'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং জরুরি। এ ব্যাপারে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া দরকার।' চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

৮ জুন সকালে অনুষ্ঠিত চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আলমগীর কবির, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ কমিটি ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিম উদ্দিন। এ সময় চেম্বার পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরও অংশগ্রহণ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রস্তাবিত বাজেটকে দূরদর্শী এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি করপোরেট কর হার হ্রাস করা, বিভিন্ন সেক্টরে কর অব্যাহতি ও কর অবকাশ প্রদান সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সহায়ক নির্দেশনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চেম্বার সভাপতি এফবিসিসিআইসহ অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের নেতাদের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প যেমন বে-টার্মিনাল, জলাবদ্ধতা নিরসন ইত্যাদি বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার ও বরাদ্দ বৃদ্ধিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বেশি না হলেও সরকারি ব্যয়ের কারণে জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘোষিত বাজেটে করপোরেট কর হ্রাস এবং অনেক খাতে দেশীয় শিল্পের জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত প্যাকেজে বৃহৎ শিল্প মালিকরা উপকৃত হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের কারণে এসএমই খাত সেভাবে উপকৃত হয়নি। বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বৃদ্ধি না করে পরিধি বৃদ্ধি করে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, পলিসি ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করা এবং বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় কর হার আরও যৌক্তিক করার অনুরোধ জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, এ বাজেট দেশীয় শিল্পবান্ধব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ তেমন বৃদ্ধি পায়নি। সরকার যদিও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রচুর কাজ করছে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে তবে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আইনগত ও নীতিগত দিকে আরও অনেক উন্নয়ন এবং সমন্বয় অপরিহার্য। যেমন বেজার অধীনে প্রথমে উল্লেখ না করে পরবর্তীতে ভূমি হস্তান্তরের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ অযৌক্তিক।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তৈরি পোশাক খাতে ১ শতাংশ প্রণোদনা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। দক্ষ জনবলের অভাব পূরণে এ খাতে প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নীতিমালাগুলো ৫-১০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হলে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। নন-কটন পণ্য তৈরিতে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা গ্রহণে দ্বি-স্তরভিত্তিক অর্থাৎ ফেব্রিক্সসহ মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি করতে হবে। প্রদেয় প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেন বিজিএমইএ সভাপতি।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো. আলমগীর কবির বলেন, দেশে ৩৭টি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এ খাত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রাজস্ব আয় ও জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি অগ্রিম করকে চূড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনা না করা, ক্লিংকার আমদানিতে শুল্ক্ক হ্রাস এবং ডাবল ট্যাক্সেশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, করোনা মহামারির কারণে দেশের পুঁজিবাজার বিপর্যস্ত। প্রথম দিকে প্রায় ৬০ দিন পুঁজিবাজার বন্ধ ছিল। বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউসের পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। করপোরেট কর হ্রাস করা হলেও দুই ধরনের কোম্পানির কর পার্থক্য আরও যৌক্তিক হলে শেয়ার বাজারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিম উদ্দিন বলেন, বড় বাজেটে বড় ঘাটতি থাকবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি উৎস থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। কর অব্যাহতির কারণে রাজস্ব আহরণ কমে গেলে এবং সরকারের ব্যয় বেশি হলে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর চাপ পড়তে পারে।

তিনি নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই সেক্টরের উৎপাদনভিত্তিক উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং সেবা ও ট্রেডভিত্তিক উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখার অনুরোধ জানান।

বিষয় : বাজেট চিটাগাং চেম্বার অনলাইন সেমিনার

মন্তব্য করুন