পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ফৌজদারহাট-বায়েজিদ সংযোগ সড়ক গত বুধবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে এ নিয়ে নগর বিশেষজ্ঞরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের কথা হলো, ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণে ১৫টি পাহাড় কাটা হয়েছিল। তখনই পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু সিডিএ কোনো আপত্তি কানে নেয়নি। এখন সিডিএ নিজেই পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে; তাহলে এতগুলো পাহাড় কেটে এমন ঝুঁকিপূর্ণ একটি সড়ক কেন নির্মাণ করা হয়েছিল? কেন ৩৩২ কোটি টাকা খরচ করে 'আপদ' ডেকে আনা হলো?

সংশ্নিষ্টরা জানান, সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৫টি পাহাড় কেটে। বেশিরভাগ পাহাড়ই খাড়াভাবে (৯০ ডিগ্রি কোণে) কাটা হয়েছে। ফলে ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সড়কটি বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে।

ফৌজদারহাট পুলিশ ও সড়ক নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স জানিয়েছে, সড়কটির দুই পাশে সড়ক বন্ধের সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ অংশের এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি এলাকায় ৫ নম্বর সেতুর পাশে ও সীতাকুণ্ড অংশের বেঙ্গল ব্রিকস এলাকায় তিন সারি ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

ফৌজদারহাট পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষার পাহাড়ধসের আশঙ্কা থেকে সিডিএ ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তারা দুই লেনের মধ্যে এক লেন বন্ধ করেছে। বৃষ্টি না কমায় বুধবার চার লেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রবিউল হক বলেন, 'বর্ষায় ভারি বর্ষণে খাড়া উঁচু পাহাড়গুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ থাকবে। এই প্রকৌশলী আরও বলেন, প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির দৈর্ঘ্য ছয় কিলোমিটার। সড়কটির চার লেনের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। প্রাথমিক নির্মাণকাজ শেষে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রথমদিকে দুই লেন খুলে দেওয়া হয়। গাড়ি চলাচল বেড়ে যাওয়ায় চার লেন সড়কটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়। গ্রীষ্ফ্মে কালবৈশাখী শুরু হওয়ার পর দুই লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।'

সিডিএ'র প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস্‌ বলেন, ফৌজদারহাট-বায়েজিদ সংযোগ সড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। নগরের যানজট নিরসনে বৃহত্তর স্বার্থে সড়কটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সড়কে থাকা ৩-৪টি পাহাড় অতিবর্ষণে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সিডিএ'র বিশেষজ্ঞ দল পাহাড়গুলোকে নিরাপদ করার জন্য আরও কিছু কাটার পরামর্শ দিয়েছে। কী পরিমাণ কাটতে হবে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানাবেন। এ ছাড়া কিছু পাহাড়ের পাশে নিরাপত্তা দেয়াল দিতে হবে। ফলে অসম্পন্ন কাজগুলো করার জন্য সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের পরে সড়কটি যানচলাচলের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় সড়কটির পাশে থাকা সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে ৩০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়। ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় তাদের সরিয়ে আনে উপজেলা প্রশাসন।