বিশ্বজুড়ে ভারসাম্য হারানো প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার জানিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ বছর পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ উপলক্ষে পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে গ্রিনফিনিটি এনার্জির সহযোগিতায় দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজন করে উবোমাস সোলার দৃষ্টি পরিবেশ দিবস বারোয়ারি বির্তক প্রতিযোগিতা।

সারাদেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ৯২ জন শিক্ষার্থী, দুটি দলে ভাগ হয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে 'ক' দলে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নূর-ই মোবাশ্বেরা প্রথম এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইনকিয়াদ বিন হোসাইন দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। 'খ' বিভাগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পৃথা পারমিতা দেবী প্রথম ও বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ইনজামামুল হক অয়ন দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।

গত ১ জুন শুরু এই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ৭ জুন নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

দৃষ্টির সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, উদ্যোক্তা ও সংগঠক গোলাম বাকী মাসুদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়া, তরুণ উদ্যোক্তা সৈয়দ জালাল আহমেদ রুম্মান, আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, উপসম্পাদক অভিষেক পাল, সাখাওয়াৎ হোসেন মজুমদার ও সহসমন্বয়কারী হোসাইন সামী।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, 'পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আমরা নিজেদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। কর্ণফুলীর পানি ধারণক্ষমতা অনেক কমে গেছে, হালদায় লবণ পানি ঢুকে পড়েছে যার প্রভাব জনজীবনে প্রত্যক্ষ। আগে অনেক পাহাড়-পর্বত ছিল, আমরা গাছ কেটে সব উজাড় করছি। তাই পরিবেশ প্রতিশোধ নিচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কর্ণফুলীর তলদেশে হাজার হাজার টন পলিথিন জমে এর নাব্য কমে যাচ্ছে। কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে।'

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়া বলেন, 'পরিবেশ খুবই বিপন্ন আজ, এটার জন্য আমরা নিজেরাই শতগুণে দায়ী। বিদেশে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে ওখানকার স্কুল-কলেজে শেখানো হয় কীভাবে পরিবেশের পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এই বিষয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। তাই বিষয়টি ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতে হবে। পরিবেশ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো একান্ত জরুরি।'

সংগঠক ও শিল্প উদ্যোক্তা গোলাম বাকী মাসুদ বলেন, 'খুব বেশি দেরি হওয়ার আগে আমাদের জেগে উঠতে হবে, সামনের দিনের জলবায়ু কেমন হবে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিতর্ক পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাদুর কাঠি হবে। আমরা স্বপ্ন দেখা মানুষেরা, আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই।' তিনি বলেন, 'সোলার প্যানেল আমাদের আগামীর সম্ভাবনাময় শক্তির উৎস। আমাদের নিত্যনতুন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রিয় চট্টগ্রামকে গ্রিন সিটি হিসেবে উঠবে।'

তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা রুম্মন আহমেদ বলেন, 'পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে আগের সৌন্দর্যে, আগের রূপে নিয়ে আসতে হলে সবচেয়ে যেটি বেশি প্রয়োজন তা হলো সচেতনতা বৃদ্ধি।'

সভাপতির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল বলেন, 'অনলাইন গেমিং ও অসুস্থ বিনোদন থেকে তরুণদের বের করে আনার জন্য প্রতিনিয়ত ভিন্নধর্মী আয়োজন করে আসছে দৃষ্টি চট্টগ্রাম। এই বিপর্যস্ত সময়েও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই হলো সব আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।'