কে এই হামলাকারী

মুসলিম ও অভিবাসী বিদ্বেষ থেকেই হামলা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। ২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন টারেন্ট। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। বন্দুক নিয়ে হামলা চালানোর কিছুক্ষণ আগে ইন্টারনেটে সে একটি ৭৪ পাতার ইশতেহারও প্রকাশ করেছে। সেই ইশতেহারের লাইনে লাইনে ছিল মুসলিম বিদ্বেষ, ঘৃণা আর শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের চরম মতাদর্শের কথা। খবর বিবিসি ও এএফপির।

এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড পুলিশ এ হামলাকারীকে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে পরিচয় প্রকাশ করেছে। এরপর হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থি। সে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক। তবে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলমানদের ওপর হামলা চালায় ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদেও হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয়

মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি-না, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, যে বন্দুকবাজ হামলার লাইভ ভিডিও সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচার করেছিল, তার নাম ব্রেন্টন টারেন্ট। এই নামে টুইটারেও একটি অ্যাকাউন্ট আছে তার। ফেসবুকেও সে নিজেই ১৭ মিনিট ধরে ওই হামলা চালানোর ভিডিও দেখিয়েছে। যদিও হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিও।

প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিল। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ম্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ফ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।

এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্কট মরিসন বলেছেন ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্র মনোভাবের অধিকারী ডানপন্থি উন্মত্ত জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক। তবে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায়

বন্দুকধারী যে মতাদর্শ প্রকাশ করেছে, তাতে রয়েছে মোট ৭৪টি পাতা এবং প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ শব্দ। এই ইশতেহারটিকে সে প্রকাশ করেছে 'দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট' নাম দিয়ে। সেখানে এই মতাদর্শের মাধ্যমে 'নতুন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ' নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদেরই পৃথিবীজুড়ে সব সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউরোপের মাটি থেকে বিদেশিদের তাড়াতে এবং ইউরোপের লাখ লাখ শ্বেতাঙ্গকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে এই ইশতেহারে। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য নিয়ে একটি স্লোগানও দেওয়া হয়েছে এতে। বলা হয়েছে, আমাদের নিজেদের মানুষদের অস্তিত্বের বিষয়টি আমাদেরই দেখতে হবে। কারণ, আমাদের শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যৎ আমাদেরই মতো।