এগিয়ে যাচ্ছে নারী। সঙ্গী ইচ্ছাশক্তি। বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয়- সবাই যাচ্ছে দেখে। তেমনি কয়েকজন এগিয়ে যাওয়া সফলদের নিয়েই গল্প।

আতিয়া শাহানাকে বেশিরভাগ মানুষ তাইসিয়া নামেই চেনেন। উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করা এই নারী ফ্রিল্যান্সিং জগতে আসেন তার জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে। তিনিও আইটি প্ল্যাটফরমার, দু'জনে পাশাপাশি বসে অফিস করেন, এভাবেই প্রকাশ করেন তার সফলতার অব্যক্ত অনুভূতি। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নারীকে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে দিতে পারে। তরুণরা হচ্ছে অদম্য শক্তি, সেটা হোক নারীশক্তি অথবা পুরুষ! হাতে হাত রেখে তারা চাইলে সব করতে পারে, আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে সঠিক পরিচিতি দেওয়ার জন্য তরুণারাই ভূমিকা রাখতে পারে।'

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা মৌরী আজ সফল ফ্রিল্যান্সার। গত বছরের শুরুতে হঠাৎ নিজেকে আবিস্কার করেন অনলাইনে তার ঝোঁক। নিজেকে স্বাবলম্বী করার প্রবণতা থেকে শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি। মাত্র পাঁচ মাসে শিখে ফেলেছেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ের সব খুঁটিনাটি, মার্কেট প্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলার ১৪ দিনের মাথায় কাজ পান তিনি, শুরু হয় সফলতার গল্প। সফল এই তরুণী বলেন, আমার সফলতার পেছনে সবচেয়ে অবদান আমার নিজের। কেননা আমি লেগে ছিলাম, কখনও হাল ছাড়িনি। তিনি আরও বলেন, নারীদের ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসা একটু কষ্টদায়ক বটে, নারীদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও সীমিত।

সাজেদা রহমান সেতু ২০১৪ সালে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরও সরকারি চাকরি না পেয়ে অনেকটাই হতাশ ছিলেন। ২০১৯-এ কাজ শেখেন, এর পর ফ্রিল্যান্সিংকে পুরোপুরি পেশা হিসেবে যুক্ত করে নিয়েছেন। সফল এই নারী ফ্রিল্যান্সার বলেন, প্রযুক্তি খাতে নারীরাও এখন এগিয়ে আসছে, নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

'প্রথমদিকে অনেক বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। পরিবারের মেয়েটি সারারাত ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকাটা পরিবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারত না। রাত হলেই নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করতাম পরিবার থেকে, রাত জেগে কাজ শিখতাম তখন, যখন থেকে আয় করা শুরু করি ঠিক তখন থেকে পরিবার থেকে কোনো চাপ আর আসে না'- গল্পচ্ছলে এভাবেই জানাচ্ছিলেন অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুপালী রানী গোপ। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি, হতে চান একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার শুরুটা শখের বসে, কলেজে পড়া অবস্থায় আইসিটি মেলায় গিয়ে পরিচয় ফ্রিল্যান্সিং শব্দের সঙ্গে, ইন্টারনেটে কাজ করে কীভাবে আয় করা যায় বাসায় বসে- জানতে জানতে শিখে ফেলি ফ্রিল্যান্সিং; এমনটিই বলছিলেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী আরিফা আক্তার মিম। তিনি বলেন, শিখতে গিয়ে বাধাবিপত্তির শিকার হয়েছি; কিন্তু সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমার মায়ের। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া এই তরুণী জানান, ফ্রিল্যান্সিং করে যতটুকু আয় করছি, তা দিয়ে অনায়াসে আমার দিন কেটে যাচ্ছে। এতে পরিবারকে অর্থিক সহযোগিতাও করতে পারছি। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পেশার মতো ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে সরকারের উচিত বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা।

মন্তব্য করুন