ছবির গল্প

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪     আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৪      


ফরাসি ফটোগ্রাফার জঁ-মার্ক বঁজু (Jean-Marc Bouju)) ১৯৯৫ এবং ১৯৯৯ সালে যথাক্রমে ফিচার ফটোগ্রাফি ও স্পট নিউজ ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাকি ছিল ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোগ্রাফি পুরস্কার পাওয়া। সেই শূন্যতা পূরণ হলো ২০০৩ সালে এসে। নাম না জানা এক ইরাকি যুদ্ধবন্দি এবং তার ৪ বছর বয়সী সন্তানের ছবি তুলে তিনি এ পুরস্কার লাভ করেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ফটোগ্রাফার মার্ক ২০০৩ সালের মার্চ থেকে মে মাসে মোট নয় সপ্তাহ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে কাটান। এ সময় তিনি আমেরিকান সেনাবাহিনীর ১০১ এয়ারবর্ন ডিভিশনের তৃতীয় ব্রিগেডের সঙ্গে থেকে ছবি তোলার কাজ করেন।

সেদিন ছিল ৩১ মার্চ। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজাফে আমেরিকান সেনাবাহিনী পরিচালিত কারাগারের ছবি তোলার জন্য এসেছিলেন মার্ক। একপর্যায়ে তার চোখ পড়ে মাথায় কালো ব্যাগ, সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত এক লোকের দিকে। মাটিতে বসে আছে লোকটি। প্লাস্টিকের হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত দুটো পেছনে বাঁধা। বন্দির পাশেই হেলান দিয়ে বসে আছে আনুমানিক ৪ বছর বয়সের এক ভীত শিশু। চোখের পানি শুকিয়ে গালে লেগে আছে জলের দাগ। দু'জন সম্পর্কে পিতাপুত্র_ এমনটাই অনুমান ফটোগ্রাফার মার্কের। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক সেনা এসে বন্দির হাতের বাঁধন খুলে দিলেন, যেন ছেলেকে আদর করতে পারেন। খোলা হাত পেয়ে পরম মমতায় নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। ফটোগ্রাফিক দৃষ্টিকোণ থেকে এরকম একটি ছবি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটা বুঝতে পারলেন মার্ক। মুহূর্তেই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করে ফেললেন।

ওই বছরই ছবিটির জন্য ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কার পেয়ে যান মার্ক। ১২৪ দেশের ৪ হাজার ১৭৬ জন ফটোগ্রাফারের তোলা প্রায় ৬৩ হাজার ছবিকে পেছনে ফেলে এ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

ছবিটি তোলার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফটোগ্রাফার মার্ক বলেন, 'মানবতা আর পিতা-পুত্রের সম্পর্কের চমৎকার উদাহরণ এ ছবিটি। সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার একসময়ে নিজের কথা না ভেবে পিতা তার সন্তানকে নিরাপত্তা আর সাহস দিচ্ছেন। আমার নিজেরও একই বয়সের একটি মেয়ে আছে। নিজেকে যখন আমি ওই বন্দির স্থানে কল্পনা করি, তখন আমার শরীর শিউরে ওঠে। আমি চাই না আমার আর আমার সন্তানের পরিণতি কখনও এমন হোক।'

ফটোগ্রাফার মার্ক ছবির ব্যক্তি এবং তার সন্তানের নাম জানতে পারেননি। ছবি তোলার কিছুক্ষণ পরই আমেরিকান সেনাদের একটি গাড়ি এসে পিতা-পুত্রকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের ভাগ্যে কী জুটেছে, সেটা জানা যায়নি। হ