ের মানুষ জটলা করে কেনাকাটা করছেন।

চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারের শাড়ি দোকানের ব্যবসায়ী মো. সেকান্দর হোসেন বলেন, 'দোকানে বিক্রি বাড়ছে। মানুষজনের উপস্থিতিও বাড়ছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার চেষ্টা করছি। মেয়েরা শাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, অনেকে সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে যান।'

দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বার বলেন, 'দীর্ঘদিন পর মহিলারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে মহাখুশি। মহা আনন্দে উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কেনাকাটা করছেন তারা। করোনা সুরক্ষার কথা ভুলে গিয়ে এক অপরের শরীর ঘেঁষে কেনাকাটায় মগ্ন। দেখে মনে হয়, ঈদ উৎসবের আনন্দে ভুলে গেছেন করোনার কথা। আমরা ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে বেচাকেনার নির্দেশ দিয়েছি। যেসব দোকান স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের ব্যাপারে কঠোর হতে বাধ্য হবো।'

লিচুবাগান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হারুন সওদাগর বলেন, 'করোনা সরকারের একার নয়, এটা সবার সমস্যা। তাই আমি সব সচেতন ক্রেতাদের অনুরোধ করব তারা যেন নিজেরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম মেনে কেনাকাটা করেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদেরও বলে দিয়েছি তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন।'

উপজেলার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার, লিচুবাগান, রোয়াজার হাটের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম দিনদিন বাড়ছে। বিপণি কেন্দ্রগুলো ক্রেতা টানতে নানা পণ্যে সেজেছে। শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, জুতা কিনতে দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর রোয়াজার হাট, রানীর হাট, ধামাইর হাট, শান্তির হাট, দোভাষী বাজার, লিচু বাগান, সরফভাটার ক্ষেত্র বাজারসহ বেশিরভাগ বিপণি কেন্দ্রে ঈদবাজার জমে উঠেছে। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না।

চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারের মোস্তফা মার্কেট, হাজী আলম মার্কেট, ভাই ভাই মার্কেট, চন্দ্র মার্কেট, মসজিদ মার্কেট লিচু বাগানের আল ইমরাত কমপ্লেক্স, আলহাজ আলম কমপ্লেক্স, তালুকদার মার্কেট, আলিম মার্কেট ও রোয়াজার হাটের রুবেল সুপার মার্কেট, মদিনা মার্কেট, ডিআর আয়েশা কমপ্লেক্স, ফরিদা শপিং কমপ্লেক্সও তালুকদার মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

শৈল্পিকের পরিচালক মো. আবছার বলেন, 'আমরা সামাজিক দূরত্বে কথা ক্রেতাদের বললেও তারা আমাদের পাত্তাই দেন না। এক দোকানে ১০-১৫ জন ঢুকে পড়েন। তবু আমরা সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলার চেষ্টা করে আসছি।'

চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার প্রবীর খিয়াং বলেন, 'এভাবে অসচেতনভাবে কেনাকাটা করলে করোনা ছড়াবে মারাত্মকভাবে। দোকানি ও ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে।'

লিচু বাগান আল ইমারত কমপ্লেক্সের মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, লকডাউন উঠে যাওয়ায় মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ে থাকলেও বেচাকেনা কম হচ্ছে। ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। মাস্ক মুখে না দিয়ে কেনাকাটা করছেন।

চন্দ্রঘোনা এলাকার গৃহবধূ সোহেলি আক্তার দোভাষী বাজারে কেনাকাটা করার সময় বলেন, 'আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মুখে মাস্ক পরে কেনাকাটা করছি। যে দোকানে ক্রেতা কম সে দোকানেই যাচ্ছি।'

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব মিল্ক্কি বলেন, 'রাঙ্গুনিয়ার সব বিপণিবিতানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে কেনাকাটা চলে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।'

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, 'ঈদের কেনাকাটায় সরকার ঘোষিত নিয়ম মানতেই হবে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি।'

মন্তব্য করুন