নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতে মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুর অংশে ধরা পড়ছে না ইলিশ। ফলে স্থানীয় বাজারে ইলিশের সংকট চলছে, দাম হয়ে গেছে আকাশছোঁয়া।

রামগতি মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী মিনাজ মাঝি জানান, গত বছর এ সময়ে ঘাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন ইলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেত। কিন্তু এ বছর মাছই নেই।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৪৭২ জন জেলে নিবন্ধনের আওতায় রয়েছেন, যারা প্রতিদিন মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত বছর লক্ষ্মীপুরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। এবার উৎপাদন ২৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা।

জেলার সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাটসহ মেঘনার রামগতি উপজেলার গজারিয়া, বয়ারচর, চর আব্দুল্লাহ্‌, তেলিরচর, আলেকজান্ডার, রায়পুর উপজেলার জালিয়ার চর, পানিরঘাট নদী এলাকা ঘুরে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের সিংহভাগ জেলে মেঘনা নদীর মাছের উপর নির্ভরশীল। মেঘনা নদী ঘিরেই চলে তাদের জীবন ও জীবিকা। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসে জেলেরা ইলিশ আহরণ করে থাকেন। কিন্তু খরতাপ আর অনাবৃষ্টিতে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দিন-রাত জাল ফেলেও জেলেরা ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না।

জেলেরা জানান, চেয়ারম্যানরা প্রতি জেলের কাছ থেকে ভিজিএফের কার্ড দেওয়ার কথা বলে হাজার টাকা করে আদায় করছেন। কিন্তু তাদের চাল না দি ফিরোজ মাঝি জানান, গত মঙ্গলবার মধ্য রাতে ১২ জন জেলে নিয়ে নদীতে জাল ফেলে বুধবার ভোরে তুলেছেন। এ সময় মাত্র ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের চার হালি ইলিশ ধরা পড়েছে। আড়তে নিয়ে সেগুলো বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ৩০০ টাকা। অথচ জেলেদের খাবার, নৌকার জ্বালানিসহ তাকে খরচ করতে হয়েছে ৫ হাজার টাকা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় নদীতে মাছ কম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি সাহায্য বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : মেঘনায় মিলছে না ইলিশ মেঘনা মিলছে না ইলিশ

মন্তব্য করুন