চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) সংসদীয় এলাকাভুক্ত উত্তর সাতকানিয়ার মানুষের চলাচলের জন্য কালিয়াইশ-ধর্মপুর সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কাটগড় বিওসি মোড় থেকে পূর্ব দিকে কালিয়াইশ ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে ধর্মপুর ইউনিয়ন হয়ে বাজালিয়া দস্তিদারহাট বান্দরবান সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এই সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশাসহ সড়কে শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে।\হকিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। ৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাঙাচোরা সড়কে রিকশায় করে একবার যাতায়াত করলেই যাত্রীদের অবস্থা হয় পিটিয়ে পাকানো কাঁঠালের মতো। অনেককে খেতে হয় ব্যথানাশক ওষুধ। বর্ষাকালে সড়কের নানা অংশে পানি জমে থাকায় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কাটগড় বিওসি মোড় থেকে ধর্মপুর ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত পুরো সড়কটি এমনভাবে ভেঙে গেছে যে, কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বও বোঝা যায় না। সড়কের একপাশ দখল করে রাখায় বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় সড়কের ওপর দিয়েই। হাঁটু পানি জমে পুরো সড়কজুড়ে। তখন মনে হয় এটি সড়ক নয়, যেন ছোট নদী দিয়ে জলধারা প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে বড় গর্ত হয়ে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন। এতে রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন।\হসরেজমিন দেখা যায়, বৃষ্টির পানি তো আছেই, অনেকে নিত্যব্যবহারের ময়লা পানিও ছেড়ে দেন সড়কে। এতে কাদা ও ময়লা পানি মাড়িয়েই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ূয়া শিক্ষার্থী, মুসল্লিসহ হাজার হাজার মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ ছাড়া কাটগড় বিওসি মোড় থেকে দস্তিদারহাট অংশে সড়কটির অনেক স্থানে সড়কপাশ দখল হয়ে গেছে।\হস্থানীয়দের অভিযোগ, পথচারী ও যাত্রীদের নিত্যদিনের এ যন্ত্রণা দেখেও চুপ রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ দায়িত্বশীলরা। উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি সড়ক সংস্কার করা হলেও কী কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালিয়াইশ-ধর্মপুর সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না সাধারণ মানুষের কাছে তা বোধগম্য নয়। গত বছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সড়কটি পুরোপরি ভেঙে যাওয়ার পরও সংস্কার করা হয়নি। অনেকে অভিযোগ করেন, বর্তমানে সড়কটি কালিয়াইশবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দৃই পাশে বসবাসকারীরা সড়ক দখল করেছেন, অনেক স্থানে সড়ক ভরাট করে দখলে নিয়েছেন। ফলে বৃষ্টি হলেই সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পানি।\হসাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, গত বছর বন্যায় সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বস্তা দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। সতখন সড়কটির ব্যাপক সংস্কারের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও তা পাস হয়নি। চলতি বছর সড়কটি মেরামতের জন্য বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প-৩ থেকে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সড়কটির বিওসি মোড় থেকে প্রথম ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হবে। জুলাই-আগস্টের মধ্যে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।'

মন্তব্য করুন