রাঙ্গুনিয়ায় গম চাষে ভালো ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে সাধারণ কৃষকের মাঝে। হেক্টরপ্রতি ৩২ হাজার টাকা খরচ করে ৭৫ হাজার টাকার গম উৎপাদিত হয়েছে। এতে হেক্টর প্রতি চাষিদের ৪৩ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রথমবার গম চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করে খরচের দ্বিগুণ লাভ উঠে এসেছে। এতে গম চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে বাণিজ্যিকভাবে গম চাষের কথা ভাবছেন সাধারণ কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের মতো ৬০ জন কৃষককে প্রণোদনার মাধ্যমে গম আবাদ করানো হয়। উপজেলায় ৮ হেক্টর জমিতে এবার গম আবাদ হয়। প্রতিজন কৃষককে ২০ কেজি হারে গম বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়। নভেম্বর মাসের দিকে বপন করা গম ক্ষেতে ৮০-৯০ দিনের মধ্যে ফলন এসেছে। এতে হেক্টর প্রতি ২ দশমিক ১০ মেট্রিক টন গমের ফলন হয়েছে। উপজেলায় এবার ১৬ দশমিক ৮ মেট্রিক টন গম উৎপাদিত হয়েছে এবার।

সরেজমিন কথা হয়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক হাজী আব্দুস ছত্তার, পদুয়ার কৃষক আবদুর রহিম, দক্ষিণ রাজানগরের মো. জসিম, পারুয়ার জালাল আহমদ, অনাথ দাশ, হোছনাবাদের কৃষক মাহাবুব আলম, নিতাই পদ শীলের সঙ্গে। তারা জানান, গত বছর বোরো মৌসুমে পাঁচ হেক্টর জমির ধান বিক্রি করে যে দাম পেয়েছিলেন, এবার দুই হেক্টর জমিতে গম আবাদ করে তার চেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন। ধানের দামের চেয়ে গমের দাম ও চাহিদা বেশি। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে গম আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, ধানের তুলনায় গম চাষে সময় কম লাগে, লাভ বেশি পাওয়া যায়। সাধারণত শীতকালে রবি মৌসুমে গম চাষাবাদ করা হয়। গম চাষে সময়মতো দুটি সেচ দিতে পারলে উৎপাদন আরও বাড়বে। লাভও বেশি হবে। প্রথমবারেই কম সময়ে ও অল্প পরিশ্রমে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। পরের মৌসুমে আরও ব্যাপক আকারে গম চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষকদের। গম চাষে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন