পিৎজা বার্গারের নতুন আস্তানা

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

তৌহিদুল ইসলাম তুষার

মিরপুরে অথেন্টিক ইতালিয়ান স্বাদের পিৎজা নিয়ে এসেছে ভিনটেজ অ্যালি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে এরই মধ্যে আলোচিত হয়েছে রেস্টুরেন্টটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, খাবারের চেয়ে বেশি সমাদৃত হয়েছে রেস্তোরাঁর ইন্টেরিয়র। মিরপুর স্টেডিয়ামের মূল গেটের ঠিক উল্টো পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুটা সামনেই দেখা মিলবে রাজকীয় ধাঁচের রেস্তোরাঁটি।

রেস্তোরাঁর সামনে গিয়ে মনে হবে এটা দেশের বাইরের কোনো একটি জায়গা। আপনার ফেসবুকের পোস্ট করা ছবি দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না দেশের কোনো রেস্তোরাঁ এটি। রেস্তোরাঁর অন্যতম কর্ণধার ইস্তিয়াক আহমেদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি ছবি তোলাটা ছিল শখের বিষয়। এখন সেটি রূপ নিয়েছে কাজের। বিয়ের ফটোগ্রাফি, মডেল ফটোগ্রাফি ও প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুন্দর একটি ব্যাকগ্রাউন্ড। রেস্টুরেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি খেয়াল রেখেছিলাম। এখানে অনেকে আসেন শুধু রেস্টুরেন্টের সামনে ছবি তোলার জন্য। এটাই আমার সার্থকতা। শুধু বাইরে নয়, ভেতরের ইন্টেরিয়রেও রয়েছে ভিন্নতা। ছোট একটি জায়গাকে সাজিয়ে তুলেছি ভিন্নভাবে।' আরামদায়ক সোফা এবং লোহার চেয়ার-টেবিল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট রেস্তোরাঁটিকে। এই কাজগুলোর সঙ্গে সঙ্গী হয়েছেন ইস্তিয়াকের বাবার বন্ধু মাহফুজুর রহমান। তিনিই মূলত তার জায়গাটিতে নতুন কিছু করার কথা বলেন ইস্তিয়াককে।

মাত্র ১৬ জন একসঙ্গে বসার সুযোগ রয়েছে রেস্তোরাটিতে। তারপরও আপনার ইচ্ছেমতো সময় কাটাতে পারবেন এখানে। ইস্তিয়াক জানান, 'এখানে এসে যদি কেউ অনেক সময় কাটাতে চান, তিনি থাকতে পারবেন। কেউ তাকে উঠতে বলবেন না। এখানে এক পাশে রয়েছে বইয়ের তাক; তার পছন্দমতো কোনো গল্প বা উপন্যাসও পড়ে ফেলতে পারবেন এখানে বসে। দেয়ালজুড়ে হালকা আলো আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে। রেস্তারাঁয় নেই কোনো মিউজিক সিস্টেম। নেই ওয়াইফাই। তাই হয় বইয়ে বা বন্ধুদের সঙ্গে খাবারের আনন্দটা পুরোপুরিভাবে ভাগ করে নিতে পারবেন।' খুব অল্পকিছু খাবার দিয়ে সাজানো হয়েছে রেস্টুরেন্টটির মেন্যু। যার মধ্যে রয়েছে- পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, স্টাটার, রিফ্রেশমেন্ট পানীয় ও রেগুলার কফি। শুরুতে কিচেন সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না ইস্তিয়াকের, কিন্তু রেস্টুরেন্টের খাবার দেখলে আপনাকে অবাক হতেই হবে। পিৎজার ক্রাস্ট এত পারফেক্ট- অথেন্টির পিৎজা শপেই মেলে।

শুক্রবার ঠিক ৩টার দিকে হাজির হলাম রেস্তোরাঁটিতে। টেবিল ফাঁকা না থাকায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো। ভেতরে ঢুকতেই ঠান্ডা পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে এসি ছাড়া রয়েছে, শুধু তার জন্যই ঠান্ডা নয়। এর লাইটিং, দেয়ালের রং, আলোর আধিক্য- সবকিছু মিলেই ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই অর্ডার করলাম। নতুন রেস্তোরাঁতে এসেছি আর খুব বাড়তি খাবার নেই, তাই সবকিছুই চেখে দেখব। পিৎজা থেকে অর্ডার করলাম মিট লাভার পিৎজা। যারা একটু বেশি মাংস পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি উত্তম। এ ছাড়া রয়েছে ভিনটেজ অ্যালি স্পেশাল পিৎজা, তানদুরি পিৎজা, পেরি পেরিসহ আট রকম পিৎজা। যার মধ্যে রয়েছে- ৮ ইঞ্চি, ১০ ইঞ্চি, ১২ ইঞ্চি ও ১৪ ইঞ্চির পিৎজা। আপনারা কতটুকু খেতে পারবেন সেটা সদস্যের ওপর নির্ভর করবে। আর দামও সাধ্যের মধ্যে। এসব পিৎজা পাবেন ২৪০ থেকে ৬১০ টাকায়। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ১২ ধরনের বার্গার। দুই বানের মধ্যে মাংসের পেটি ও চিজের কম্বিনেশনে তারা একেবারে পারফেক্ট করেছেন। ইস্তিয়াক জানান, ভবিষ্যতে আরও ভালো মানের বান যুক্ত করা হবে। তবে এই বানটিও পছন্দ করছেন অনেকে। চিকেন বার্গার, চিকেন চিজ বার্গার, জুসি বারবিকিউ চিকেন বার্গার, বিফ বার্গার, চিকেন নাগেট বার্গার এবং চিকেন অ্যান্ড বিফ পেটিসহ ১৩ ধরনের বার্গার পাবেন ১৬০ থেকে ২৬০ টাকায়। একইভাবে রেস্টুরেন্টটিতে রয়েছে চিকেন স্যান্ডউইচ, পানিনি স্যান্ডউইচ, ক্লাব স্যান্ডউইচ, সাব স্যান্ডউইচ, বিবিকিউ সাব স্যান্ডউইচ ও প্রন স্যান্ডউইচ। এসব স্যান্ডউইচ মিলবে ৮০ থেকে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া স্টাটার হিসেবে ৬০ টাকায় মিলবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। এ ছাড়া ৮০ টাকায় পাবেন ওয়েজেজ ও চিকেন ফ্রাই। তা ছাড়া ৮০ টাকায় পাবেন কোল্ড ও হট কফি এবং ৯০ টাকায় হট চকলেট ও কোল্ড চকলেট কফি। ঠিকানা : ভিনটেজ অ্যালি, ২/জি, অ্যাভিনিউ, মিরপুর ২, ঢাকা।

ছবি : ইশতিয়াক আহমেদ