নদীপাড়ের ছোট্ট একটা গ্রাম

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

সেলিনা হোসেন

মানুষ, প্রকৃতি এবং পরিবার- এই আমার অবলম্বন। সেই ছোটবেলা থেকে এরাই আমাকে বেড়ে ওঠার সাহস জুগিয়ে আসছে। এখনও দিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের পথে হেঁটে চলার উস্কানি। এরাই আমাকে খাদ থেকে টেনে এনে লেখালেখির বিস্তীর্ণ আর দিগন্তছোঁয়া হাইওয়েতে তুলে দিয়েছে। তাদের নিয়ে কত স্মৃতি! এই স্মৃতিমেদুরতা অনন্তকাল বয়ে বেড়ালেও ক্লান্তি ভর করবে না মস্তিষ্কে। সময়-অসময়ে আজও পেছনে ফিরে তাকাই। স্মৃতিমেদুরতায় ভুগি। খুব মনে পড়ে বাবার কর্মস্থল বগুড়ার কথা। মনে পড়ে আমাদের গণ্ডগ্রামের কথা। নদীপাড়ের ছোট্ট একটা গ্রাম। যেই গ্রামের অবাধ স্বাধীনতা ও উন্মুক্ত প্রকৃতি আজও আয় আয় ডাকে। গ্রামের মাঠঘাট, প্রান্তর, নদী আর গাছ বাওয়া। উঁচু গাছে চড়ে বাবাকে দেখে বকা খাওয়ার ভয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়া, ভাইবোন এবং অন্যান্য ছেলেমেয়ের সঙ্গে হল্লা করতে করতে স্কুলে যাওয়াই ছিল আমার রুটিন। আমাদের পাশেই রেশম চাষ হতো। বিশাল তুঁতের বাগান। বাবা ছিলেন সেই রেশম বাগানের বড়কর্তা। রেশমপল্লীর ভেতরেই থাকতেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছিল ডাকবাংলো, রেশম-কীট পোষার ঘর। এই তুঁতের বাগান পার হয়ে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের পাকা সড়ক ধরে পুলিশ লাইনের ভেতর দিয়ে স্কুলে যেতাম। স্কুল থেকে ফেরার পথে টিলায় উঠে পুলিশের বন্দুকের গুলি থেকে বেরিয়ে আসা সিসা কুড়িয়ে হানিফের দোকানে নিয়ে যেতাম। হানিফ মিয়া তা রেখে মুড়ি-মুড়কি দিতেন। কখনও ছোট ছোট রঙিন লজেন্স দিতেন। মনের আনন্দে তা চিবুতে চিবুতে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের পাকা সড়ক ধরে বাড়ি ফেরার পথ ধরতাম। বাড়ির কাছাকাছি এসে কে আগে ঘরে পেঁৗছাবে তা নিয়েও ভাইবোনদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। স্কুল থেকে ফিরেই বই-খাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পেট পুরে খেয়ে ছুট দিতাম মাঠে। মাঠজুড়ে পড়ে থাকত রাজ্যের খেলা। গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, ছি-বুড়ি ছাড়াও নিজেরা রাজ্যের খেলা বানিয়ে বানিয়ে খেলতাম। সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফিরে হারিকেনের আলোকে আপন পাঠে মন দিতাম। যখন যা-ই করতাম তাতে বাবার চোখরাঙানি তেমন না থাকলেও বাবা ছিলেন পড়াশোনার দিক থেকে কঠোর। বড্ড রাগী ছিলেন। তাই বাবাকে ভাইবোনরা ভয় পেতাম। তবে বাবা পুরোই বদলে যান চার-পাঁচ বছর বয়সী ছোট বোন লাকির মৃত্যুর পর। লাকির নেফ্রাইটিস অসুখ হয়েছিল। সে সময়ে ভালো চিকিৎসা না থাকায় লাকির নানারকম চিকিৎসা চলতে লাগল। এক কবিরাজ লাকিকে রাতে ধানের ওপর বসে থাকা শিশির খাওয়াতে বললেন। ছোট বোনকে সুস্থ করে তুলতে ধানক্ষেতে গিয়ে শিশির ঝরিয়ে বাটি ভরে নিয়ে আসতাম। দিনের পর দিন। কিন্তু বাঁচানো গেল না তাকে। কন্যা হারানোর পর বাবা একেবারে বদলে যান। সেদিন থেকে তিনি আর তার কোনো ছেলেমেয়ের গায়ে হাত তোলেননি। বাবার অবাধ স্বাধীনতা ছিল সন্তানদের জন্য। শুধু বাবা নয়, আমার মাও ছিলেন অসাধারণ গুণের অধিকারী। বাবার মতো করে মাও চাইতেন- মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। বড় হবে। সেই '৪৭-এর দেশভাগের সময় মা তার বড় দুই মেয়েকে পড়ানোর জন্য ভারতেশ্বরী হোমসে পাঠান। তবে দাদা চাইতেন অল্প লেখাপড়া শিখিয়ে নাতনিদের বিয়ে দেবেন। কিন্তু বাবা এর বিরোধিতা করেন। মা ছোট ছেলের জন্মের সময় প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। বড় দুই বোন মাকে এ অবস্থায় রেখে হোস্টেলে ফিরতে রাজি হতো না। মা মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি করে নিজের কাছে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন না। বরং মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দেন।
বাবার মাছধরা, শিকার করার নেশা ছিল। আমি তক্কে তক্কে থাকতাম বাবার সঙ্গে শিকারে যেতে। বাবা নিয়েও যেতেন। তিনি পাখি শিকার করতেন। খুব মায়া হতো পাখির জন্য। তবে বাবা গ্রামের সাধারণ মানুষের উপকার করতে চাইতেন সবসময়। তখন তেমন ডাক্তার-কবিরাজ ছিলেন না। বাবার কাছে আসত অসুস্থ মানুষ। তাদের জন্যই বাবা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শেখেন। চাকরির পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের তিনি ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিতেন। আর আমি ছিলাম বাবার কম্পাউন্ডার। বাবার বাক্স-পেটরা ঘিরে বসে থাকতাম। তিনি নির্দেশ দিলেই নির্দিষ্ট শিশি বের করে পুরিয়া বানানো শুরু করতাম। কিছু দিন বানানোর পর বেশ হাত এসে যায় পুরিয়ায়। রোগীদের অনেকেই চাইতেন আমি যেন তাদের পুরিয়া বানিয়ে দেই। কম্পাউন্ডিং ভালো করায় বাবা-ভীতিটাও কেটে যায়। বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। আমাদের প্রতি বাবা-মায়ের এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি তখন থেকেই নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। এর ভেতর চলছিল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাও। বগুড়ার লতিফপুর প্রাইমারি স্কুল দিয়ে শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা। সে সময়ে কাগজ-কলমে লেখার রেওয়াজ ছিল না। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আমরা স্লেটে লিখতাম। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোজ আমাদের একটি লাইন উচ্চারণ করাতেন 'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।' সবাই চিৎকার করে লাইনটি বলতাম। এই বলাতেও কেন যেন একটা আনন্দ খুঁজে পেতাম। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বগুড়ায় ভিএম (ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল) গার্লস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। সপ্তম শ্রেণী শেষ করার পর বাবা বদলি হয়ে যান। চলে যাই রাজশাহীতে। অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হই রাজশাহীর পিএন গার্লস স্কুলে। এই বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করি। এরপর রাজশাহী মহিলা কলেজে আইএ ক্লাসে ভর্তি হই প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে। এই কলেজে এসেও সবার সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কলেজে ওঠার পর নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করি। সব আরও রঙিন, আরও বর্ণিল মনে হয়। একদিন কলেজ শিক্ষক প্রফেসর আবদুল হাফিজ অ্যালেন গিন্সবার্গের 'হাউল' বইটি পড়তে দেন। বইটি পড়ে অভিভূত হই। লাইব্রেরির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ঘনিষ্ঠতা বাড়ে স্থানীয় এবং জাতীয় পত্র-পত্রিকার সঙ্গে। ঢাকা থেকে পত্রিকা আসত কলেজ লাইব্রেরিতে। তখনই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্য বই পড়ার সুযোগ পাই। এভাবেই লেখালেখির তাড়নাটা বাড়তে থাকে। আমার লেখালেখির শুরুটা মূলত '৬৪-৬৫ সালের দিকে। স্যাররা খুব স্নেহের চোখে দেখতেন। স্বপ্ন দেখাতেন লেখালেখিকে ঘিরে। আমিও লিখতাম। পাঠাতাম বিভিন্ন জায়গায়। লেখাও আসতে শুরু করে। একদিন শিক্ষক আবদুল হাফিজ বলেন, 'শুধুমাত্র মেয়েদের পাতায় লেখালেখি করো না। এতে একটা বৃত্তে আটকে যাবে। আর মেয়ে হয়েছো বলে ঘরে বন্দি থাকলে চলবে না। অনেক এগিয়ে যেতে হবে তোমাকে।' স্যারের কথাটা বেশ মনে ধরে। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি তখন নিজের একটা জগৎ তৈরি করে নিচ্ছিলাম। যেই জগৎ শুধুই লেখালেখিকে ঘিরে বেড়ে ওঠা। তখন সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা খুব হতো পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগুলোতেও। এর ভেতর আমাদের রাজশাহী কলেজের ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাজশাহী আন্তঃবিভাগীয় সাহিত্য প্রতিযোগিতা হয়। সেই প্রতিযোগিতায় গল্প লিখে গোল্ড মেডেল পাই। প্রতিযোগিতায় বাংলা-ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ও ইংরেজিতে নির্ধারিত বক্তৃতার আয়োজন ছিল। সব বিভাগেই ভালো করি। এতে সবার দৃষ্টি পড়ে আমার দিকে। চেনা মুখ হয়ে যাই। স্যারদের স্নেহ-ভালোবাসাটাও বেড়ে যায়।
রাজশাহী মহিলা কলেজ থেকে আইএ পাস করে একই কলেজে অনার্সে ভর্তি হই। আমাদের নিয়েই কলেজ অনার্স খোলার উদ্যোগ নেয়। এর ভেতর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মেলায় সহপাঠীদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ মাযহারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করি। স্যার আমাদের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে বলেন। কিন্তু আমরা এক বছর নষ্ট করতে রাজি নই। গেলাম উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসউল হকের কাছে। সমস্যার কথা উপাচার্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। কিছুদিন পর বাংলা বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে আমরা দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হওয়ার অনুমতি পেয়েছি। শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। এখানে এসেই ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প পাঠাই। প্রথম গল্প ছাপা হয় 'পুবালী' পত্রিকায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে নামডাক ছড়াতে থাকে। আমার লেখালেখির তাড়াটাও বেড়ে যায় ভেতর থেকে। তখন ড. মাযহারুল ইসলাম, ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী এবং ড. মুস্তাফা নুরউল ইসলামের সম্পাদনায় 'উত্তর অন্বেষা', 'পূর্বমেঘ' এবং ঢাকার 'মাহে নও', 'পুবালী' পত্রিকাতে লেখা ছাপা হতে থাকে। ওদিকে রাজনীতিতেও জড়িয়ে পড়ি। যোগ দিই ছাত্র ইউনিয়নে (মতিয়া গ্রুপে)। দলের পক্ষে সভা-মিছিলে অংশ নেওয়া, প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন লেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজই করতাম আগ্রহ নিয়ে। এরই ফলে মন্নুজান হলের ছাত্রী সংসদের সাধারণ সম্পাদিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (রাকসু) দু'বার সহকারী কমনরুম সেক্রেটারিও নির্বাচিত হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদ বছরে একবার সাহিত্য প্রতিযোগিতার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। তাতে ছিল সরব উপস্থিতি এবং নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করতাম। সে সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এবং জিন্নাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। জিন্নাহ হলের বার্ষিক নাটকে অভিনয় করার জন্য তিনি আমাকে নায়িকা নির্বাচিত করে অভিনয় করতে বললেন। সঙ্গে সঙ্গেই অভিনয়ে আপত্তি জানাই। অধ্যাপক সিদ্দিকী আমার বাবার কাছে ফোন করে বলেন যে, 'আপনার মেয়ে আমার কথা শুনছে না।' শেষ পর্যর্ন্ত শিক্ষকের তাগাদা এবং বাবার বকাবকিতে রাজি হই। আমি 'ক্ষুধা' নাটকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য প্রতিযোগিতায় চারবার চ্যাম্পিয়ন হই। তারপর ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে কর্মজীবন শুরু করি বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছিলাম ১৯৬৮ সালে। চাকরি পাওয়ার আগের দু'বছর বিভিন্ন পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় লিখতাম। তবে '৭০ সালে দুটো চাকরির ইন্টারভিউয়ের চিঠি পাই। একটি বাংলা একাডেমিতে অন্যটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে সরকারি কলেজের জন্য। দুটো চাকরিই হয়। বাংলা একাডেমির চাকরিতেই যোগ দিই শুধুই লেখালেখির কথা ভেবে। বাংলা একাডেমিতে চাকরি পাওয়ার পর 'অভিধান প্রকল্প,' 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প,' 'বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলি প্রকাশ,' 'লেখক অভিধান,' 'চরিতাভিধান' এবং 'একশত এক সিরিজের' গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করি। ২০ বছরেরও বেশি সময় 'ধান শালিকের দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করি। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হই। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকরি থেকে অবসর নিই। তবে অবসর পাই না লেখালেখি থেকে। এই লেখালেখি নিয়ে কত পরিকল্পনা, কত আইডিয়া এসে মাথায় ঘুরে। মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পের দিনগুলো নিয়ে উপন্যাস লেখার কথা সেই কবে থেকে ভাবছি। সব তথ্য-উপাত্ত জোগাড়ও করেছি। কিন্তু লেখায় হাত দিতে পারছি না। রোহিঙ্গাদের নিয়ে উপন্যাস লেখার কথা ভাবছি। প্রত্যেকটা লেখা নিয়েই ভাবতে হয়। আমি একটা উপন্যাস শুরুর আগে সেই পটভূমিটাকে যদি নিজের মতো আপন করতে না পারি তবে কলম হাতে তুলতে পারি না। 'পোকামাকড়ের ঘর বসতি' লিখার আগে বারবার জেলেদের কাছে গিয়েছি। দিনের পর দিন সাগরে ঘুরেছি তাদের নৌকায়। জেলেরা জলের গভীরে গিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে খাবার তুলে দিয়েছিল। তাদের পোঁটলার গুড়-মুড়ি খেয়েছি। এভাবে পরিবেশটাকে নিজের করে নিয়ে লেখায় হাত দিয়েছি। শুধু জেলেদের কাছ থেকেই নয়, আমি যখন যেখানে গিয়েছি সেখানেই সাপোর্টিংটা পেয়েছি। এই সাপোর্টিংটা আমার জীবনের বড় একটা পাওয়া। সেই ছোটবেলায় টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় লেখা পাঠাতাম। লেখা ছাপা হলে মা ২ টাকা হাতে দিয়ে বলতেন, 'থাক, টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে আর খাম কিনতে হবে না, এই নাও খামের টাকা।' শুধু মায়ের কাছ থেকেই নয়, যখন যেখানে গিয়েছি সেখানেই এই সহযোগিতাটা পেয়েছি। এটাই আমার এক জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর মানুষ এবং প্রকৃতি তো আছেই। এই তিন সখাই আমাকে লেখালেখির কিউপিড হয়ে ভালোবাসা বিলিয়ে যাচ্ছে। যে ভালোবাসা পুঁজি করে বাকিটা পথ হেঁটে যেতে চাই লেখালেখির উন্মুক্ত হাইওয়েতে!