চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম সারির একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি অনুষদের অধীনে ১১টি বিভাগে ২৬টি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। তবে সিএসই বিভাগ চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের। এই বছরের শরৎকালীন সেমিস্টারে ১ হাজার ৪৫৬ জন ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে সিএসই বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৩১৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ভর্তি হয়েছেন ২৬০ জন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হবে নতুন কয়েকটি বিভাগ।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর মধ্যে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, সোমালিয়া, মালদ্বীপ, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া ও সুদানের ২ শতাধিক ছাত্র অধ্যয়ন করছেন। আইআইইউসি কর্তৃপক্ষ বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ দিচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীকে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অমুসলিম ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছেন।

শিক্ষার্থী আসির ইনতিশার মিশকাত বলেন, 'গবেষণানির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করেন। উচ্চশিক্ষায় গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় আইআইইউসি। গবেষণা কাজকে বিশেষভাবে প্রমোট করার জন্য সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন (সিআরপি) নামে আলাদা একটি বিভাগ রয়েছে।'

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। বিভাগগুলো হলো- কোরআনিক সায়েন্স অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মাসি, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, আইন বিভাগ। ৮টি সেমিস্টারে এসব বিভাগে পাঠদান করা হয়। ৪৩৩ জন পূর্ণ ও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন এসব বিভাগে।

৪৩ একর জমির ওপর ৪০টি ভবন নিয়ে উন্নত অবকাঠামোতে এগিয়ে আইআইইউসি। শাটল ট্রেন আর রাস্তা তৈরির প্রস্তাবনা যোগ করবে নতুন মাত্রা। ১৯৯৫ সালে স্থাপিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনন্য সুন্দর ক্যাম্পাস। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় অবস্থিত স্থায়ী ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে মনোরম সুন্দর পাহাড়ঘেরা পরিবেশ। সবুজে ঘেরা আইআইইউসির নিজস্ব ক্যাম্পাস। অপরূপ এই ক্যাম্পাসকে সবুজে সাজিয়েছে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বিউটিফিকেশন কমিটি। ২০১৫ ও ২০১২ সালে সারাদেশে বৃক্ষরোপণে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে আইআইইউসি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে শহর থেকে বাস সার্ভিস। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, নেপাল, তুরস্ক, সুদানসহ বিশ্বের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, ইন্টারনেট ল্যাব, ৩৫ হাজার টাইটেলের ৮৪ হাজার ৪৩৪টি বইয়ের লাইব্রেরি। ২০২১ সালের মার্চ মাসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদন করে সরকার। আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীকে প্রধান করে কাজ শুরু করেছে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড। আগমনের পর থেকেই অবকাঠামো ও গবেষণার উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে তারা। ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী। যাতায়াতের সুবিধার্থে ২৫ কোটি টাকার রাস্তা হবে আইআইইউসির ভেতরে ও বাইরে। শিক্ষকদের গবেষণামুখী ও র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যেতে ৫০ লাখ টাকা বাজেট করেছে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড। শিক্ষকমণ্ডলী এবং প্রশাসনের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আইআইইউসি এগিয়ে যেতে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড

আইআইইউসির আইন বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সানজিদা সুলতানা নিশি বলেন, 'প্রথমত অবকাঠামোর জন্য আইআইইউসি আমার বেশি পছন্দ। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের আলাদা ক্যাম্পাস হওয়ার কারণে আমি অনেক স্বাছন্দ্য বোধ করি। আমার মতে, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করে আইআইইউসি। আর এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন বিভাগে ব্যবহারিক জ্ঞান বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেন শিক্ষকরা। আলাদা প্র্যাকটিক্যাল রুম আছে আমাদের। সেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া হয়। এই জন্য খুব সহজেই আমরা তাত্ত্বিক পড়াও বুঝতে পারি। অনেকগুলো সেমিনার ও প্রেজেন্টেশন হয়, যেটা আইন বিভাগের জন্য খুবই জরুরি।

আইআইইউসির সিএসই বিভাগের লেকচারার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, 'আইআইইউসিতে সিএসই বিভাগে সবচেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি। আর আইআইইউসিতে সিএসই বিভাগের শিক্ষকরা গবেষণার ভিত্তিতে প্রযুক্তির উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করেন। বেশিরভাগ শিক্ষকই পিএইচডি করা। শিক্ষকদের আদর্শ মানের কারণে শিক্ষার্থীরা আকর্ষিত হয়। আমাদের অ্যালামনাই সদস্যরা সবাই অনেক ভালো স্থানে আছেন।'

মন্তব্য করুন