মাত্র ৩১০ কোটি টাকা!

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

ফারজানা ঊর্মি

তিনি চাইলে একটা প্রাইভেট প্লেন কিনতে পারতেন; শখ করে কিনতে পারতেন পুরো একটা দ্বীপ। চাইলে পারতেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়ে বাকি জীবনটা আরাম-আয়েশে কাটিয়ে দিতে কিংবা বিশ্ব ঘুরে দেখতে। কিন্তু এসবের কিছুই করেননি তিনি। আরাম-আয়েশের চিন্তা বাদ দিয়ে লটারিতে জেতা ৪০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩১০ কোটি টাকা) পুরোটাই দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টম ক্রিস্ট।
গত বছর মে মাসের ঘটনা_ ক্যালগেরির অবসরপ্রাপ্ত সিইও টম ক্রিস্টের কাছে লট্টো টিকিট কর্তৃপক্ষ থেকে ফোন আসে। ফোনটা করা হয়েছিল তাকে জ্যাকপট জেতার খবর জানাতে। ঠিক সেই মুহূর্তে ৬৪ বছর বয়সের উদার মানুষটির কাছে টিকিটটিও ছিল না। তাই নিজেও জানতেন না আসলে তার কোন টিকিটের জন্য তিনি জ্যাকপট জিতেছেন।
এক প্রেস কনফারেন্সে ক্রিস্ট বলেন, 'আমি তখনও নিশ্চিত ছিলাম না, ঠিক কোন নম্বরটির জন্য আমি জ্যাকপট জিতেছি।' তিনি আরও বলেন, 'বার্ষিক চাঁদার ভিত্তিতে লটারির টিকিট কিনতাম আমি। অর্থাৎ প্রতিটা ড্রয়ের শেষে কোম্পানি নিজেই মিলিয়ে দেখত আমার নম্বর। বছর শেষে যখন রিনিউ করার নোটিশ পেতাম তখন টাকাটা পরিশোধ করতাম। মাঝে মাঝে জিতে যাওয়া দশ কিংবা বিশ ডলার এসে পেঁৗছাত আমার ঠিকানায়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কখনোই আমি আশা করিনি।'
গলফ খেলতে খেলতে এই অবিশ্বাস্য খবরটি পান তিনি। ফোন রেখে দেওয়ার পরও ধীরচিত্তে চালিয়ে যান খেলা। এটা নিয়ে প্রথম দিকে খুব একটা ভাবেননি তিনি। বন্ধুবান্ধব তো নয়ই, নিজের সন্তানদেরও খবরটা জানানটি বেশ অনেক দিন।
২০১২ সালে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ বছর বয়সে মারা যায় তার স্ত্রী। 'ছয় বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে সে, তারপর চলেই যেতে হলো তাকে।' স্ত্রীর কথা এভাবেই বলেন ক্রিস্ট।
'৪৪ বছরের ক্যারিয়ারের দিক থেকে আমি ভাগ্যবান যে, নিজের এবং সন্তানদের জীবন বেশ ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে পেরেছি। এই টাকাটার সত্যিই কোনো দরকার নেই আমার। তাই টাকাটা কোথায় যাওয়া উচিত সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।' লটারিতে জেতা অর্থ সম্পর্কে এভাবেই বলেন ক্রিস্ট।
নিজের সন্তানদেরও কেন প্রথমে জানাননি জিতে যাওয়া অর্থের কথা_ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি আসলে আমার কী করা উচিত। চাচ্ছিলাম মিডিয়াকে এড়িয়ে গিয়ে অর্থটা সরাসরি ট্রাস্টে স্থানান্তর করতে।' কিন্তু টিকিট কোম্পানির শর্ত অনুয়ায়ী তাকে শেষ পর্যন্ত আসতেই হয় মিডিয়ার সামনে।
টম ক্রিস্ট ভাগ্যবান যে, তার সন্তানরাও পুরস্কারের পুরো অর্থটা দান করে দেওয়ার ব্যাপারে বাবার সঙ্গে একমত।
এই ৪০ মিলিয়ন ডলারের একটা অংশ তিনি টম বেকার ক্যান্সার সেন্টারে দান করবেন বলে ঠিক করেছেন। কারণ তার স্ত্রীর চিকিৎসা হয়েছিল এ হাসপাতালে। তবে বাকি অর্থ কোথায় কীভাবে দান করবেন সেটা এখনও পুরোপুরি ঠিক করে উঠতে পারেননি তিনি এবং তার পরিবার। ক্রিস্ট বলেন, 'এ অর্থ থেকে যদি বছরের পর বছর দান করা যায় তাহলে খুব ভালো হয়। তাই পারিবারিক চ্যারিটি ট্রাস্টের মাধ্যমে এটা করার ইচ্ছা আছে আমাদের।' এ ছাড়াও তাদের বিবেচনায় আছে কানাডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটির নাম।
লটারি করপোরেশনের মুখপাত্র অ্যান্ড্রিয়া মারান্টজ বলেন, 'বড় অঙ্কের লটারি জিতলে প্রায় সবাই কিছু অংশ দান করে। কিন্তু পুরো অর্থটাই দান করার ঘটনা বিরল।'
টম ক্রিস্টের ছেলে ডালাস ক্রিস্ট বাবাকে খুব বিনয়ী মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই কথা উচ্চারিত হয় ক্রিস্টের বন্ধুবান্ধব, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং সহকর্মীদের মুখেও। সবার মতে, 'টিম ক্রিস্ট আমাদের রোল মডেল।'
২০১৩ সালের শেষদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছুটি কাটাতে গেছেন টম ক্রিস্ট। এ বছর
যখন ফিরে আসবেন তখনই শুরু করবেন ক্যান্সার হাসপাতালে অর্থ দান ও স্ত্রীর নামে ট্রাস্ট গঠনের কাজ। হ