অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ব্যবহূত স্বাস্থ্য অ্যাপের বিরুদ্ধে অনৈতিক ট্র্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহসহ ভুলভাল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ব্যবহারর জন্য ডেভেলপ করা ৯০ শতাংশ অ্যাপই ব্যবহারকারীর অজান্তে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং ব্যবহারকারীকে না জানিয়ে ট্র্যাক করে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি স্বাস্থ্য অ্যাপের ৯টিই এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

গবেষণাটিতে গুগল প্লে স্টোরের ২০ সহস্রাধিক স্বাস্থ্য অ্যাপের তথ্য বিশ্নেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, স্বাস্থ্য অ্যাপের বেশিরভাগই ব্যবহারকারীর হাঁটাচলা, ক্যালরি পরিমাপ, স্বাস্থ্যের অবস্থা, উপসর্গের তথ্য এবং ঋতুস্রাব ট্র্যাকারসহ সংবেদনশীল স্বাস্থ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককিউরি ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি হাবের প্রভাষক মুহাম্মদ ইকরাম। তিনি বলেন, প্রায় ৮৮ ভাগ মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম ট্র্যাক করতে 'কুকি' ব্যবহার করে এবং এই অ্যাপসের মধ্যে কিছু আছে যা ট্র্যাকিং করে থাকে। গবেষণায় প্রতিবেদন মতে, ২৮ শতাংশ স্বাস্থ্য অ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে এ সম্পর্কে গুগল প্লেতে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা নেই।

অথচ প্লে স্টোরের কোনো অ্যাপ আপলোড করতে হলে সেটি কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশ স্বাস্থ্য অ্যাপ ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতে তার অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহ করে, এক-তৃতীয়াংশ অ্যাপ ব্যবহারকারীর ই-মেইল ঠিকানা সংগ্রহ করে। মূলত বিজ্ঞাপনদাতাদের সুবিধার্তে এসব তথ্য অ্যাপগুলো সংগ্রহ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে ঠিকঠাক রিপোর্ট না করার অভিযোগ তো আগে থেকেই ছিল। গুগলের এক মুখপাত্র বলেছেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে গুগল প্লে স্টোরের নীতিমালা রয়েছে। এ নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে আমরা ওই অ্যাপ ও ডেভেলপারের বিরুদ্ধে ব্যবসা নিয়ে থাকি। এ ক্ষেত্রে আমরা ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদের নজরে এসেছে, এখন এটি আমরা পর্যালোচনা করছি।

বিষয় : স্বাস্থ্য অ্যাপ

মন্তব্য করুন