তেলের দাম বাড়ানোর পর ৮ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামের গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হয়েছে।\হতবে নগর ও আন্তঃজেলা রুটের অনেক যানবাহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের\হঅভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনাও। এ নিয়ে প্রিয় চট্টগ্রামের বিশেষ আয়োজন\হ\হনগরীর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ)-বহদ্দারহাট-আগ্রাবাদে চলাচল করা ৪ নম্বর রুটের মিনিবাসগুলোর সবগুলোই সিএনজিচালিত। এসব মিনিবাসে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হতো ৯ টাকা করে। জ্বালানি তেলের মূল্যবদ্ধির পর সেই ভাড়া এক লাফে ৫-৬ টাকা বাড়িয়ে আদায় করা হয় ১৪-১৫ টাকা। মিনিবাসগুলো সিএনজিচালিত হলেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে ডিজেলচালিত বাসের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সবুজ স্টিকার লাগিয়ে সিএনজিচালিত গণপরিবহন চিহ্নিত করে দেওয়ার পর ভাড়া নৈরাজ্য কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে পুরোপুরি আগের ভাড়ায় ফিরে যায়নি সিএনজিচালিত গণপরিবহনগুলো।\হসরেজমিন দেখা গেছে, বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ কিংবা আগ্রাবাদ থেকে বহদ্দারহাটে যেতে সিএনজিচালিত মিনিবাসগুলো আগে ৯ টাকা করে ভাড়া আদায় করলেও এখন সেই ভাড়া ১ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। শুধু বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ নয়, নগরীর সবগুলো সড়কেই এভাবে ১ থেকে ২ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে সিএনজিচালিত গণপরিবহন। যদিও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন গণপরিবহন মালিকরা।

চট্টগ্রাম শহরে ১৫টি রুটে বাস, ১৭টি রুটে হিউম্যান হলার এবং ২১টি রুটে অটোটেম্পো চলাচল করে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর প্রায় এক মাস পার হতে চললেও বন্ধ হয়নি ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানি ও দুর্ভোগ। উল্টো প্রতিবাদ করলে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে হেনস্থা হচ্ছেন যাত্রীরা। এমনকি গায়ে হাতও তোলা হচ্ছে। চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।\হকালুরঘাট-বহদ্দাহাট-আগ্রাবাদ সড়কের ১০ নম্বর রুটে চলাচল করা বাসগুলো হচ্ছে ডিজেলচালিত। এই সড়কের বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ কিংবা আগ্রাবাদ থেকে বহদ্দারহাট যেতে ভাড়া আদায় করা হতো ৯ টাকা করে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সেই ভাড়া মিনিবাসের মতো এক লাফে বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছিল ১৪ থেকে ১৫ টাকা করে। তবে সরকার ৮ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধির পর ডিজেলচালিত বাসে ১২ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ওঠানামায় ৭ টাকা করে ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী প্রতিটি স্টেশনে ওঠানামার জন্য ১ টাকা করে বাড়তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন গণপরিবহন মালিকরা। বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না। সর্বনিম্ন ভাড়ার পরবর্তী স্টেশনে অতিরিক্ত ২ টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন পরিবহনের চালক-হেলপাররা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল সমকালকে বলেন, 'তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ভাড়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে সরকার গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর সেই সমস্যা এখন তেমন একটা নেই। চালক-হেলপারদের আমরা ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছি। তাই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও কোনো চালক-হেলপার বাড়তি ভাড়া আদায় করলে এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া না হয় সে জন্য রাস্তায় সক্রিয় ছিল বিআরটিএ'র টিম ও ট্রাফিক পুলিশ। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে বেশকিছু গণপরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এখন অবস্থা এমনই যে, বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও দেখার কেউ নেই।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য চলছে। এমনিতেই সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে তা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। আবার গণপরিবহনে এখন সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি আদায় করছে। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের পকেট কাটা যাচ্ছে। এমনকি হয়রানি ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। এসব বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।'

প্রতিবাদ করলেই হতে হচ্ছে হেনস্থা :ভাড়া নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে যাত্রীদের গায়ে হাত তোলা থেকে শুরু করে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দিতেও দ্বিধা করছেন না গণপরিবহনের হেলপাররা। তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ভাড়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জের ধরে এভাবে নিয়মিতভাবেই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এমনকি কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকেও ফেলে দেওয়া হয়েছে। এভাবে ভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে জীবনঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরা।\হমাত্র ৩ টাকার ভাড়া নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর রাতে বাদুনাবাদের জের ধরে নগরীর বহদ্দারহাট-আগ্রাবাদ সড়কের ইস্পানি মোড়ে এক যাত্রীকে চলন্ত বাস (চট্ট মেট্রো জ-১১-১৮৭২) থেকে লাথি মেরে ফেলে দেন বাসের হেলপার। এতে গুরুতর আহত হন আবদুল হামিদ (৫১) নামে এক যাত্রী। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় অবশ্য বাসটির চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আবদুল হামিদ। এরও আগে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্ব্বর রাতে জিইসি মোড় এলাকায় ১ টাকা কমবেশি নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে জসিম উদ্দিন নামের এক যাত্রীকে হত্যা করে একই সড়কের বাস হেলপার।

গত ২৭ নভেম্বর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে প্রতিবাদ করায় নগরীর পুরোনো রেলস্টেশন সংলগ্ন হোটেল সৈকতের পৃষ্ঠা ২ :কলাম ৪

সামনে রহমত উলল্গাহ নামে এক স্কুল শিক্ষককে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে নিচে ফেলে দেয় বাসের হেলপার। এতে ওই শিক্ষকের পা, হাত ও মুখে মারাত্মক জখম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি পাঁচলাইশ থানার হাবিবউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।

আহত শিক্ষকের সহকর্মী শিক্ষক অভিজিত বড়ূয়া সমকালকে বলেন, নগরীর অপিজেন থেকে তিনি নিউ মার্কেট আসতেছিলেন। আগে অপিজেন থেকে নিউ মার্কেট ৮-১০ টাকা ভাড়া নিতেন। এখন ১৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে। কিন্তু হেলপার ১৭ টাকা দাবি করেন। রহমত স্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ১৭ টাকা দিয়ে নামার সময় হেলপার স্যারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে পুলিশ ও পথচারি লোকজনের সহায়তায় তাকে চমেক হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়।

মন্তব্য করুন