কয়েক টুকরো শৈশব

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

কয়েক টুকরো শৈশব

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমি যখন ছোট ছিলাম পুরো পৃথিবীটা মনে হতো অসম্ভব জটিল। এ জটিল পৃথিবীর নানা কাজকর্ম কেন এভাবে এভাবে চলছে ভেবে আমি কোনো কূল-কিনারা পেতাম না। কখন, কী করতে হবে বা কখন, কী বলতে হবে আমি কিছুতেই ঠিক করতে পারতাম না। তাই কথাবার্তা বলতাম খুব কম, কাজ-কর্ম করতাম আরও কম। অনেক ভেবে-চিন্তে শেষ পর্যন্ত যখন কিছু একটা করতাম প্রায় সব সময় দেখা যেত কাজটা ভুল। যেমন ধরা যাক, আমার বড় মামার ব্যাপারটা।
আমরা যখন সিলেট থাকতাম আমাদের বড় মামা তখন মাঝে মধ্যে আমাদের সঙ্গে থাকতেন। বড় মামার নানা গুণ ছিল। মামা সিগারেটের ধোঁয়া দিয়ে টেবিলে এক ধরনের বল তৈরি করতে পারতেন। সেটা ফাটিয়ে দিলে ভেতর থেকে আগ্নেয়গিরির মতো ধোঁয়া বের হয়ে আসত। খেতে বসে আমাদের খেতে ইচ্ছা না করলে মামা ডাল-ভাত মাখিয়ে প্লেটে এক ধরনের কোলবালিশ তৈরি করে দিতেন এবং সেই বালিশটি খেয়ে ফেলা অনেক সহজ ছিল। তা ছাড়াও বড় মামা তিনটি ছবি আঁকতে পারতেন, একজন মানুষ টিউবওয়েল চেপে পানি বের করছে, একটি প্লেন আকাশে উড়ছে এবং একটি পাখি ডানা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বড় মামা যখন তার ওই তিনটি ছবির কোনো একটি আঁকতেন আমরা মুগ্ধ দৃষ্টিতে মামার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মাঝে মধ্যে মামা আমাদের পাখির পালক, প্লেনের যাত্রী বা টিউবওয়েলের পানির ফোঁটা আঁকতে দিতেন এবং সেটা করতে পেরে গর্বে আমাদের বুক দশ হাত ফুলে যেত।
আমি প্রাণপণে বড় মামার সব কাজকর্ম অনুকরণ করার চেষ্টা করতাম; কিন্তু সেই কাজটা খুব সহজ ছিল না। বড় মামা সিগারেট খেতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন, 'ম্যায় আওয়ারা হুঁ... ' গান গাইতে পারেন_ আমি তিন-চার বছরের একটা বাচ্চা, সেগুলো করব কী করে? কিন্তু একদিন হঠাৎ মামার একটা কাজ অনুকরণ করার সুযোগ এসে গেল। আমাদের বাসায় সীমানার মাঝে একটা কুয়া ছিল, গভীর কুয়া-চওড়া দেয়ালের রেলিং দিয়ে ঘেরা। একদিন বিকেল বেলায় দেখা গেল বড় মামা সেই কুয়ার রেলিংয়ে বাঁকা হয়ে শুয়ে বই পড়ছেন। গভীর কুয়ার নিচে কালো পানি চিকচিক করছে। তার রেলিংয়ে শুয়ে শুয়ে বই পড়তে বুকের পাটা লাগে। একটু গড়িয়ে গেলেই ঝপাং করে কুয়ার ভেতরে পড়ে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কথা। এ রকম একটা সাহসের কাজ যে আমাদের বড় মামা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ করতে পারবে না সে বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। আমরা ভাই-বোনরা মুগ্ধ দৃষ্টিতে আমাদের সেই অসীম সাহসী বীর বড় মামার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
এরপর থেকেই আমি কুয়ার আশপাশে ঘুরঘুর করি। একদিন যখন দেখলাম আমার আশপাশে কেউ নেই, খুব সাহস করে হাঁচড়ে-পাঁচড়ে কুয়ার রেলিংটার মাঝে উঠে গেলাম। গভীর কুয়ার নিচে কালো পানি দেখে ভয়ে আমার পেটের ভেতরে পাক দিয়ে উঠছে_ একটু অসাবধান হলেই তাল হারিয়ে নিচে পড়ে অন্ধকারে হারিয়ে যাব তবুও আমি খুব সাহস করে কুয়ার রেলিংয়ে বাঁকা হয়ে শুয়ে পড়লাম। তখনও আমার অক্ষর পরিচয় হয়নি, তাই পড়ার জন্য বড় মামার মতো একটা বই নিয়ে আসা গেল না।
আমি কুয়ার রেলিংয়ে শুয়ে আকাশের মেঘের দিকে তাকিয়ে আছি। বুকের ভেতরে একই সঙ্গে ভয়ের কাঁপুনি আর খুব বড় একটা কিছু করে ফেলার আনন্দ। ফুরফুরে বাতাস দিচ্ছে এবং শুয়ে থাকতে থাকতে একসময় চোখে একটু ঘুমঘুম নেমে এসেছে, হঠাৎ চিলের মতো গলায় কে যেন চিৎকার করে উঠল। মাথা ঘুরিয়ে দেখি আমার বড় বোন। আমার এত বড় একটা কাজ দেখে সে মুগ্ধ না হয়ে ভয় পেল কেন, ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। কিন্তু তার চিৎকারে কাজ হলো, বাসার ভেতরে যারা ছিল সবাই ছুটে বের হয়ে এলো। বড়দের মধ্যে কয়েকজন আমাকে ভড়কে না দিয়ে খুব শান্তভাবে কথা বলে ধীরে ধীরে কাছে এসে আমাকে জাপটে ধরে ফেলে সাবধানে নামিয়ে নিয়ে এলো। অন্য যে কেউ হলে তাকে ধরে মনে হয় শক্ত মার লাগানো হতো, কিন্তু আমাকে কেউ কিছু বলল না, ব্যাপারটা দুষ্টুমি নয়। দুষ্টুমি করার জন্য যেটুকু বুদ্ধি দরকার, আমার সেটুকু বুদ্ধি নেই।
এই কুয়া নিয়ে আরও গল্প আছে। কুয়ার পানি খুব পরিষ্কার ঝকমকে, বাসার সব কাজে এটা ব্যবহার করা হয়। একদিন হঠাৎ দেখা গেল, পানিতে বোঁটকা এক রকমের গন্ধ, কোনো কারণে পানিটা নষ্ট হয়ে গেছে। বড় মামা একই সঙ্গে আমাদের বাসার ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও সায়েন্টিস্ট। পানি পরীক্ষা করে বললেন, 'এই কুয়ার ভেতরে কিছু একটা পড়েছে। সব পানি সেচে তুলে কুয়া পরিষ্কার করতে হবে।'
দেখতে দেখতে কাজ শুরু হয়ে গেল। আরও কয়েকটা দড়ি-বালতি জোগাড় করে বড় মামার সঙ্গে আরও কয়েকজন মিলে পানি সেচে তুলতে শুরু করল। বিশাল হইচই ব্যাপার, ঝপাং করে কুয়ার মাঝে বালতি ফেলা হচ্ছে, দুদ্দাড় করে সেই বালতি টেনে তোলা হচ্ছে; হুশ করে সেই পানি কুয়াতলায় ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েকজন হাত লাগিয়েছে, দেখতে দেখতে কুয়া খালি হয়ে গেল। তখন আমাদের দুঃসাহসিক মামা একটা দড়ি বেয়ে সেই কুয়ার ভেতর নেমে গেলেন। আমার বড় দুই ভাই-বোন স্কুলে গেছে। যারা আমার ছোট তারা ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝার জন্য বেশি ছোট। কাজেই আমি একা এত বড় একটা ব্যাপার চোখের সামনে ঘটতে দেখছি, উত্তেজনায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
কুয়ার ভেতরে পানি নষ্ট করার অপরাধী একটা পচা মাছ পাওয়া গেল। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনে কুয়ার মাঝে পড়ে যাওয়া অনেক জিনিস আবিষ্কার হলো। জং ধরা নাট-বোল্ট, সবুজ রঙের শিশি, রঙিন কাচ, নুড়ি পাথর, প্লাস্টিকের চিরুনি, মাটির ভাঙা পুতুলসহ আরও কত কী! কত লক্ষ বছর থেকে না জানি এগুলো পানির নিচে আছে, উত্তেজনায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। বড় মামা কুয়ার ভেতর থেকে বের হয়ে এসে আমাকে সেসব রহস্যময় জিনিস দিয়ে দিলেন, আমি নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারি না।
দুপুরে আমার বড় ভাই-বোন দু'জন স্কুল থেকে এসেছে। আমি কথা বলি কম, বেশি বলতে গেলে তোতলামো এসে যায়; তবু তার মাঝে আমি বড় বড় করে বললাম, 'বল দেখি আজকে কি বড় মামা কুয়ার সব পানি সেচে ফেলেছেন কি-না?
আমার বড় ভাই-বোন দু'জন একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল, বলল, 'হ্যাঁ'।
তারা আজকে বাসায় ছিল না তবু ব্যাপারটা কীভাবে জেনে গেল ভেবে আমি খুব অবাক হয়ে গেলাম, আবার জিজ্ঞেস করলাম, 'বল দেখি সব পানি সেচে ফেলে বড় মামা দড়ি বেয়ে নিচে নেমে গিয়েছিলেন কি-না?'
তারা দু'জন আবার মাথা নাড়ল, 'গিয়েছিলেন'।
আমি আরও অবাক হয়ে গেলাম, কেমন করে সব কিছু বলে দিচ্ছে? এবার আমি আরও কঠিন প্রশ্ন করলাম, হাতে জং ধরা নাট-বোল্ট, রঙিন কাচ, মাটির পুতুল দেখিয়ে বললাম, 'বল দেখি এগুলো মামা কুয়ার ভেতর থেকে বের করে এনেছেন কি-না?'
আমার বড় ভাই-বোন দু'জন ফিক করে হেসে ফেলে বলল, 'হ্যাঁ, এনেছেন।'
আমি একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম। পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে তাদের অজান্তে, দেখেছি শুধুমাত্র আমি, তবুও কেমন করে সবকিছু জেনে গেছে? কেমন করে এটা সম্ভব? আমার বড় ভাইবোনের বুদ্ধি দেখে আমি একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
আমি যে বাড়াবাড়ি রকমের বোকা ছিলাম তার আরও অনেক প্রমাণ আছে_ যেমন আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল চিঠি পোস্ট করা। যেহেতু এই কাজটা আমার খুব প্রিয় তাই বাসায় কখনও চিঠি লেখা হলেই সেটা আমাকে পোস্ট করতে দেওয়া হতো। আমি সেই চিঠি হাতে নিয়ে গুটি গুটি হেঁটে যেতাম, ছোট রাস্তা পার হয়ে বড় রাস্তায়। বড় রাস্তার দোকানপাট পার হয়ে একটা বড় দোকান, তার কাছে একটা লাইটপোস্ট। সেই লাইটপোস্টের নিচে চিঠি ফেলার ডাকবাক্স। চিঠির ডাকবাক্সের কাছে এসেই আমার বুক ঢিপ ঢিপ করতে শুরু করত, কারণ আমার এই যে প্রিয় কাজ চিঠি পোস্ট করা, ডাকবাক্সের নিচে এসে আমার মনে পড়ত যে, আমি কাজটা করতে পারি না। আমি তখন সাইজে এত ছোট যে, আমার হাত ডাকবাক্সের ফুটো পর্যন্ত যায় না। কাউকে যে বলব চিঠিটা পোস্ট করে দিতে আমার সে রকম সাহস নেই।
কাজেই আমি বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে চিঠি পোস্ট করার দুঃসাহসিক কাজটা শুধু করে দিতাম। প্রথমে চেষ্টা করতাম, পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে লম্বা হয়ে চিঠি ফেলার, সেটা খুব ভালো কাজ করত না তখন চেষ্টা করতাম ডাকবাক্সটা বেয়ে বেয়ে ওপরে উঠে যাওয়ার, খিমচে খিমচে খানিকটা উঠে সব সময়েই পিছলে নেমে আসতাম। তখন চেষ্টা করতাম দূর থেকে ছুটে এসে লাফ দিয়ে খানিকটা ওপরে উঠে চিঠিটা ছুড়ে ভেতরে ফেলে দেওয়ার_ আমার সেই লাফঝাঁপ খুব দর্শনীয় ছিল এবং কিছুক্ষণ পার হওয়ার পর সব সময়েই কেউ না কেউ সেটা দেখতে পেত এবং সে আমার চিঠিটা পোস্ট করে দিত!
আমি যদিও খুব ছোট থাকতে আবিষ্কার করেছিলাম আমি একটা হাবাগোবা গোছের, সেটা নিয়ে আমার মনে কোনো দুঃখ ছিল না। আমার বড় দুই ভাইবোন খুব চালাক-চতুর সেটা জেনেই আমি খুব খুশি ছিলাম। আমি সব সময় তাদের পিছু পিছু ঘুর ঘুর করতাম। বড় ভাই সেই বয়সে মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্টে চা কিনে খেত, সেই গল্প শুনেই আমার রোমাঞ্চ হতো। বড় দু'জন তখন স্কুলে যেতে শুরু করেছে। সন্ধ্যাবেলা তারা পড়তে বসে আমিও সাথে সাথে বসি। পড়া জিনিসটা তখন আমার কাছে একটা রহস্যের মতো, তারা যখন সুর করে কিছু একটা পড়ে আমি মুখ হাঁ করে বসে তাদের দেখি। কাগজের মাঝে কালো হিজিবিজি লেখা তার মাঝে সব কথা লুকানো রয়েছে, তারা দেখেই সেটা বুঝে ফেলতে পারে। পড়ার থেকেও বড় রহস্য হচ্ছে লেখা। রুল টানা খাতায় গোটা গোটা করে তারা হাতের লেখা লিখতে থাকে। কী বিচিত্র সেই লেখা, দেখে আমি কিছুই বুঝতে পারি না, কিন্তু তার মাঝে কথা লুকানো রয়েছে।
যখন আশপাশে কেউ থাকে না তখন খুব মনোযোগ দিয়ে তাদের হাতের লেখাগুলো দেখি। দেখতে দেখতে হঠাৎ একটা জিনিস আবিষ্কার করে ফেললাম, লেখার মাঝে বেশ কিছু ছবি লুকানো রয়েছে। যে ছবিটা সবচেয়ে পরিষ্কার সেটা হচ্ছে, একটা হাতির মাথা। আমি তখনও পড়াশোনা শিখিনি বলে বুঝতে পারিনি যে, হাতির মাথাটা আসলে এই ইকারের ওপরের অংশটা, আমার ভাইবোন দু'জনেই সেটা লিখত খুব কায়দা করে, মনে হতো হাতির শুঁড়। হাতের লেখার মাঝে একটু পরে পরেই সেই হাতির মাথা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। হাতির মাথাগুলো দেখে কিছুক্ষণের মাঝেই আমি আরও একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম, ছবিগুলো অসম্পূর্ণ- কোনোটাতেই হাতির চোখগুলো আঁকা হয়নি। আমার ভাইবোন সময়ের অভাবে বা আলসেমি করে যে হাতির মাথায় চোখগুলো আঁকেনি সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না- তাদের সাহায্য করার জন্য তখনই আমি একটা কলম নিয়ে তাদের হাতের লেখার খাতায় সবগুলো হাতির মাথায় খুব যত্ন করে চোখ এঁকে দিলাম। দেখতে দেখতে নিরীহ হাতের লেখা খাতাগুলো একটা জীবন্ত ভাব ফুটে উঠল, অর্থহীন আঁকিবুঁকির মাঝে হাতির মাথাগুলো ড্যাব ড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। নিজের হাতের কাজ দেখে গর্বে আমার বুক দশ হাত ফুলে উঠল।
স্কুলে স্যারদেরকে সেই হাতের লেখার খাতা দেওয়ার পর কী ঘটেছিল আমি নিজের চোখে দেখিনি। খুব ভালো কিছু হয়েছিল সে রকম মনে হয় না; কারণ বাসায় এসেই দু'জনেই হৈ হৈ করে প্রায় আমার ওপরে চড়াও হয় হয় অবস্থা। অন্য কেউ হলে তার বারটা বেজে যেত সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু শুধু আমি বলে ছেড়ে দিল। কাজটি যে আমি দুষ্টুমী করে করিনি সরল বিশ্বাসে করেছি, সেটা নিয়ে তাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। ঘটনার প্রথম ধাক্কাটা কেটে যাওয়ার পর চোখ আঁকার জন্য দু'জনই তারে পুরনো হাতের লেখার খাতাগুলো আমাকে দিয়ে দিল।
তখন কী যে আনন্দ হলো আমার সে আর বলার মতো নয়। যতগুলো হাতির মাথা ছিল সবগুলোতে একটা করে ড্যাব ড্যাব চোখ এঁকে যে কী আনন্দ সেটা যারা করেছে শুধু তারাই বুঝতে পারবে।