লকডাউনের বিধিনিষেধ মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করার জন্য রাঙ্গুনিয়ায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চৌকি বসিয়েছেন। ফলে মূল সড়কে বের হলেই মানুষকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। এ কারণে মূল সড়কে মানুষের আনাগোনা হাতেগোনা হলেও গ্রামে চলছে অহেতুক আড্ডা ও ঘোরাঘুরি।

সম্প্রতি বেশ কয়েকবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব চৌধুরী। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিনি ৭টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। এ সময় র‌্যাব-৭-এর একটি দল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। এভাবে গত কয়েকদিনে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রতিদিনই সড়কে পুলিশের বিশেষ টহল দল, উপজেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং সর্বশেষ র‌্যাবের টহল দলও রাঙ্গুনিয়ায় লকডাউন কার্যকরে কাজ করছে। তবে মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় কঠোর লকডাউন পালিত হলেও গ্রামেগঞ্জে, পাড়ায়-মহল্লায় লকডাউন মানার ব্যাপারে মানুষ অনেকটাই উদাসীন।\হজানা যায়, উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান দোভাষী বাজার, ফেরিঘাট, খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল এলাকা, খিয়াংপাড়া, বনগ্রাম কুষ্ঠু হাসপাতাল গেট, চন্দ্রঘোনা পাটানপাড়ার ভেতরে তিন পথের মাথা, বুজ্জার দোকান, চন্দ্রঘোনা হেলথকেয়ার হসপিটালের সামনে দিনরাত দোকানপাট খোলা রেখে চলছে বিকিকিনি। অনেক মানুষের সমাগমে লকডাউনের কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।\হগত সোমবার বিকেলের দিকে উপজেলার কোদালা চা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে সাধারণ মানুষ আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেককে পরিবার নিয়েও ঘুরতে দেখা গেছে।

স্থানীয় আবদুর রহিম বলেন, 'মফস্বলেও করোনা ভয়ংকর এখন। অথচ এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা নেই। বাজারে অহেতুক আড্ডা আর ঘোরাঘুরি করছে মানুষ। এতে দিনদিন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। শুধু প্রশাসনের তৎপরতা দিয়ে তো করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়, এ জন্য সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, লকডাউন কার্যকরে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমনকি জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকেও নিজে থেকেই সচেতন হতে হবে। নয়তো কেবল প্রশাসনের পক্ষে লকডাউন কার্যকর সম্ভব নয়। (ছবি চতুর্থ পৃষ্ঠায়)

মন্তব্য করুন