টেলিভিশনে রান্নার অনুষ্ঠানকে তুলে আনার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন পুষ্টিবিদ সিদ্দিকা কবীর। তিনি একাধারে ছিলেন রন্ধনশিল্পী, পুষ্টিবিদ, অধ্যাপক ও উপস্থাপক।
অধ্যাপক সিদ্দিকা কবীর ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যু-পূর্ব বেশ কিছুদিন সিআরপিতে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। তখন তার বয়স ৮০ বছর।
তার জন্ম পুরান ঢাকার মকিম বাজারে ১৯৩১ সালের ৭ মে। তার বাবা মৌলভি আহমেদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও পরে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। সিদ্দিকা কবীরের মা সৈয়দা হাসিনা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে সিদ্দিকা কবীর ব্যাংকার সৈয়দ আলী কবীরকে বিয়ে করেন।
সিদ্দিকা কবীর পড়াশোনা করেন প্রথমে ইডেন কলেজে। সেখান থেকে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর তিনি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৬৩ সালে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি পান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় সিদ্দিকা কবীর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব তৎকালীন পাকিস্তান রেডিওতে ঘোষক হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরিতে যোগ দেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর প্রথমে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে শিক্ষক ও পরে তিনি ইডেন কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের পর দেশে ফিরে তিনি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখান থেকে তিনি ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৬৫ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রান্না শেখা শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান টেলিভিশনে 'ঘরে বাইরে' নামে রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করেন। সিদ্দিকা কবীর তার 'রান্না খাদ্য পুষ্টি' বইটির জন্য ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলাদেশে রান্না বিষয়ে সর্বাধিক বিক্রীত বইগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত এটি অন্যতম। বইটি প্রথম প্রকাশের সময় মুক্তধারা, বাংলা একাডেমিসহ অন্যান্য প্রকাশনা সংস্থা এটি প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। পরে এটি তার নিজ খরচে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পর এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে ইংরেজি ভাষায় একটি 'কারি রান্নার' বই লেখেন। ১৯৮০ সালে লেখেন পাঠ্যবই খাদ্য পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থা, যা স্নাতক পর্যায়ে পড়ানো হয়। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৭ সালে দৈনিক জনকণ্ঠে রসনা নামে কলাম লেখেন, যা পরে খাবার-দাবারের কড়চা নামে প্রকাশিত হয়। প্রাইভেট টেলিভিশন এনটিভিতে তিনি 'সিদ্দিকা কবীরস রেসিপি' নামের রান্নার অনুষ্ঠান নির্মাণে জড়িত ছিলেন।

লেখা :শৈলী ডেস্ক

মন্তব্য করুন