গাছে ঝুলছে থোকায়-থোকায় লেবু, মাল্টার ভারে নুয়ে পড়ছে গাছ, কমলার রঙে রঙিন চারদিক। মাসখানেক আগেও গাছভর্তি ছিল আমড়া আর পেয়ারায়। এসব ফলদ গাছের বাগান পাহারা দিচ্ছে সারি সারি সুপারি ও নারিকেল গাছ।\হ৪০ জাতের ফলদ গাছে ভরা এই পারিবারিক বাগান গড়েছেন আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক (৬৫) ও আজাদুল ইসলাম (৪২)। ২৭০ শতক জমিতে গড়ে ওঠা এই বাগান এখন এলাকার অন্য কৃষকদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।\হবাগান থেকে দেশে এই প্রথম কাঁঠালের ডাল-কলম করে ১২ মাস ফল পাওয়ার চেষ্টা চলছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন এই কাজে।\হআনোয়ারা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাজীগাঁও গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক ২০ শতক জমিতে ৪ বছর আগে লেবু ও সুপারি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরে কৃষি অফিস তার বাগানে আম, কাঁঠাল, মাল্টা, আনার, পেয়ারা, কুল, আমড়াসহ ১৫ জাতের ফলের চারা রোপণে সহায়তা করে। এভাবে বাগানটি পারিবারিক আদর্শ বাগানে রূপান্তরিত হয়। চলতি বছরের শুরুতে কৃষক আজাদুল ইসলাম কালাবিবির দিঘিরপাড়ে ২৫০ শতক জমিতে ৪০ জাতের ফলের গাছ রোপণ করে জেলার বৃহত্তম 'কৃষকের পারিবারিক আদর্শ বাগান' গড়ে তুলেন। বাগানে ৪০ জাতের যেসব ফলের চাষ হয়েছে সেগুলো হলো- কমলা, কাঁঠাল, আম, আতা, লেবু, পেয়ারা, আনার, মাল্টা, কলা, কমলা-ডি, লকটন, জলপাই, বারি পেয়ারা, আনারস, বেগুন, বেল, সফেদা, আমলকী, লাউ, আদা, ড্রাগন। এসব ফলের গাছকে কলম করে ১২ মাসি ফলে পরিণত করা হচ্ছে।\হসরেজমিন দেখা যায়, চারপাশে সুপারি আর নারিকেল গাছ যেন দাঁড়িয়ে আছে পাহারাদার হিসেবে। ভেতরে ঢুকতেই দেখা মেলে হরেক রকম ফলের গাছ। কুল, আনারস, লিচু সদ্য ফল দিয়ে এখন আবার ফলবতী হওয়ার চেষ্টা করছে। ভিয়েতনামী দেড় ফুট লম্বা জাতের নারিকেল গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। ফল গাছের পাশাপাশি চাষ হয়েছে সবজিরও। বরবটি, ঢেঁড়সসহ নানা ধরনের সবজির দেখা মেলে আবদুল খালেকের ফলের বাগানে।\হকৃষক আবদুল খালেক জানান, চার বছর আগে কয়েকটি ফলের গাছ আর সবজির চারা নিয়ে তিনি বাগান শুরু করেন। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের ১৫ জাতের ফলের চারা নিয়ে একটি আদর্শ বাগান গড়ার উদ্যোগ নেন। এতে সব মিলিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত ২ বছর ধরে লেবু, আম, মাল্টা, পেয়ারা, লিচু, বিক্রি হচ্ছে।\হআনোয়ারা উপজেলা উপকৃষি কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, 'কৃষকের পারিবারিক আদর্শ বাগানে ৪০ জাতের ফলের গাছকে কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে ১২ মাসি হিসেবে রূপান্তর করা হচ্ছে।'\হতিনি আরও বলেন, 'দেশে এই প্রথম কাঁঠাল গাছের কলম পদ্ধতি করে ১২ মাস ফলন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সার, বীজসহ নানা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বাগানে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন।'

মন্তব্য করুন