তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

১ জুন শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে সমকাল ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশ আয়োজিত 'তারুণ্যের বাজেট' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো-

মুস্তাফিজ শফি

কয়েক বছর ধরে সমকাল ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) যৌথভাবে প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করছে। আমরা তরুণদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছি এবং সেটা পত্রিকায় প্রকাশ করছি। সমকাল চায় বাজেটসহ সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা হোক তারুণ্যনির্ভর। তরুণরাই দেশকে আজকের অবস্থানে এনেছে। আমরা মনে করি, বাজেট হতে হবে কর্মসংস্থানবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং উন্নয়নবান্ধব। আর এটা করতে হবে তরুণদের প্রত্যাশা মাথায় রেখেই। আমাদের দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে অনেক কিছুতেই আমরা ভালো করছি, উদাহরণ সৃষ্টি করছি। তবে এ ক্ষেত্রেও যদি আত্মতৃপ্তিতে ভুগি, তাহলে বেশিদূর যেতে পারব না। স্বপ্ন দেখতে হবে আকাশছোঁয়া। একই সঙ্গে সেটা বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এটাও ভাবতে হবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সব খাত ভালো করছে না। সব খাত যেন একসঙ্গে ভালো করতে পারে, সম্মিলিতভাবে সেই উদ্যোগই নিতে হবে।



এম. এ. মান্নান

সহজে ব্যবসা করার সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণে দেশের অনেক বদনাম হচ্ছে। এ সূচকে উন্নতির জন্য নেওয়া উদ্যোগে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। যার যে দায়িত্ব রয়েছে, সময়ক্ষেপণ না করে করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী চান ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে সংস্কার আনতে। কিন্তু এটি অনেক কঠিন কাজ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে আইনে অনেক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বন্দরে অনেক সময়ক্ষেপণ করছে। দেশে অনেকে তথ্যপ্রযুক্তিতে ভালো করছেন। তাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা এমন একটি সফটওয়্যার দেন, যার মাধ্যমে বন্দরে পণ্য আসা-যাওয়া সহজ হতে পারে। বাংলাদেশে সুশাসন নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। দেশের ভেতর ও বাইরে চিন্তাবিদরা প্রতিনিয়ত আলোচনা করেন। আমি মনে করি, সুশাসনের প্রশ্নে ৭০ শতাংশ ঠিকঠাক আছে। সমস্যা আছে ৩০ শতাংশ। এটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। শুধু আমরা এগিয়ে নই, অন্যরাও এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ চুপচাপ বসে নেই। আমাদের কাজ করতে হবে। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।



সেলিমা আহমাদ এমপি

বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। এখানে মানবসম্পদের উন্নয়ন ছাড়া উপায় নেই। তরুণদের এগিয়ে নিতে দুটি বিষয় জোর দিতে হবে। সবার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। কুমিল্লার হোমনা ও ঢাকার ছেলেরা একই শিক্ষা পাচ্ছে না। দুই ঘণ্টার দূরত্বের দুই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যদিও গণতন্ত্র সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার কথা বলে। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানে পোশাক খাতের বড় অবদান রয়েছে। অন্যান্য খাতের অবদান আরও বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চামড়া, আইসিটি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সম্প্রসারণে কাজ করা উচিত। তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার দরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাসজমি দুর্বৃত্তদের দখলে আছে। সেই জমিতে কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবস্থা করা যায়। বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হোক। এই তহবিল ভালো উদ্ভাবনে আর্থিক সহায়তা করতে পারে। তাছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে তরুণদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে। সব মন্ত্রণালয় থেকে তরুণদের জন্য সহায়ক পরিকল্পনা করা উচিত।



মোজাফফর হোসেন এমপি

বাংলাদেশের রফতানির ৮০ শতাংশ অর্থ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসছে। পোশাকের দুটি ভাগ- একটি নিটওয়্যার, অন্যটি ওভেন। নিটের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল স্থানীয় বস্ত্র খাত থেকে আসছে। কিন্তু ওভেন গার্মেন্টের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাপড়ের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ স্থানীয় উৎসের। ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কাপড় আমরা বিদেশে থেকে আমদানি করি। এ অবস্থায় টেক্সটাইল খাতে বড় বিনিয়োগের সুযোগ আছে। সরকার এখানে তরুণদের এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে পারে। সরকার ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে, যেখানে টেক্সটাইল শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রতিটি শিল্প কারখানায় চার থেকে পাঁচ হাজার লোক যুক্ত হলে বড় কর্মসংস্থান হবে। এক সময় বিনিয়োগের বড় বাধা ছিল অবকাঠামো ও বিদ্যুতের সংকট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়েছে। জমির সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন আমাদের প্রধান সমস্যা ব্যাংকের ঋণের সুদহার। ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদ দিয়ে শিল্প চালানোর মতো অবস্থা নেই। সত্যিকারের ব্যবসায়ীরা সব সময় ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে চান। ঋণের সুদ কমিয়ে আনা গেলে শিল্পের বিকাশ হবে। এক সময় পাটের বিকাশ হয়েছিল। তবে সরকার এখন এ খাত নিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে। শ্রমিকরা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছে না। আসলে সঠিক জায়গায় সঠিক লোকের অভাব আছে। আমি বস্ত্র খাতের লোক অথচ বস্ত্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কোনো দায়িত্বে আমি নেই। আমি বস্ত্র ও পাট সম্পর্কে জানি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বস্ত্র ও টেক্সটাইল। সেখানে টেক্সটাইলের লোক নেই। পলিথিন দেশের পরিবেশের বিরাট ক্ষতি করছে। বলা হচ্ছে, পলিথিন বাদ দিয়ে পাট ব্যবহার করা হবে, কিন্তু বাস্তবে নেই। কর্মসংস্থানের বিষয়ে বলব, তরুণদের পাটকলে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেকেই চাকরি না পেয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। শুধু জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলে হবে না, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।



ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ

আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের নিয়ে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরে। এর স্লোগান ছিল 'তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি'। কর্মসংস্থান তরুণদের একটি বড় চিন্তার জায়গা। সরকার আগামী পাঁচ বছরে অন্তত দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। এ জন্য ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। ইতিমধ্যে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রস্তুত ১১টি ইজেড প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে তরুণরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতমুক্ত সহজ ঋণ পাচ্ছে। এটি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি একটি বড় চিন্তার জায়গা। ভবিষ্যতে চাকরি বা কর্মসংস্থানের ধরন পাল্টে যাবে। কৃষিকাজে যারা জড়িত তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করে আরও কর্মক্ষম করে তুলতে চায় সরকার। তরুণদের সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। তরুণদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। মাদকাসক্তির পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে জোর দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের শঙ্কার জায়গাগুলোয় আমরা নজর দিতে চাই।



ইরফান ইসলাম

আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরুণদের মতামত তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। শিক্ষাব্যবস্থার একটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলতে চাই। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন। বাংলার প্রচলন সব জায়গা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আগে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হতো। এখনকার তরুণদের মধ্যে বাংলার শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দেশের সঙ্গে সংযোগ রাখতে বাংলার খুব প্রয়োজন। চাপ প্রয়োগ করে হলেও বাংলা শেখাতে হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়টা তোলা উচিত। আমরা আশা করি, আজকের সভায় তরুণদের উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ পরিকল্পনামন্ত্রী সঠিক জায়গায় তুলে ধরবেন।



আবুল কাশেম খান

বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কর্মসংস্থান তখন হয়, যখন উদ্যোক্তারা শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ অনেকদিন ধরেই একই জায়গায় আছে। এর কারণ, সহজে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হচ্ছে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগ হচ্ছে না। তিন বছর কোম্পানি পরিচালনা না করে শেয়ারবাজারে যেতে পারছে না। বিনিয়োগকারীদের ব্যবসার শুরুতেই অর্থের সংস্থানের জন্য শেয়ারবাজারে সুযোগ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এ ছাড়া সরকার ভর্তুকি দিয়ে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, যা বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এগুলো সরকার বেসরকারি খাতে দিতে পারে।



সৈয়দ আলমাস কবির

তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তরুণদের একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। এ দেশের তরুণরা এ খাতে বেশি মনোযোগী। আইসিটি এমন একটি ব্যবসা যেখানে মেধা দিয়ে কাজ করতে হয়। এখানে বড় বড় অফিসের দরকার নেই। দরকার একটি ল্যাপটপ ও সুলভমূল্যে মানসম্পন্ন ইন্টারনেট। আইসিটিকে সরকার অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ খাতে অবকাঠামোর সমস্যা আছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুলভমূল্যে মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে তরুণরা এর মাধ্যমে আয় করতে পারবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রকল্প হচ্ছে। ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে এখনই প্রকল্প নেওয়া উচিত। বর্তমানে আইসিটি উত্তরণ পর্যায়ে রয়েছে। সমস্যা হলো, দক্ষ লোকের অভাব। আমাদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে- এ নিয়ে সন্দেহ নেই। দক্ষ জনবল থাকলে এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় আমরা তৈরি পোশাকের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারতাম। দক্ষতা উন্নয়নে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নিতে পারে। সরকারের পরিকল্পনায় এখানে নজর দিতে হবে।



নাজমুস সাদাত

আমরা দক্ষতা উন্নয়ন বা তরুণ সমাজ গড়ার কথা বলি। কিন্তু কোনোটিই শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ছাড়া হবে না। বর্তমানে জিডিপির ২ শতাংশের মতো ব্যয় হচ্ছে শিক্ষা খাতে। এই ব্যয় নিয়ে দৃশ্যমান কিছু করা সম্ভব নয়। ঢাকা শহরে অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। তবে মানের দিক থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। প্রশ্ন হলো, আমরা কোথায় বেশি গুরুত্ব দেব। প্রাথমিক শিক্ষা না বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় দেব। প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে একজন শিক্ষার্থী যদি প্রকৃত শিক্ষা না পেয়ে উচ্চ শিক্ষায় আসে, তাহলে তার কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করতে পারি না। শিক্ষকদের মানোন্নয়নে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণা বাড়াতে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিক্ষা কারিকুলাম সাজাতে হবে। কারিগরি দক্ষতানির্ভর শিক্ষায় আরও জোর দিতে হবে।



সাখাওয়াৎ হোসেন মামুন

যারা ব্যবসা করছেন, তাদের দিন শেষে ঝুঁকি আছে। গুলশানের একটি মার্কেটে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দোকানের বীমা ছিল বলে তারা টাকা পেয়েছে। কিন্তু ডিএনসিসি মার্কেটে তিন শতাধিক দোকানের বীমা ছিল না। তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেনি। সরকারের দিক থেকে বীমা করার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত। যদি ট্রেড লাইসেন্সের সঙ্গে বীমার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে তরুণ উদ্যোক্তারা দুর্ঘটনায় সর্বস্বান্ত হবেন না। এতে রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি ভবনের নিরাপত্তাও বাড়বে। লিমিটেড কোম্পানিকে টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয়, কিন্তু প্রোপ্রাইটরশিপ কোম্পানিকে তা দিতে হচ্ছে না। এতে লিমিটেড কোম্পানি নিরুৎসাহিত হচ্ছে।



নূরুল আমিন

তারুণ্যের সুবিধা পেতে পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমাদের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান আছে মাত্র ২৫ শতাংশ। প্রতি বছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে আসছে। এদের মধ্যে চার থেকে পাঁচ লাখ তরুণের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হলে বাকিদের বিষয়ে যথাযথ পরিকল্পান নিতে হবে। আমাদের এখন শ্রমঘন শিল্পে নজর দেওয়া উচিত। তৈরি পোশাকের বাইরে পাট, টেক্সটাইলসহ অন্যান্য শ্রমঘন শিল্পে কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যায়, তার চিন্তা করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া প্রয়োজন।



আরিফ খান

তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তরুণরা চাকরি চাইলে চাকরি দিতে হবে। ব্যবসা করতে চাইলে টাকা দিতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা করতে হবে। কেউ কেউ বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের টাকা দিলে তা ফেরত আসে না। এটা সঠিক নয়। আইডিএলসির ঋণের মাত্র ২ শতাংশ খেলাপি। তরুণ উদ্যোক্তাদের দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা নির্দেশনা দেওয়া উচিত। আর সবকিছুই কেন ব্যাংক ঋণে হতে হবে? মূলধন সহায়তা দিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গঠন করা দরকার। দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। অনলাইনে কর পরিশোধ ব্যবস্থা আরও সহজ করতে হবে। ব্যবসা শুরু করার পর পাঁচ বছরের কর অব্যাহতি দিতে হবে।



তৌফিকুল ইসলাম খান

সার্বিক বাজেট কাঠামোর বাইরে তরুণদের জন্য আলাদা কিছু করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাজেটে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় সম্পদ সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ। আবার বড় বাজেট করা হয়, কিন্তু তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। বাংলাদেশে তরুণ সমাজ বহুপাক্ষিক। আজকের আয়োজনে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু উদ্যোক্তাদের বাইরে বড় সংখ্যক তরুণ রয়েছে, তাদের জন্যও সরকারকে ভাবতে হবে। এ জন্য তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে বড় কাজ। তাদের দক্ষতা দিতে হবে, যাতে সহজে শ্রমবাজারে আসতে পারে। গত ১০ বছরে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। বিবিএসের পরিসংখ্যান বলছে, নতুন উদ্যোক্তা ও নতুন শিল্প কম হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তারা এসএমই থেকে শুরু করেন। সেখানে ভালো করতে না পারলে বড় উদ্যোগও হবে না। তরুণরা যাতে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আসে সে জন্য প্রণোদনা দিতে হবে। নীতি সহায়তা দিতে হবে। এতে যেমন নতুন উদ্যোক্তা হবে, তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।



আসিফ ইব্রাহিম

দেশের সামনে এলডিসি থেকে উত্তরণ, এসডিজি অর্জনসহ অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ ব্যবসায়ীদের উদ্যোগগুলো যাতে সহজে বাস্তবায়ন হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণদের কর ছাড় দিতে হবে। সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতি করতে হবে। ঋণের সুদহার কমাতে হবে। সরকার চাইছে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামাতে। কয়েকটা ব্যাংক তা করেছিল। অধিকাংশই পারেনি। এখন বিদেশি তহবিল নেওয়ার সুযোগও সীমিত। বিকল্প হিসেবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গঠনের সুযোগ করে দিতে হবে এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর করমুক্ত রাখতে হবে। তৈরি পোশাকের বিকল্প কোনো শিল্প হচ্ছে না। চামড়া শিল্প এগোচ্ছিল, তিন বছর ধরে ভালোই করেছে। হাজারীবাগ থেকে সরানোর পর থেকে নিম্নগামী। তৈরি পোশাকের বিকল্প বের করতে হবে। অন্য খাতে প্রণোদনা দিয়ে হলেও উদ্দীপ্ত করতে হবে। কারণ তৈরি পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিজিএমইএর বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২২টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা টিকতে পারছেন না। এ জন্য বিজিএমইএ ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা চেয়েছে। পাশাপাশি উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসাবে বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে। বলা হয়, তৈরি পোশাক শিল্প অনেক রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায়। প্রকৃতপক্ষে যেসব সুবিধা পায়, তা খুব বেশি নয়। বাংলাদেশের এখন মুদ্রা বিনিময় নীতি করার সময় এসেছে। বলা হয় ওপেন মার্কেট, কিন্তু তা নয়। বাংলাদেশের প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান কমানো হয়েছে। বাংলাদেশে তা করা হয়নি। কর্মসংস্থানের জন্য সরকারকে দক্ষতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ইকোনমিক জোনগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।



হাছান ও. রশিদ

সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিচ্ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো কম সুদে আমানত পাচ্ছে না এবং তাদের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমছে। ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ কমছে। বিকল্প হিসেবে সরকারকে বন্ড মার্কেটে যেতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর হলেও ইউএস ডলার বন্ড চালু সম্ভব হয়নি।







নাভিদ হক

আমি স্টার্টআপদের কথা বলতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনেক স্টার্টআপ হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের স্টার্টআপ কোম্পানি ইউএসএ, দুবাই কিংবা সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সিস্টেমই নতুনদের জন্য সহায়ক নয়। অনেক জটিলতা রয়েছে। একটি কোম্পানি নিবন্ধন করতে গেলে নানান ডকুমেন্ট দিতে হয়। এরপরও তারা তহবিল পায় না। নতুনরা ব্যবসার শুরুতে নিজের টাকা খরচ করে। তারপর পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে নেয়। এরপর যায় ব্যাংকে। ব্যাংক নতুনদের ঋণ দিতে আগ্রহ দেখায় না। এখন স্টার্টআপরা চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক তহবিল নেওয়ার। বিদেশি তহবিল দাতারাই বলছে, তোমরা অমুক দেশে কোম্পানি ইনকরপোরেট করো। আমাদের সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতি করতেই হবে।



এসএম ফরহাদ

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৯৪ শতাংশই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। কিন্তু মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারে ১১ দশমিক ২ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এত বেশি ভ্যাট থাকলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। গ্রাহকদের ইন্টারনেট কম দামে দিতে হবে। আর তরুণদের বিষয়ে বলব, তাদের দক্ষতা বাড়ানো দরকার। সিম ট্যাক্স মওকুফ করা দরকার। আসন্ন বাজেটে সিম ট্যাক্স বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে না। মোবাইল খাতের করপোরেট করও কমানো দরকার। যে খাত দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে সেই খাতকে করের বোঝায় দাবিয়ে রাখার যৌক্তিকতা দেখা দরকার।



ইমরান করিম

নতুন বিনিয়োগ হলেই কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে। যারা ঋণ দিচ্ছে তারা বেশি সুদ নিচ্ছে। সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারের প্রথম বাধা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। যারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করছে তাদের সুদ বেশি দিতে হবে! যারা খেলাপি তারা মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার একটি নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ইচ্ছাকৃত খেলাপি সৃষ্টি হবে। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের ঋণ বিতরণ সীমিত করা হয়েছে। এতে বিদেশি ব্যাংকের ব্যবসা বাড়বে। আমরা চাই দেশের অর্থ দেশে থাকুক। বিদ্যুৎ খাতের জন্য স্বল্প মেয়াদি একটি তহবিল করা যেতে পারে। রাজস্ব বোর্ডকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে হবে।



আশরাফুল হক সিয়াম

স্বাস্থ্য খাত নিয়েই কথা বলব। বাংলাদেশের তরুণরা অনেক স্বপ্ন দেখে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে তরুণ চিকিৎসকরা বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দেয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কোনো সম্মানী দেওয়া যায় কি-না তা সরকারকে ভাবতে হবে। কোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকেই সে দেশের উন্নয়নের চিত্র ফুটে ওঠে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে না। অনেক বছর ধরেই বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে না। হাসপাতালগুলোয় ফ্লোরে রোগী বেশি থাকছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই।



মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান চৌধুরী

অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সুশাসন নিশ্চিত করা। নতুবা উন্নয়ন টেকসই হবে না। সুশাসন ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশেরই উন্নয়ন টেকসই হয়নি। পাশাপাশি উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান থাকতে হবে। বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। তবে বাজেট কতটা মানসম্পন্ন হচ্ছে তা নিয়ে কাজ হচ্ছে না। মানসম্পন্ন বলতে বাস্তবায়ন, কোন খাতে কী ধরনের বরাদ্দ এগুলো দেখা দরকার। টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে।



সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার

কর্মসংস্থান বাড়াতে সবচেয়ে বেশি দরকার দক্ষ মানবসম্পদ। দক্ষতার অভাবে বছরে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ব্যবস্থার কারণে তৈরি পোশাক খাতে কর্মসংস্থান কমবে। অন্যদিকে প্রবাসী আয়ও প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। এসব ঘাটতি দূর করতে দক্ষতা সবচেয়ে জরুরি। এখন সময় তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে মনোযোগ বাড়ানো। এ জন্য নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় পরিবর্তন আসতে হবে।



শামস জামান

বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যেমন নতুন উদ্যোক্তা আছে, তেমনি অভিবাসী শ্রমিকও আছে। উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতা বাড়ানো দরকার। সরকার দক্ষতা উন্নয়নে কিছু কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা দরকার। অভিবাসীদের দক্ষতা বাড়লে রেমিট্যান্স বাড়বে। পাশাপাশি প্রবাসে যারা দক্ষ আছেন, তাদের একটা পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। কীভাবে শুরু করতে হয়, কীভাবে দরকষাকষি বা সমঝোতা করতে হয়- এসব বিষয় স্টার্টআপদের শেখা দরকার। ঋণের সুদহার কমানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।



আমিনুল হক

বিশ্বব্যাপী ইসলামিক বন্ড ইস্যু হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও এর মধ্যে নেই। বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করলে সঞ্চয়পত্রের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমত। ব্যাংক খাতে তারল্য সরবরাহ বাড়ত। অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। মধ্যম পর্যায়ের কর্মীদের দক্ষতা খুবই জরুরি। বাংলাদেশের এখন উৎপাদনশীলতায় মনোযোগ দিতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বন্দর ব্যবস্থাপনা ঠিক হলে বর্তমান অবকাঠামোতেই উৎপাদন ১৫ শতাংশ বাড়ানো যাবে।



ব্যারিস্টার সাজিদ সামি আহম্মদ

সরকারকে অবশ্যই রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৫ লাখ টিআইএনধারী। টিআইএনধারীদের অনেকেই আবার করদাতা নয়। ব্যাংকের এফডিআরের মুনাফায় টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ কর নেওয়া হয়। আর না থাকলে ১৫ শতাংশ নেওয়া হয়। এটা পরিবর্তন করে করদাতা হলে কর ছাড় পাওয়ার নিয়ম করতে হবে। দেশ থেকে অনেক টাকা পাচার হয়েছে, এমন কথা বলা হয়। টাকা দেশে ফেরতের জন্য একটা প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।



শাহেদ আলম

এখন প্রযুক্তি পরিবর্তন হচ্ছে। ডিজিটাল সেবায় সবচেয়ে বেশি স্টার্টআপ কোম্পানি এসেছে। বাংলাদেশে এ খাতে অনেক কাজ যেমন হচ্ছে, তেমনি অনেক দুর্বলতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতকে অনুসরণ করা যেতে পারে। এ জন্য অনেক আইন পরিবর্তন করতে হবে। ভারত ২২টি আইন পরিবর্তন করেছে। সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতি করতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে ৫ বছরের জন্য ছাড় দিতে হবে।

প্রধান অতিথি



এম. এ. মান্নান

পরিকল্পনামন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার



বিশেষ অতিথি



সেলিমা আহমাদ এমপি

সভাপতি

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি



মোজাফফর হোসেন এমপি

বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তা



ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী



সঞ্চালক



মুস্তাফিজ শফি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সমকাল



আলোচক



সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার

অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



আবুল কাশেম খান

সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার



আসিফ ইব্রাহিম

পরিচালক, বিজিএমইএ



সৈয়দ আলমাস কবির

সভাপতি, বেসিস



নূরুল আমিন

সাবেক সভাপতি

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ



আরিফ খান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইডিএলসি



হাছান ও. রশিদ

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইস্টার্ন ব্যাংক



ইমরান করিম

পরিচালক, কনফিডেন্স গ্রুপ



নাভিদ হক

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মোহাম্মদী গ্রুপ



এসএম ফরহাদ

মহাসচিব, অ্যামটব



মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান চৌধুরী

উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রাইম ব্যাংক



শামস জামান

ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং, সিটি ব্যাংক, এনএ বাংলাদেশ



তৌফিকুল ইসলাম খান

সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সিপিডি



নাজমুস সাদাত

অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক



সাখাওয়াৎ হোসেন মামুন

ভাইস চেয়ারম্যান, ভাইয়া গ্রুপ



আশরাফুল হক সিয়াম

মহাসচিব, কার্ডিয়াক সার্জন সোসাইটি বাংলাদেশ



ব্যারিস্টার সাজিদ সামি আহম্মদ

পরিচালক, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি.



আমিনুল হক

সিএফও, নগদ



শাহেদ আলম

হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স, রবি আজিয়াটা



ধন্যাবাদ জ্ঞাপন



ইরফান ইসলাম

সভাপতি, জেসিআই বাংলাদেশ



অনুলিখন



শেখ আবদুল্লাহ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, সমকাল



মিরাজ শামস

স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল



পৃষ্ঠপোষকতায়



প্রাইম ব্যাংক, রূপায়ণ গ্রুপ, ওয়ালটন,

বিএনও লুব্রিক্যান্ট এবং ওমিকন গ্রুপ



পাওয়ার্ড বাই



জেসিআই ঢাকা নর্থ