জীবনের রহস্য লুকিয়ে আছে কোষের যে অংশে তার নাম ডিএনএ। এই ডিএনএ কাজ করে জিন, জিনোম ও প্রোটিনের মাধ্যমে। গায়ের রং কেমন হবে, থ্যালাসেমিয়া রোগ হবে কি হবে না, দুধ জাতীয় খাবার পাকস্থলীতে হজম হবে নাকি হবে না, স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া এরকম অনেক কিছুর পেছনেই কাজ করে জিন বা ডিএনএ। কভিড-১৯-এর টিকা তৈরির পেছনেও বড় ভূমিকা ছিল সার্স কভ-২-এর জিনোম নিয়ে গবেষণার। শরীরের অনেক রহস্য জানতে হলে, বংশগত তথ্য উন্মোচন করতে হলে পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি বিষয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক, ইউএসটিসিসহ দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সংশ্নিষ্ট বিষয়ে পড়ানো হয়।

বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনায় মূলত অন্তর্ভুক্ত থাকে মানবদেহের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও তার পরিবর্তন, রোগ শনাক্তকরণ ও তার উৎস নির্ণয়, ওষুধের নকশা প্রস্তুতকরণ, বিভিন্ন অণুজীবের বংশগত তথ্য উদঘাটন, অণুজীব থেকে উপকারী ও কার্যকরী প্রোডাক্ট উৎপাদন, উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়, উদ্ভিদের শারীরবৃত্তিক বিভিন্ন পরিবর্তনের সূচনা, নতুন জাতের ধান, পাট বা গম উদ্ভাবন, পরিবেশ দূষণ রোধে কীভাবে অণুজীবকে কাজে লাগানো যায়, সামুদ্রিক উদ্ভিদের বিভিন্ন গুণাগুণের পেছনে কোন জিন দায়ী তা শনাক্তকরণ-এ রকম অনেক কিছুই।

দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি বৃত্তি দেওয়া হয় যে বিষয়গুলোতে, তার মধ্যে অন্যতম এই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ায়রিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্দুস, যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ, অস্ট্রেলিয়ার আরটিপি, জাপানের মনোকুগাবুশো, মালয়েশিয়ার ব্রাইট স্কলারশিপ, এরকম অনেক মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তিতে প্রাধান্য দেওয়া হয় এ বিষয়কে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করা হয় যে পাঁচটি ক্ষেত্রকে, তার মধ্যে এই বিষয় অন্যতম। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সব স্টার্টআপ। টিকা উৎপাদন, ডায়াগনস্টিক, গবেষণা, জিনোম সিকুয়েন্স, নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন, বিভিন্ন মহামারির পূর্ব ও পরবর্তী প্রভাব দেখা, সংক্রমণের ধরন পর্যবেক্ষণ, কম্পিউটারে জিনগত বৈশিষ্ট বিশ্নেষণ- এ রকম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ।

কভিডের সময়টাতে যেসব বিষয়ের লোকজন সবচেয়ে বেশি সরব ছিল, তার মধ্যে অন্যতম জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালিত গবেষণায় পৃষ্ঠা ২ :কলাম ৫

দেখা যায়, দেশে উপসর্গহীন করোনায় সংক্রমণ ক্রমাগত হারে বাড়ছে। তাছাড়া সংক্রমণমুক্ত হওয়ার পর করোনা পরবর্তী স্মৃতি-দুর্বলতা, শারীরিক ব্যথা, ঘুমে ব্যাঘাতসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন আক্রান্তদের মধ্যে একটা বড় অংশ। তবে করোনা আক্রান্তদের ৯০ ভাগেরই ইতোপূর্বে সবগুলো টিকা নেয়া আছে। করোনার হটস্পট খ্যাত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ২১ জন রোগীর উপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় বলা হয়, আক্রান্তদের ৭৫ শতাংশই পুরুষ। এর মধ্যে ৩০ শতাংশের বয়স ৩০-৩৯ বছর। আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি রোগীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডি ডাইমার এবং ফেরিটিন বেড়ে যায়। কভিড থেকে সুস্থ হওয়ার চার সপ্তাহ পরেও আক্রান্তদের এক চতুর্থাংশের মধ্যে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, বিষণ্ণতা ও নিরবিচ্ছিন্ন, ঘুম বাধাগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রতিমাসে উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড়গুণ করে বেড়েছে। কভিড-১৯ আক্রান্তদের ৯০ ভাগেরই ইতোপূর্বে সবগুলো টিকা নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বি পজেটিভ (৩৬ শতাংশ) এবং ও পজেটিভ (২৯ শতাংশ) রক্ত গ্রুপের রোগীরা। উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরই ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কভিডের পূর্বে যারা দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ গ্রহণ করছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কভিড পরিবর্তি জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ১০ দশমিক ১১ শতাংশ রোগী উপসর্গবিহীন ছিল। এছাড়াও যাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ আছে, যেমন ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ তাদের কভিডে আক্রান্ত হওয়ার হার এবং কভিড পরবর্তি জটিলতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি পাওয়া গেছে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকদের আরেকটি গবেষণায় পরিলক্ষিত হয় চট্টগ্রামে জুন থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমিত শিশুদের নমুনা সিকোয়েন্সিং করে সবার মাঝে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বলে পরিচিত ডেল্টার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নবজাতক থেকে ১৬ বছর বয়সী (স্কুলগামী) কভিড-১৯ এ আক্রান্ত শিশুদের এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় প্রাপ্ত সিকোয়েন্স ডাটা জার্মানি থেকে প্রকাশিত ভাইরাসের আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডার সংস্থা 'গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা'তে গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় আমেরিকান সোসাইটি অফ মাইক্রোবায়োলজি থেকে। গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৮০ ভাগেরই বয়স ১০ বছরের নিচে। সর্বনিম্ন আট মাস বয়সের শিশুর মাঝে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত হয়েছে। এই গবেষকদলের অন্য গবেষণা অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক কভিড-১৯ রোগীদের মাঝে ৮০ ভাগ রোগী পুরুষ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। মেয়ে শিশুরাও সমানভাবে এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত ও আক্রান্ত হচ্ছে। ৫০ ভাগ ছেলে শিশু এবং ৫০ ভাগ মেয়ে শিশু'র মধ্যে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি দেখা গেছে। ৯৫ ভাগ শিশুর মাঝেই জ্বরের লক্ষণ এবং ৭০ ভাগ শিশুর সর্দি ও কাশি ছিল। উল্লেখ্য, একজন শিশু পুরোপুরি উপসর্গহীন ছিল বলে জানানো হয় গবেষণায়।

করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত রূপ নিয়ে বিশ্বের তাবৎ গবেষকদের এখন গলদঘর্ম অবস্থা। ভাইরাসটি দ্রুতই নিজেকে পরিবর্তন করছে। প্রতিবার গবেষণায় ধরা পড়ছে নানা রূপ। এভাবে করোনা ভাইরাসের ৪ হাজার ৬০৪ রকম পরিবর্তিত রূপ খুঁজে পেয়েছি আমরা আরেকটি গবেষণায়, যার ৩৪টি একেবারেই আলাদা। অর্থাৎ এই ধরণগুলোর সঙ্গে বিশ্বে পাওয়া অন্য কোনো ধরণের মিল নেই। দেশে করোনাভাইরাসের যে রূপগুলো পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে ইউরোপের ধরণগুলোর মিলই বেশি পাওয়া গেছে গবেষণায়। সার্স কভ-২-এর জিনোম সিকোয়েন্স পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশি একদল গবেষকের গবেষণাপত্রটি ২০ মার্চ ২০২১ গবেষণা সাময়িকী 'এলসেভিয়ার' এবং নেদারল্যান্ডসের জার্নাল 'ভাইরাস রিসার্চে' প্রকাশিত হয়। গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডেটাবেইস 'গ্লোবাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেমে' জমা হওয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমিত করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সগুলো নিয়ে এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এক বছরের বেশি সময় আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বিশ্বে মহামারি বাধিয়ে দেওয়ার পর অসংখ্যবার রূপ বদলেছে, যাকে বলা হয় মিউটেশন। বাংলাদেশে ভাইরাসটির ৩৪টি পরিবর্তিত ধরণকে 'বাংলা মিউটেশন' নাম দেয়া হয়েছে। এই মিউটেশনগুলো পাওয়া গেছে বেশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে। তবে বৈচিত্র্যময় জিনোম সিকোয়েন্স পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। চট্টগ্রামে সংক্রমিত ভাইরাসের জিনোমের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার ভাইরাসের জিনোমের মিল পাওয়া গেছে। আর দেশে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে ইউরোপের রূপগুলো। এ ছাড়া সার্স কভ-২-এর যে পরিবর্তনটিকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও সংক্রমণশীল বলে বিবেচনা করা হয়েছে, সেই 'জি৬১৪ ডি মিউটেশন' ৯৮ শতাংশ বাংলাদেশি সিকোয়েন্সের মধ্যেই ছিল।

জিনোম হলো জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। এ বৈশিষ্ট্যের তথ্য জানার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো জিন নকশা উন্মোচন বা জিনোম সিকোয়েন্সিং। আর জিনগুলো সজ্জিত হয় এডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন নামের চারটি ক্ষারক দিয়ে। এ ক্ষারকগুলো যখন ইতিপূর্বে পরিলক্ষিত অবস্থান থেকে পরিবর্তিত হয় এবং অন্য ক্ষারক দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়, তখন তাকে বলা হয় পরিবর্তন বা মিউটেশন। সার্স কভ-২ মূলত এভাবেই পরিবর্তিত হয়েছে। দেশে যে ৩৪টি ইউনিক মিউটেশন গবেষণায় পাওয়া গেছে, সেগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেসব রোগীর মধ্যে এ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ আছে, তাঁদের উপসর্গ ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের ওপর নজর রাখতে হবে। কারণ, ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের ফলে রোগী উপসর্গবিহীন হওয়া, নতুন উপসর্গ দেখা দেওয়া, জটিলতা বাড়িয়ে দেওয়া, ভাইরাসের সংক্রমণ করার ক্ষমতা বেড়ে বা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো থাকে।

আমাদের সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ৭০ ভাগ মানুষের শরীরেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী শক্তিশালী অণুজীব ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। নগরের আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, হালিশহর ও বাকলিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া থাকা রোগী পাওয়া গেছে। যাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের জেলার ১৪ উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, পটিয়া, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ এলাকায়ও অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর রোগীর সংখ্যা বেশি মিলেছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সি বা প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অসম্পূর্ণ কোর্সের ব্যবহারই প্রধান কারণ বলে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ দিচ্ছে না। পোল্ট্রি ফিডে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণেও মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ক্রমেই কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। এছাড়া স্তন্যদানকারী মায়ের কাছ থেকেও শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী শক্তিশালী অণুজীব ছড়িয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় অনেক বেশি সংখ্যক ফার্মেসি আছে সেসব এলাকায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সি থাকা রোগী পাওয়া গেছে বেশি। চট্টগ্রামের দুটি হাসপাতালে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা দুই বছর ধরে এক হাজার রোগীকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩০ জন (৪৩%) এবং নারী ৫৭০ জন (৫৭%)। এর ৫০ ভাগই ছিল শিশু। এই শিশুদের ৪০ ভাগই অন্তত তিন ধরনের ইনফেকশনে ভুগছিল যাতে অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ দিচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতি দেখে ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন, অ্যান্টিবায়োটিক যদি রোগীর শরীরে এভাবে কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে শিশুদের চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলোর মধ্যে সেফুরোক্সিম, সেফিপিম, সেফোট্যাক্সিম এবং সেফটাজিডাইম জেনেরিকের আওতাধীন অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রোগীর শরীরে কাজ করেছে খুবই কম। প্রমাণ মিলেছে, সেফুরোক্সিম, সেফিক্সিম, সেফোট্যাপিম, সেফটাজিডাইম, সেফেপাইম এবং সেফট্রিয়াপোন যথাক্রমে ৭৮.৯৬%, ৭৬.৯৮%, ৭৪.৬৯%, ৭৪.২৫%, ৬৮.২৪% ও ৬৫.৮৫% ক্ষেত্রেই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অকার্যকর। চট্টগ্রামে পরিচালিত গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে একাধিক জিনও যা অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে শরীরে। এর মধ্যে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রেই এনডিএম-১ নামের এক জিনের উপস্থিতি দেখা গেছে। ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে এসএইচভি-১১ নামের অপর এক জিনের উপস্থিতি। আর ইউজিই জিনের বিস্তার দেখা গেছে ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে।



(ড. আদনান মান্নান, সহযোগী অধ্যাপক, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)

মন্তব্য করুন