পটিয়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকা কেলিশহর; হাঈদগাঁও ও খরনা হলো শীতকালীন শাকসবজির জন্য গোটা চট্টগ্রামে বিখ্যাত জনপদ। প্রতিবছরের মতো এবারও এখানকার কৃষকরা শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করেছেন। শুধু পটিয়া নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় এখন চলছে সবজি চাষের উৎসব। বিশেষ করে শঙ্খসহ বিভিন্ন নদীর চরে সবজি চাষের ধুম পড়েছে। এসব সবজি চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। এবার উৎপাদন সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।\হকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আকতারুজ্জামান জানান, গত বছর জেলায় প্রায় ২৭ হাজার ৭৬ হেক্টরে সবজি চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২৪ মেট্রিক টন করে মোট ছয় লাখ ৪৯ হাজার ৮২৪ মেট্রিক টন শাকসবজি উৎপাদন হয়েছে। জেলার পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার অধিকাংশ কৃষক সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকায় হাজার হাজার চাষি সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এখানকার কৃষক ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষেই বেশি আগ্রহী। পটিয়া উপজেলার ন্যায় শীতের আগাম শাকসবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের চাষিরা। শাকসবজি চাষে বেশি লাভ হওয়ায় চাষের আওতা বাড়ছে, বাড়ছে চাষির সংখ্যাও। সরেজমিন দেখা গেছে, পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইনে শ্রীমাই নদীর দুই তীরে শীতের আগাম শাকসবজি চাষে চাষিরা দারুণ ব্যস্ত। কেলিশহর এলাকার সবজিচাষি নাসু মিয়া বলেন, তিনি এবার তিন একর জমিতে শীতের আগাম শাকসবজি চাষ করছেন। মুলা, বরবটিসহ কয়েক রকম শাকসবজি আবাদ করছেন। শীতের আগাম শিম ও বরবটি কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে আসবে। এখানে চাষ করা হয় ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক, পালং শাক, লাউ শাক, শসা, করলা। এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে শ্রীমাই নদীর তীরে সবজি চাষ করে কয়েক হাজার চাষি লাভবান হবেন।\হপটিয়া কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, 'এবার পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় দুই হাজার ২০০ হেক্টরে শাকসবজি চাষ হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, উপজেলায় এবার দুই হাজার ৪৫ হেক্টরে শাকসবজি চাষ হয়েছে।'

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলা পর্যায়ে শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে পটিয়ায় ৭১০ হেক্টর জমিতে, ১৩ হাজার ৯০৯ মেট্রিক টন, চন্দনাইশে এক হাজার ৯২০ হেক্টরে ৪৪ হাজার ৬৩৭ মেট্রিক টন, লোহাগাড়ায় এক হাজার ২৮০ হেক্টরে ২১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, সাতকানিয়ায় এক হাজার ৪০০ হেক্টরে ১৫ হাজার ৯১৪ মেট্রিক টন, বোয়ালখালীতে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন, আনোয়ারায় ৫০০ হেক্টরে ১১ হাজার ১৫ মেট্রিক টন, বাঁশখালীতে এক হাজার ৬৩০ হেক্টরে জমিতে ৪৭ হাজার ৫৫৭ মেট্রিক টন। গ্রীষ্ফ্মকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে পটিয়ায় ২২৬ হেক্টরে চার হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন, বোয়ালখালীতে প্রায় ৯০ হেক্টরে ৯৮২ মেট্রিক টন, আনোয়ারায় ২০৮ হেক্টরে দুই হাজার ১২১ মেট্রিক টন, চন্দনাইশে ৭৯০ হেক্টরে আট হাজার ১২৫ মেট্রিক টন, লোহাগাড়ায় ২৯৪ মেট্রিক টন জমিতে পাঁচ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন, সাতকানিয়ায় ৮০০ হেক্টরে ১১ হাজার ১৩৬ মেট্রিক টন এবং বাঁশখালীতে এক হাজার ৩৭০ হেক্টরে ২৮ হাজার ৯৭৫ মেট্রিক টন।

সাতকানিয়া কৃষি কর্মকর্তা প্রতাবচন্দ্র রায় বলেন, এবার উপজেলায় এক হাজার ৫০৫ হেক্টরে শাকসবজি চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন