শেষ দুর্গ

সেরা ১০ গোলকিপার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

আহমাদ শামীম

গোলের খেলা ফুটবল। গোলেই হার, গোলেই জিত। কিন্তু এই গোল বাঁচাতে আবার প্রতি দলে থাকে একজন করে গোলকিপার বা গোলরক্ষক। বেরসিক গোলকিপার গোল ঠেকিয়ে যেমন দলকে বাঁচান তেমনি প্রতিপক্ষকে পোড়ান হতাশার অনলে। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের ইতিহাস হাজার বছরের। আধুনিক ফুটবলও ইতিমধ্যে পার করেছে প্রায় দুই শতক। পেলে, ম্যারাডোনা কিংবা হাল আমলের মেসি-রোনাল্ডোদের ফুটবল ক্যারিশমা এবং গোল করার দক্ষতা যেমন মানুষ মনে রেখেছে তেমনি গোল ঠেকিয়ে দিয়েও ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন গোলকিপার। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক [আইএফএফএইচএস] ফুটবল সমর্থক, খেলোয়াড় এবং কোচদের ভোটে বিংশ শতাব্দীর সেরা গোলকিপারদের একটি তালিকা করেছে। বেরসিক কিন্তু গ্রেট_ এমনই কয়েকজন গোলরক্ষকের কথা জেনে নেওয়া যাক...
লেভ ইয়াসিন
মহান গোলরক্ষকদের তালিকায় প্রথম নামটি লেভ ইয়াসিনের। কারণটাও যথার্থ, গোলবার আগলে রাখার প্রচেষ্টাকে তিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। অসম্ভব ক্ষিপ্রতা, বলের ওপর শকুনের চোখ, লম্বা ডাইভ, দুর্দান্ত রিফ্লেক্স এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার কারণে 'ব্ল্যাক প্যানথার' বা কালো চিতা ছিল তার ডাক নাম। ১৯২৯ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহরের এক দরিদ্র পরিবারে লেভ ইয়াসিনের জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সর্বগ্রাসী প্রভাবের কারণে মাত্র ১২ বছর বয়সে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় ১৮ বছর বয়সে রুশ ক্লাব ডায়নামো মস্কোর ইয়ুথ টিমে যোগ দেন তিনি। লেভ ইয়াসিনের সিনিয়র ফুটবলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫০ সালে। ১৯৫৪ সালে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। জাতীয় দলের হয়ে ৭৮টি ম্যাচ খেলা লেভ ইয়াসিন জয় করেছেন ১৯৫৬ সালের সামার অলিম্পিকস মেডেল এবং ১৯৬০ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। এ ছাড়াও অংশ নিয়েছেন ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। লেভ ইয়াসিনের একক প্রচেষ্টায় প্রথম দুই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পেঁৗছায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে লেভ ইয়াসিনের অসাধারণ দক্ষতায় সেরা চারে জায়গা করে নেয় তার দল। ১৯৬৩ সালে একমাত্র গোলকিপার হিসেবে ব্যালন ডি'অর জয়ী লেভ ইয়াসিন মোট ম্যাচ খেলেছেন চারশ'রও বেশি। ফিফার তথ্য মতে, খেলোয়াড়ি জীবনে ১৫০টির বেশি পেনাল্টি শট ফিরিয়েছেন এবং ২৭০টি ম্যাচ কোনো গোল হজম করেননি 'ব্ল্যাক প্যানথার' খ্যাত লেভ ইয়াসিন।
গর্ডন ব্যাংকস
সেরা গোলকিপারদের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের গর্ডন ব্যাংকস। ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া ব্যাংকস কৈশোরে ছিলেন কয়লা খনির শ্রমিক। শখের বসে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইংলিশ ক্লাব চেস্টারফিল্ডের নজরে আসেন তিনি। চেস্টারফিল্ড, লেস্টার সিটি, স্টোক সিটি ও ফোর্ট লওডারডেল স্ট্রাইকার্স ক্লাবের হয়ে ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৬২৮টি ক্লাব ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৬৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। খেলোয়াড়ি জীবনে গর্ডন ব্যাংকসের প্রধান সফলতা ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৬০ সালের বিশ্বকাপ জয়। তার অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড। '৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্যাংকস পেলের হেড থেকে প্রায় নিশ্চিত যে গোল সেভ করেছেন সেটা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপিং হিসেবে বিবেচিত। জাতীয় দলের হয়ে ৭৩টি ম্যাচ খেলে ৩৫টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি তিনি। হেরেছেন মাত্র নয়টি ম্যাচে।
দিনো জফ
অনেক রেকর্ডের মালিক দিনো জফকেই অনেকে সর্বকালের সেরা গোলকিপারের আখ্যা দিতে চান। সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জয়ী দিনো জফ রয়েছেন তালিকার তৃতীয় স্থানে। দিনো জফের জন্ম ১৯৪২ সালে ইতালিতে। ফুটবলে ভালো না করলে ম্যাকানিক হিসেবেই ক্যারিয়ার গড়বেন, এমনটাই ছিল তার ইচ্ছা। কিন্তু ফুটবল তাকে দিয়েছে দু'হাত ভরে। ইতালিয়ান ক্লাব উদিনিসে খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু, পরবর্তীতে মান্টোভায় কিছুদিন তারপর ক্লাব ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় কেটেছে নেপোলি ও জুভেন্টাসে। ১৯৬৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে দিনো জফের অভিষেক হয় জাতীয় দলে। তার চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্সে ভর করে ইতালি সেবার ঘরের মাঠে শিরোপা জয় করে। সবেচেয়ে বেশি সময় গোল হজম না করার এক অনন্য রেকর্ডের মালিক দিনো জফ ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বমোট ১১৪২ মিনিট অপরাজিত ছিলেন। ৪০ বছর বয়সে ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেন দিনো জফ। কোয়ার্টার ফাইনালে ফেভারিট ব্রাজিলের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামাল দেওয়া ও শেষ মিনিটে গোল লাইন থেকে বল সেভ করে ৩-২ গোলের ব্যবধানে দলকে সেমিতে নিয়ে যান দিনো জফ একাই। সেমিতে পোল্যান্ডকে হারানোর পর তৎকালীন পরাশক্তি পশ্চিম জার্মানিকেও রুখে দেন ঠাণ্ডা মাথার দিনো জফ। ৩-১ গোলে জয়ী হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে সোনালি ট্রফি জয় করে গড়েন আরেক রেকর্ড।
সেপ মায়ার
জার্মানির শতাব্দী সেরা গোলরক্ষকের খেতাব পাওয়া সেপ মায়ার রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। গোলবারের নিচে তার দুর্দান্ত রিফ্লেক্স, সুতৎপরতা এবং দৃঢ়তার জন্য 'আনজিংয়ের বিড়াল' ছিল তার ডাক নাম। পশ্চিম জার্মানির হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য সেপ মায়ারের জন্ম ১৯৪৪ সালে মিতেন শহরে। ক্লাব ক্যারিয়ারের পুরো সময় কেটেছে বায়ার্ন মিউনিখে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি একটানা ৪৪২টি ম্যাচ খেলেছেন! ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপ দলে প্রথম ডাক পান মায়ার। ওই বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও '৭০ সালের বিশ্বকাপের সব ম্যাচেই খেলেন। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচে ইতালির কাছে সেমিফাইনালে হেরে জার্মানরা বিদায় নেয়। '৭৪-এর বিশ্বকাপে গার্ড মুলার, বেকেনবাওয়ারদের সমন্বয়ে গড়া দল আর সেপ মায়ারের গোলবার আগলে রাখার দক্ষতায় সেবার বিশ্বকাপ জেতে পশ্চিম জার্মানি।
রিকার্ডো যামুরা
গত শতাব্দীর শুরুতে জন্ম নেওয়া রিকার্ডো যামুরা রয়েছেন তালিকার পঞ্চম স্থানে। আধুনিক ফুটবলের প্রথম দিককার অন্যতম আলোচিত নাম রিকার্ডো যামুরার জন্ম ১৯০১ সালে স্পেনের বার্সেলোনায়। ডাক্তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ না করে যামুরা মাত্র ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে নাম লেখান। নায়কোচিত চেহারা আর নাক উঁচু মনোভাবের জন্য বিতর্ক তার পেছনে লেগেই থাকত। দুটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন তিনি। মাথায় ক্যাপ, উঁচু কলারের ফুল স্লিভ টি-শার্ট পরে ফুটবল মাঠে তার উপস্থিতিই ছিল দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে। এসপায়োনাল, বার্সেলোনা, নিস ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন ক্লাব ফুটবল। স্পেনের প্রথম ফুটবল দলের প্রধানতম সদস্য হয়ে ১৯২০ সালের অলিম্পিকে জেতেন সিলভার মেডেল। স্পেনের গৃহযুদ্ধ চলাকালীন কাতালান একাদশের হয়েও মাঠে নামেন যামুরা। এ ছাড়া স্পেনের হয়ে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপেও অংশ নেন তিনি।
জোসে লুইস চিলাভার্ট
নব্বই দশক পরবর্তী বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত নাম চিলাভার্ট। ১৯৬৫ সালে প্যারাগুয়ে জন্ম নেওয়া চিলাভার্টের পুরো নাম জোসে লুইস ফেলিক্স চিলাভার্ট গঞ্জালেজ। খামখেয়ালি আচরণ, রাগী মনোভাব এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত করলেও মাঠে ফ্রি কিক, পেনাল্টি এবং গোল করার দারুণ ক্ষমতার জন্য চিলাভার্ট আলোচনায়ই থাকতেন সব সময়। ১৯৮২ সালে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করা চিলাভার্ট খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্যারাগুয়েজুড়ে জনপ্রিয়তা পান। গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডিফেন্ডারদের মতো ট্যাকেল করা, বলের ওপর তীক্ষষ্ট নজর আর দারুণ রিফ্লেক্স তাকে নিয়ে গিয়েছে অনন্য স্থানে। '৯০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন গোলবার সামলে রেখে পাশাপাশি গোল করেও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন ১৯৯৮ সালে। সেবারই তিনি দুনিয়া জোড়া খ্যাতি লাভ করেন। এ ছাড়া ফ্রান্সের বার্থেজের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হন। '৯৫, '৯৭, '৯৮ সালে ফিফার বর্ষসেরা গোলরক্ষকের মর্যাদা লাভ করেন চিলাভার্ট। দেশের হয়ে খেলেছেন ৭৪টি ম্যাচসহ ক্লাব ক্যারিয়ারে খেলেছেন ছয়শ'রও বেশি ম্যাচ। ফুটবল জীবনে চিলাভার্ট গোল করেছেন মোট ৬৭টি। গোলদাতা চিলাভার্ট একমাত্র গোলকিপার, যার ঝুলিতে একটি হ্যাটট্রিকও আছে।
পিটার স্মাইখেল
ছয় ফুট তিন ইঞ্চি আর প্রায় একশ' কেজি ওজনদার মানুষটি শতাব্দী সেরা গোল কিপারদের তালিকায় আছেন সপ্তম অবস্থানে। নাম তার পিটার স্মাইখেল। ১৯৬৩ সালে ডেনমার্কে জন্মগ্রহণ করেন স্মাইখেল। ক্লাব ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কেটেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। দীর্ঘ গড়ন, প্রচণ্ড শক্তি, ডুয়েল ব্যাটেল জয়, বিপক্ষ দলের স্ট্রাইকারদের মাইন্ড রিড করার দক্ষতা, ক্ষিপ্রতা এবং নিজ দলের খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করার ক্ষমতার জন্য পিটার স্মাইখেল অনেকের চেয়ে ছিলেন আলাদা। ১৯৮৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের হয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। অংশগ্রহণ করেছেন '৯৮-এর বিশ্বকাপে। দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় অর্জন ১৯৯২ সালের ইউরো কাপ জয়। ক্লাব ক্যারিয়ারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন ৩৯৮টি, যার মধ্যে ১৮০টির বেশি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি। গোল বাঁচানোর পাশাপাশি আক্রমণ করতেও তার জুড়ি মেলা ভার। মাঝ মাঠ ছাড়িয়ে বিপক্ষ দলের গোল সীমানায় দেখা গেলে তাকে অবাক হতো না কেউ! চিলাভার্টের মতো অতটা আগ্রাসী ছিলেন না, তবে নামের পাশে গোল আছে তার। গোল করেছেন মোট ৭টি।
পিটার শিলটন
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোলের কথা এলেই পিটার শিলটনের কথা মনে পড়বে সবার। পিটার শিলটনকেই যে বোকা বানিয়ে হাত ছুঁইয়ে গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাব এবং ইংল্যান্ডের হয়ে এক হাজারের বেশি ম্যাচ খেলা শিলটন রয়েছেন শতাব্দী সেরা গোল কিপারদের তালিকার আট নম্বরে। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এই গোলকিপারের জন্ম ১৯৪৯ সালে। ত্রিশ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচটি আলাদা ক্লাবের হয়ে ১০০টি করে ম্যাচ খেলেছেন শিলটন। '৮০ ও '৮৮ সালের ইউরো কাপ এবং '৮২, '৮৬ ও '৯০ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের রক্ষণদুর্গ সামলেছেন তিনি আস্থার সঙ্গে। ক্লাব ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময়ই খেলেছেন দ্বিতীয় সারির লীগে। তবুও জাতীয় দল, মানুষের মনে বা সেরাদের কাতারে জায়গা করে নিতে বেগ পেতে হয়নি তাকে।
ফ্রন্টিসেক প্লানিকা
৫ ফুট আট ইঞ্চির ছোটখাটো গড়নের মানুষটির নাম ফ্রন্টিসেক প্লানিকা। চেকোস্লোভাকিয়া এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক শতাব্দী সেরা গোলকিপারদের তালিকায় রয়েছেন নয় নম্বরে। ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করা প্লানিকা স্ট্রাইকারদের হতাশ করতেন অহরহ। চেক ক্লাব স্লেভিয়া প্রাগে খেলেছেন ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়। ১৭ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলেছেন ৯৬৯টি, জয় লাভ করেছেন ৭৪২টি ম্যাচে। ১৩টি লীগ শিরোপাসহ জয় করেছেন অসংখ্যা শিরোপা। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়াকে ফাইনালে তুলেছেন গোলবার সামলে রেখে। তৎকালীন পরাশক্তি ইতালির কাছে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে দ্বিতীয় হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করে চেকরা। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক এক ম্যাচে ভাঙা হাত নিয়েও লড়াই করেন শেষ পর্যন্ত। বিবাদ, সংঘর্ষ আর সংঘাতের ওই ম্যাচে ব্রাজিলের একজন ও দু'জন চেক প্লেয়ার ভাঙা হাত-পা নিয়ে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন। অ্যাক্রোবেটিক স্টাইলের জন্য তার ডাক নাম ছিল 'প্রাগের বিড়াল'।
আমাদেও রাউল ক্যারিজো
শতাব্দী সেরা গোলকিপারদের তালিকায় দশ নম্বরে রয়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আমাদেও রাউল ক্যারিজো। তার জন্ম ১৯২৬ সালে আর্জেন্টিনার রাফিনো শহরে। গোলকিপিংয়ের ধারণা, কিপিং স্টাইল ও আগ্রাসী মনোভাব এমন অনেক কিছুর প্রবক্তা ক্যারিজো। আধুনিক ফুটবলে গোলকিপারদের পেনাল্টি কিক, স্পট কিক বা ডি-বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা প্রথম শুরু করেন রাউল ক্যারিজো। যার দরুন 'টারজান' নামে ডাকা হতো তাকে। তিনিই প্রথম গ্গ্নাভস ব্যবহার করে গোলকিপিং শুরু করেন। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন তিনি। ওই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে প্রথম পর্বে একাই হারিয়ে দেন ক্যারিজো। দুর্ভাগ্যবশত চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৬-১ গোলের লজ্জাজনক পরাজয় তার ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এই হারের কারণে জাতীয় দল ও ক্লাব থেকে নিয়মিত জায়গা হারান। অনেক প্রথমের একজন আমাদেও রাউল ক্যারিজো ৯০ বছর পার করে এখনও জড়িয়ে আছেন ফুটবলের সঙ্গে। ...গত শতাব্দীর সেরা দশজনের বাইরে ব্রাজিলের সান্তোস নেভেস, হল্যান্ডের প্যাট্রিক নেভিস, মেক্সিকোর অ্যান্তোনিও কারবাজাল, বেলজিয়ামের জিন ম্যারি ফাফের কথা এই অল্প পরিসরে আলোচনায় আনা গেল না। কিংবা এই শতাব্দীর স্পেনের ইকার ক্যাসিয়াস, ডেভিড ডি গিয়া, ইতালির জিয়ানুলুকা বফন, জার্মানির অলিভার কান, ম্যানুয়েল নায়ার, ফ্রান্সের ফ্যাবিয়ান বার্থেজ, হুগো লরিস, চিলির ক্লাদিও ব্রাভোর মতো সেরাদের নামও নেওয়া গেল না। আগামী শতাব্দী হয়তো বর্তমানের সেরাদের একদিন মূল্যায়ন করবে সেরাদের সেরা হিসেবে।