১৯৭১ রাজশাহী : প্রতিরোধের দিন

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

প্রথম প্রতিরোধ:পুলিশ লাইনের যুদ্ধ

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা রাজশাহী পুলিশ লাইন দখল করার জন্য পুলিশের ওপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। বাঙালি পুলিশের নেতৃত্বে থাকেন হাবিলদার আতিয়ার রহমান। ২৬ মার্চ সকালে হাবিলদার আতিয়ার অস্ত্রাগারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুলিশ সদস্যদের হাতে তুলে দিয়ে প্রতিরোধযুদ্ধের আহ্বান জানান। তিনি পুলিশ লাইনে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করেন। পুলিশ লাইনে প্রতিরোধের প্রস্তুতির সংবাদ পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে পৌঁছে যায়। ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সেনারা আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশ লাইনের কাছাকাছি এসে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশ লাইন থেকেও গুলি ছোড়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে পাকিস্তানি সেনারা উপশহরের সেনানিবাসে ফিরে যায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে কয়েকজন নিরীহ লোক প্রাণ হারান। ২৬ মার্চ রাত প্রায় ১২টা ৫ মিনিটে পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব দিকের ফাঁকা জায়গা দিয়ে পুলিশ লাইনের দিকে এগোতে থাকে। পুলিশ সদস্যদের প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ২৭ মার্চ সকাল থেকে আবারও পাকিস্তানি বাহিনীর তৎপরতা বাড়তে থাকে। পুলিশ লাইনকে ঘিরে তারা আধুনিক ও ভারী অস্ত্র স্থাপন করে। বিকেলে পাকিস্তানি সেনারা পূর্বদিক থেকে গুলি ছুড়তে শুরু করে। হাবিলদার আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরাও তখন রাইফেলের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেন। সারারাত গোলাগুলি চলে। পুলিশ সদস্যরা সুরক্ষিত অবস্থানে থাকায় পাকিস্তানি বাহিনী পুলিশ লাইনের দিকে এগোতে পারেনি। রাতের যুদ্ধে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়।

২৮ মার্চ সকাল ১০টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর একজন মেজর রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সাহায্য নিয়ে গোলাগুলি বন্ধ করতে পুলিশ বাহিনীকে মাইকে আহ্বান করে। দুই পক্ষ থেকে গুলি করা বন্ধ হলে মেজর তার পাঁচ-ছয়জন সঙ্গী নিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় পূর্বদিক থেকে পুলিশ লাইনে যায়। ভবিষ্যতে উভয়পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে- এ আশ্বাস দিয়ে নিজের বাহিনী নিয়ে সেনানিবাসের দিকে চলে যায়। পুলিশ সদস্যরা মেজরের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে প্রতিরক্ষা সরিয়ে ব্যারাকে ফিরে আসেন। দুপুর ২টার দিকে পুলিশের সদস্যরা খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় পাকিস্তানি বাহিনী মর্টার ও ভারী মেশিনগান নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। বোয়ালিয়া ক্লাবের ছাদ থেকে নিক্ষেপ করা মর্টারের প্রথম শেলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বর্তমান পুলিশ স্কুলের প্রায় একশ' গজ পশ্চিমে আইনজীবী গোলাম মোস্তফার বাড়িতে আঘাত করে। এতে গোলাম মোস্তফা, তার ছেলে, ভাগনেসহ পাঁচজন শহীদ হন। পরের শেলটি আঘাত করে পুলিশ লাইনের ওয়্যারলেস টাওয়ারে। সেটি ভেঙে যায়। কয়েকটি ব্যারাকে আগুন লেগে যায়। পুলিশ সদস্যরা শুরু থেকেই পুলিশ লাইনের উত্তর ও পূর্বদিককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে পাকিস্তানি বাহিনী সেদিক দিয়ে এগোতে পারেনি। কিন্তু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বদিক প্রায় অরক্ষিত ছিল। এই দুর্বলতা টের পেয়ে একদল সেনা এদিক দিয়ে অতর্কিতে পুলিশ লাইনে ঢুকে আক্রমণ চালায়। ঘটনার আকস্মিকতায় পুলিশের সদস্যরা দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। যারা বাঙ্কারে ছিলেন, তারা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সন্ধ্যার আগেই পুলিশ লাইনের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানিদের হাতে চলে যায়। শেষ হয় রাজশাহীর প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধ। পুলিশ লাইনের ভয়াবহ যুদ্ধে শহীদ হন অন্তত ৬৯ পুলিশ সদস্য।

ঝলমলিয়া লোহার ব্রিজের যুদ্ধ

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ পুলিশ লাইনের পতন হয়। এরপর ৪ এপ্রিল ক্যাপ্টেন গিয়াস রাজশাহী এলে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত রাজশাহী শহর শত্রুমুক্ত ছিল। ওই সময় ক্যাপ্টেন গিয়াসের নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মিদের ক্যান্টনমেন্টে একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তাদের মুক্ত করতে ঢাকা থেকে রওনা দেয় অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনী। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে রওনা দেওয়া সাঁজোয়া বাহিনীকে রাজশাহীতে প্রথম প্রতিরোধ করা হয় ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া লোহার ব্রিজে। ওই দিন পাকিস্তানি সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক বাহিনী রাজশাহীর দিকে আসছিল। আগে থেকেই ঝলমলিয়া ডাকবাংলোতে অবস্থান নিয়েছিলেন ১৩ জন আনসার সদস্য। তাদের হাতে ছিল থ্রি নট থ্রি রাইফেল। পাকিস্তানি বাহিনী ঝলমলিয়া লোহার ব্রিজ পার হওয়ার সময় আনসার সদস্যরা পাকিস্তানি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তখন পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে আনসার সদস্য আবুল হোসেন ও তৈমুর মুন্সী শহীদ হন। পাকিস্তানি বাহিনী হাটের বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। ঝলমলিয়া হাটের পাটের গুদাম, দোকানপাট ও বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে নির্বিচারে ধ্বংসলীলা চালায়। তারা পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া ও জিউপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এবং পুঠিয়া বাজার এলাকায় প্রবেশ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করে রাজশাহীর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। া
ইশতেহার কি আমাদের জন্য

ইশতেহার কি আমাদের জন্য

আমরা ভাসতে ভাসতে ডুবতে ডুবতে সময়ের গ্রন্থিগুলো পার হচ্ছি। অনেকটা ...

জাপার কৌশল নাকি বিদ্রোহ

জাপার কৌশল নাকি বিদ্রোহ

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থেকেও দলটির বিপক্ষে ১৪৮টি আসনে প্রার্থী ...

বিদ্রোহীদের নিয়ে তবুও অস্বস্তি দুই জোটে

বিদ্রোহীদের নিয়ে তবুও অস্বস্তি দুই জোটে

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আনোয়ারুল আবেদীন ...

ফয়সালা আজই!

ফয়সালা আজই!

ঐচ্ছিক অনুশীলনে সিনিয়রদের কেউই আসেননি। ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার ...

প্রথম স্বীকৃতিদাতা ভুটান

প্রথম স্বীকৃতিদাতা ভুটান

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ ...

শেষ মুহূর্তের মনোনয়ন পাল্টে দিল সমীকরণ

শেষ মুহূর্তের মনোনয়ন পাল্টে দিল সমীকরণ

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ ...

ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল 'বোমা লিটন'

ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল 'বোমা লিটন'

পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সহিদ 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হওয়ায় দলছুট ...

ঢাকার ২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬৪ প্রার্থী

ঢাকার ২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬৪ প্রার্থী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনে (ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮) ...