সীতাকুণ্ড উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে তাদের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় এখন শুধু জয়ের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। আগামী ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তাদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার চার ইউনিয়নে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তারা।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজনই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে দায়িত্ব থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তারা হলেন- সৈয়দপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী, মুরাদপুরের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম রেজাউল করিম বাহার, কুমিরার বর্তমান চেয়ারম্যান মোরশেদ হোসেন চৌধুরী ও সোনাইছড়িতে বর্তমান চেয়ারম্যান মনির আহমেদ। এদিকে উপজেলার নয় ইউনিয়নের মধ্যে অপর ৫টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলে সব প্রতিবন্ধকতা কেটে যায়। আর এসব ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এসব প্রার্থীর। আগামী ১১ নভেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বারৈয়ারঢালায় আওয়ামী লীগের মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আবু জাফর (স্বতন্ত্র) ও শম্ভু শর্মা (স্বতন্ত্র)।

বাড়বকুণ্ডে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জাতীয় পার্টির এ জে এম বেলাল আহমেদ ও জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র)। বাঁশবাড়িয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শওকত আলী জাহাঙ্গীর সঙ্গে লড়বেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুল আলম চৌধুরী (স্বতন্ত্র/বিদ্রোহী)। ভাটিয়ারীতে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন মোক্তার হোসেন বাপ্পি (স্বতন্ত্র)। ছলিমপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আজিজ (আওয়ামী লীগ)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী গোলাম মহিউদ্দিন, ইউপি সদস্য গোলাম গফুর ও নিজাম উদ্দিন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যারা দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিটার্নিং অফিসার রোকন চাকমা বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার বাছাইকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সব চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়বকুণ্ড ও সোনাইছড়িতে দুই সাধারণ সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা জেলা নির্বাচন অফিসে আপিল করতে পারবেন।'

মন্তব্য করুন