হীরক বৃষ্টি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

আশিক ইকবাল

'হীরা' পৃথিবীর মূল্যবান রত্নগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ রত্নটিকে তুলনা করা হয় নারীদের ভালো বন্ধু হিসেবে। এক টুকরা হীরক খণ্ডের জন্য মানুষ কত প্রাণান্তকর চেষ্টা করে থাকে_ তার বিবরণ দেওয়া বাতুলতা মাত্র। কিন্তু ভাবুন তো, এমন একটি জায়গার কথা_ যেখানে হীরক খণ্ডের বৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়তই, কিন্তু সেগুলো কুক্ষিগত করার মতো কেউ নেই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আমাদের সৌরমণ্ডলের দুটি গ্রহ শনি এবং বৃহস্পতিতে হীরক বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ দুটি গ্রহে অতিমাত্রায় হওয়া বৈদ্যুতিক ঝড় বায়ুমণ্ডলের মিথেন গ্যাসকে বস্তুগত কার্বন বা গ্রাফাইটে রূপান্তরিত করে, যা গ্রহভূমিতে পতিত হওয়ার সময় মূল্যবান হীরক খণ্ডে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রহভূমির অতিরিক্ত তাপমাত্রায় থাকার দরুন হীরক খণ্ডগুলো গলে গিয়ে ধীরে ধীরে গ্রহের কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয় এবং একত্রীভূত হয়ে গঠন করে হীরক সাগর।
বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব উইসকন্সিনের অধ্যাপক এবং গ্রহবিজ্ঞান বিষয়ের গবেষক ড. কেভিন বাইন্স জানান, শনি গ্রহে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার টন হীরার বৃষ্টি হয়ে থাকে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এই দুটি গ্রহে যাওয়া বা কোনো উপগ্রহ পাঠানো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব! তাহলে আপনি কীভাবে এতটা নিশ্চয়তার সঙ্গে এ বক্তব্য দিচ্ছেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, সবই রাসায়নিক গবেষণার ফল। এ দুটি গ্রহের বায়ুমণ্ডল এবং বৈদ্যুতিক ঝড়ের অত্যাধিকতার আলোকে আমরা এ গবেষণা শুরু করেছিলাম, যার ফল আজ আপনাদের সামনে। তিনি আরও জানান, 'সাম্প্রতিক গবেষণায় আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি, হীরক বৃষ্টির সময় পতিত হওয়া হীরাগুলো মাঝে মধ্যে খুবই ছোট হতে পারে আবার কখনও তা এতটাই বড়, যাকে কোনো সুউচ্চ পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।' পরিশেষে পাঠকদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, সৌরমণ্ডল থেকে ৪০ আলোকবর্ষ (১ আলোকবর্ষ = প্রায় ৫৮৭৮০০০০০০০০০ মাইল) দূরে '৫৫ ক্যানক্রি ই' নামে একটি গ্রহ আছে, যার পুরোটাই হীরা দিয়ে গঠিত। হ