ভুল

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

সোহানুর রহমান অনন্ত

দূর থেকেও ভালোবাসা হয়। না হলে কি আর আকাশ মাটি মুখোমুখি রয়। কবিতার চিঠির শুরুর লাইনগুলো ছিল এমন। আজ বেশ কিছু দিন যাবত ওর চিঠিগুলো পাচ্ছি আমি। সত্যি বলতে, এই মেয়েটিকে আমি চিনি না। তবুও চিঠিগুলো আমার কাছে আসছে। মেয়েটির নাম কবিতা_ এতটুকুই চিঠি থেকে জানি। প্রতি মাসে নয়, প্রতি সপ্তাহে একবার। আমি এর কোনো উত্তর দিইনি। এসব রোমান্স আবার আমার মাঝে নেই।
আমার বালিশের নিচে হলুদ খামের জাদুঘর। কোনোটা পড়েছি তো কোনোটা না পড়েই রেখে দিয়েছি। কোনো দায়িত্ববোধ নেই আমার। এ জন্য অবশ্য নিজেকে অপরাধীও মনে হয় না। আমি চাইলে একটা চিঠির উত্তর দিয়েই সব সমস্যার সমাধান দিতে পারি।
সেটা আমি করছি না। ওই যে বললাম, দায়িত্ববোধের অভাব আছে। তবে দায়িত্ববোধ থাকাটা যে কতটা জরুরি সেটা টের পেলাম কিছুদিন পর। বর্ষণমুখর এক সন্ধ্যায়। অফিস থেকে ফিরতেই দেখি, সুমনা দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। ওর হাতে হলুদ রঙের একটা চিঠি। চোখের কোণে জলের ছোটাছুটি। যে কোনো মহূর্তে ঝরে পড়তে পারে।
'আরে, কখন এলে?'
'অনেকক্ষণ। আচ্ছা, তুমি আমার কাছে লুকালে কেন?'
'কী?'
'তুমি অন্য একটি মেয়েকে ভালোবাস।'
'বিশ্বাস কর, এটা অন্য সমস্যা। এসো তোমাকে বলছি।' এই বলে সুমনার হাতটা ধরলাম। অমনি সুমনা ওর হাতটা ছাড়িয়ে নিল। দু'ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল ওর গাল বেয়ে।
'অভিনয় বন্ধ কর, আজকের পর থেকে তোমার সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই।' অনেকটা নাটকীয়ভাবে সব কিছু ঘটে গেল। চিঠিটা হাতে দিয়ে সুমনা দৌড়ে নেমে গেল সিঁড়ি বেয়ে। সুমনার সঙ্গে আমার তিন বছরের প্রেম। খুব তাড়াতাড়ি আমরা বিয়ে করব বলে ঠিক করেছিলাম কিন্তু...।
চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলাম। তার শেষ লাইনটি ছিল... জানো, বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। হয়তো আর কখনও তোমাকে চিঠি লেখা হবে না। তুমিও কেমন বলো, আমায় এত ভালোবাসতে অথচ দূরে গিয়ে একটি চিঠির উত্তরও দিলে না। আমি তোমার জন্য কাল সকালে চট্টগ্রাম স্টেশনে অপেক্ষা করব, আমার পুরো পৃথিবী তুমি। তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারি না। আমার বিশ্বাস, তুমি আসবে। আর যদি না আসো তবে...। এটুকু আমি বুঝে নিয়েছি। ছাদে একলা দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ভাবলাম। উত্তর একটাই_ ভুলের মাসুল। এখন আর দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। ব্যাগটা ঘুছিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম। একটা রিকশা নিয়ে চললাম কমলাপুর রেল স্টেশনের উদ্দেশে।
হশনির আখড়া, ঢাকা