করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার নির্দেশিত লকডাউনের কারণে সীতাকুণ্ডের বিপণি কেন্দ্রে সকালের দিকে ক্রেতাদের ভিড় না থাকলেও দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে। তবে বেচাবিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তেমন সচেতন নন। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাস্ক না পরলে জরিমানা করছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সুপার মার্কেটে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মো. শামীম আফজাল। তিনি বলেন, 'আজ পরিবারের সবার জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি। কিন্তু লকডাউনের কারণে মার্কেটগুলোতে নতুন কোনো পোশাক দেখতে পারছি না।' তিনি বলেন, 'মনে হচ্ছে লকডাউনের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।

তাই এখনই ঈদের কেনাকাটা করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত বছরের ঈদে মার্কেট বন্ধ থাকায় কেনাকাটা করা হয়নি। বাচ্চাদের কথা ভেবে একটু আগেই কেনাকাটা করে নিচ্ছি।' সীতাকুণ্ড বাজারে সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা আইরিন আক্তার বলেন, 'আমরা সব বোনেরা মিলে একসঙ্গে ঈদের বাজার করার কথা ছিল। ছেলেমেয়েকে নিয়ে কোনোমতে আসতে পারলেও লকডাউনে গাড়ি না চলায় বোনরা আসতে পারেনি।'

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর পৌর সদরের সমবায় মার্কেটে দেখা যায়, 'মার্কেট খোলা রাখার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও সেখানে অসংখ্য মানুষের ভিড়। অনেক ক্রেতা ভেতরে থাকতেই মার্কেট বন্ধের তোড়জোড় শুরু করেছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ।' ওই মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, বেচাকেনা আশানুরূপ হচ্ছে। ক্রেতাদের ভিড় আছে ভালোই। তবে লকডাউন আরও বাড়লে ক্ষতির শিকার হবেন তারা।

যোগাযোগ করা হলে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী আলহাজ বেলাল হোসেন বলেন, 'লকডাউনের সময় মার্কেট খোলা থাকলেও বেচাকেনা খুবই কম। মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে টাকা নেই।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা সব ক্রেতা ও বিক্রেতাসহ মার্কেটে আসা লোকদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছি। কিন্তু তারপরও অনেকে মাস্ক ব্যবহার করতে চান না।'

ভাটিয়ারী খাজা ট্রেডার্সের মালিক আলহাজ মো. কামাল উদ্দিন বলেন, 'যে সময়টা ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন এতে বড় মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে। আর গণপরিবহন বন্ধের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ মার্কেটে আসতে পারছেন না।'

স্থানীয়রা ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, 'সারাবছর দোকানিরা ঈদের আগে এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। পুরো বছরের তুলনায় বেশি বেচা-বিক্রি হয় রমজান মাসে। গত শুক্রবার ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু রোববার থেকে ঈদ বাজারে মন্দাভাব, ক্রেতা নেই বললে চলে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীদের সময় কেটেছে শুধু হতাশায়।'

গত বুধবার সকালে সীতাকুণ্ড সদরের বিভিন্ন শপিংমল, দোকান ঘুরে দেখা যায়, সবাই ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। কিছু কিছু দোকানে দেখা মেলে হাতেগোনা কয়েকজন ক্রেতা। তবে বিক্রি নেই তেমন একটা।

তবে শুক্রবারের চিত্র ভিন্ন। এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ঈদের কেনাকাটার জন্য ভিড় করেন সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন বিপণিবিতানে। সীতাকুণ্ড সদরে অবস্থিত কয়েকজন দোকান মালিক জানাস, শুক্রবার বিক্রি ছিল ভালো। তারা আরও বলেন, 'এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ব।

কারণ দোকানে অনেকগুলো কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বেতন বোনাস দিতে হবে। তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে লাখ লাখ টাকার কাপড় কিনে দোকান সাজানো হয়েছে। সবকিছু মিলে আমরা খুবই হতাশ। প্রতিবছর ঈদের বাজারে লাভের আশায় বসে থাকি, কিন্তু এবার করোনার মহমারির কারণে লকডাউন সবকিছু শেষ করে দিচ্ছে।'

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, 'স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে বাধ্য করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।'

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ''করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার নির্দেশিত 'কঠোর নিষেধাজ্ঞা' সামনে রেখে সীতাকুণ্ডে মার্কেট ও শপিংমলগুলোর মালিকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার থানায় বৈঠক হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাবিক্রি করা ও নির্দিষ্ট সময়ে দোকান বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে।"

মন্তব্য করুন