একটি শিশুও যেন সহিংসতার শিকার না হয়

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

দেশে শিশুমৃত্যু, পোলিও, শিক্ষা ও বাল্যবিয়ের নানা সূচকে অগ্রগতি হয়েছে। তবু ঘরে-বাইরে শিশুর ওপর সহিংসতা থেমে নেই। বাল্যবিয়ের পাশাপাশি নির্মম হত্যা-নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে অনেক শিশু। তাদের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়তে কারও দ্বিমত নেই। তবে শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। যেন আর একটি শিশুও সহিংসতার শিকার না হয়। গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৩০ বছর উদযাপন উপলক্ষে দৈনিক সমকালের সঙ্গে যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ (শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন ছয়টি সংস্থা- এডুকো, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশ, তেরে দাস হোমস ও ওয়ার্ল্ড ভিশন)।

মুস্তাফিজ শফি

১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে 'শিশু অধিকার সনদ' গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট বিশ্বের প্রথম সারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ সনদে স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ সরকার সনদটিতে স্বাক্ষর করার পর শিশু অধিকার রক্ষায় অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও তাদের কর্মকৌশল গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে শিশু অধিকার সনদে অন্তর্ভুক্ত অনুচ্ছেদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যার ফলে দেশে শিশুশিক্ষার হার বেড়েছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, স্কুলে শারীরিক শাস্তি অবৈধ করা হয়েছে এবং শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। দেশ পোলিওমুক্ত হয়েছে, বাল্যবিয়ে কমেছে। এগুলো ইতিবাচক দিক। তবে এত সফলতার মধ্যেও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আমরা গণমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ ছাপতে চাই না। আজকের আলোচনায় ওয়ার্ল্ড ভিশন উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ৬৯৭ শিশু ধর্ষণ ও ২৮৫ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ৫৯ শতাংশ মেয়ে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসছে। ১৮ শতাংশকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় ১৫ বছরের আগেই। সুকান্তের 'ছাড়পত্র' কবিতায় শিশুর জন্য যে পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, তেমনি আমি, আমরা সবাই চাই শিশুর জন্য নিরাপদ বসবাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে উঠুক। গণমাধ্যমে যেন আর কোনো শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশ না করতে হয়- এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। সবাই মিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা সমাজকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাব, যেখানে একটি শিশুও নির্যাতনের শিকার হবে না। আমাদের চাওয়া একটাই- শিশু তার অধিকার পাবে; বাসযোগ্য দেশ ও সমাজ পাবে। সরকার, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা, গণমাধ্যম সবাই মিলে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করলেই কেবল সেটি অর্জন করা সম্ভব।



ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ঘোষণার ১৫ বছর আগেই বঙ্গবন্ধু শিশু অধিকার আইন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার সনদে স্বাক্ষর করার পর শিশু অধিকার রক্ষায় জাতীয় শিশু নীতিমালা-২০১১, শিশু আইন-২০১৩, জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা-২০১০ এবং জাতীয় শিশুশ্রম নিরোধ নীতিমালা-২০১০ প্রণয়নসহ আরও অনেক নীতিমালা তৈরি করে, যা প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতৃমৃত্যু হ্রাস করতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিসহ নানা খাতে সাফল্যের অংশ হিসেবে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ের হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে যেন দেশে শিশুর প্রতি সহিংসতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়, সে লক্ষ্যেও নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরের বিভিন্ন পরিকল্পনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করেছে। ২০০৭ সালে যেখানে ১৮ বছরের নিল্ফেম্ন বাল্যবিয়ের হার ছিল ৭৪ শতাংশ, ২০১৭ সালে সেটি কমে হয়েছে ৪৭ শতাংশ। ২০০৫ সালে ১৫ বছরের নিচে বাল্যবিয়ের হার ছিল ৩২ শতাংশ, ২০১৭ সালে এটি মাত্র ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। ১২ বছরের ব্যবধানে এ ক্ষেত্রে সাফল্যই সরকারের লক্ষ্যপূরণের প্রেরণা। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে। বাবা অথবা মা তার সন্তানকে মেরে ফেলছে। আবার সন্তানও তার বাবা-মাকে মেরে ফেলছে। নৈতিক বিপর্যয় ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার একা চাইলে এটি নিরোধ করা সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।



মাহজাবিন খালেদ

সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় শিশু অধিকারবিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাসেরও সদস্য ছিলাম। ওই সময় বাংলাদেশের সব শিশুর সুরক্ষা, শিশুর সুষম বিকাশ ও শিশু অধিকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, এনজিও, ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছি। এই ককাস এনজিওর সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা ও সরকারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার একটা মাধ্যম। কারণ, এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অবস্থান এবং চাহিদা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা যায়। এসডিজিতে ১৭টি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এখানে শিশুর জন্য আলাদা কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রতিটির মধ্যেই শিশুর উন্নয়ন, অধিকার ও সুরক্ষার বিষয় রয়েছে। শিশুর উন্নয়ন-সুরক্ষা মানেই সামগ্রিক উন্নয়ন। আগে শিশুদের জন্য আলাদা করে কোনো বাজেট ছিল না। ২০১৫ সালে এই ককাসের মাধ্যমেই শিশুদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটে ১৫ দশমিক ১৩ ভাগ বরাদ্দ ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৩৩ ভাগ। আগামীতে ২০ ভাগে উন্নীত করার টার্গেট রয়েছে। দিনে দিনে শিশুর অধিকার রক্ষায় ও উন্নয়নে সরকার অনেকদূর এগিয়েছে। তবে শিশুদের উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। তাই শিশুদের জন্য সব রকমের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করা জরুরি। দেশ যেমন উন্নত হচ্ছে, সে সঙ্গে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। যেমন তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি সাইবার বুলিং (শিশুরা সবচেয়ে বেশি যে অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছে- সেটা হলো অভদ্র বা অশ্নীল ভাষার প্রয়োগ তারা দেখছে) সাইবার ক্রাইম, যৌন নির্যাতন, আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি, অনিরাপদ যৌন মিলন। তাই সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থাকে শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষার পাশাপাশি এসব নতুন সমস্যা মোকাবিলায়ও কাজ করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।



মো. আকরাম-আল-হোসেন

শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাচক্র শেষ করার প্রবণতা বাড়ছে। ক্রমেই কমছে ঝরে পড়ার হার। সরকারের নানান কর্মসূচি এবং সবার সচেতনতায় এমন সাফল্য এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ, তার অন্যতম শর্ত শিক্ষা ও মানবসম্পদের উন্নয়ন। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত এক দশকে প্রাথমিক স্তরে সফলতা সবচেয়ে বেশি। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রায় শতভাগে পৌঁছেছে। ২০১০ সালে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৯.৮ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এখন তা মাত্র ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। দেশে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ ছাড়া দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৬২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে; ২০০৫ সালে ছিল ৩৭ হাজার ৬৭২টি। দুই হাজার জনবসতি এবং দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকলে সরকার সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকার আন্তরিক। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এলাকায় স্ব-স্ব মাতৃভাষায় পাঠদান ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এ জন্য ৬৫ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।



খাদিজা নাজনীন

সমাজে যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে, অবহেলিত ও বঞ্চিত, তাদের সবাইকে নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শেখ রাসেল শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রয়েছে স্কুল। প্রায় এক লাখ এতিম শিশুকে নিয়মিত ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্যও রয়েছে নানারকম সুবিধা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে শিশুরা উন্নত জীবন পাবে।



এম রবিউল ইসলাম

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কয়েকমুখী। কয়েক বছর পরপর শিক্ষার কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। মাঝে মধ্যে পাঠ্যবই, সূচি এবং সিলেবাসেও গুরুত্বপূর্ণ বদল আনা হয়। এর প্রভাব শিশুদের ওপর পড়ে। তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। তাদের ব্যাগভর্তি বইয়ের বিষয়েও আদালতের নির্দেশনা দিতে হয়। অথচ বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্ব আমাদের সবার। সবার আগে আমাদের টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া আমরা অনেকেই শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে অনেক কাজ করি। কিন্তু একটি শিশুকে শ্রম থেকে বের করে এনে শিক্ষামুখী করার পরে তার ভবিষ্যতের চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারি না। এতে শিশুশ্রম বন্ধের উদ্যোগ অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। গত আট মাসে শিশুদের ওপর নির্যাতন-সহিংসতার যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক। শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।



এম আই নাহিল

বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া শিশুদের শিক্ষা ও সামগ্রিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সেক্ষেত্রে আমরা দেখে থাকি যে, শিশুরা নানা জায়গায় শাস্তির শিকার হয়। কর্মক্ষেত্রে তো আছেই, শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও তারা শাস্তির শিকার। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে প্রভাবিত। এটির নেতিবাচক প্রভাব যেন শিশুদের মাঝে না পড়ে, বিষয়টি যত্নসহকারে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একটি তথ্যে দেখা গেছে যে, ২০ শতাংশ শিশু মানসিক বিকারগ্রস্ত; যা মোট শিশুর অর্ধেক। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত হবে তখনই, যখন শিশুদের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত হবে। উন্নয়নের চাবিকাঠির মধ্যেই শিশুরাই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া দেশজুড়ে শিশুরা যেভাবে ধর্ষণ, খুন, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়, সেটি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

নাজমুল হুদা শামীম

আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে পাঁচটি অঞ্চল ছিল, যেখানে জন্মনিবন্ধন করা যেত। এখন ৫৪টি ওয়ার্ডে আলাদা করে জন্মনিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধীদের খুবই গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে থাকে। আমরা চাই একটি শিশুবান্ধব নগর প্রতিষ্ঠা হোক। আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, বর্তমানে দেশে কর্মজীবী মা-বাবার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে তাদের সন্তানদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি তার পরবর্তী জীবনে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই শিশুদের জন্য মানসম্মত ডে কেয়ার সেন্টারের অপ্রতুলতা রয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টারের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আমি বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখেছি, বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাজে ডুপ্লিকেসি রয়েছে। এটি ঠিক নয়। তারা সমন্বিতভাবে কাজগুলো ভাগ করে নিলে সামগ্রিকভাবে শিশুরাই উপকৃত হবে।



মো. আজিজুর রহমান

বাংলাদেশ হলো জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে সর্বপ্রথম সই করা ২২টি দেশের মধ্যে একটি। সে অনুযায়ী এ দেশে শিশুদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ সরকারকে শিশুদের জন্য ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখনই শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর সময়ের দাবি। শিশু অধিকার সনদে অনুচ্ছেদ ১৪/১ এবং ২- এর ওপর থেকে রিজারভিশন উঠিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার দরকার।



আফসান চৌধুরী

আমি ৩৫ বছর ধরে শিশুদের নিয়ে কাজ করছি। সরকারের নানারকম সাফল্য যেমন রয়েছে, অনেক ঘাটতিও রয়েছে। আমি দেখেছি, জনগণ না নড়লে উন্নয়ন হয় না। সরকারের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা ওভাবে তৈরি হচ্ছে না। ১৯৯৫ সালে শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের কাজ যেখানেই করতে যাই, বাধা আসে। সরকার চাইলে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জায়গাগুলোতে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে শিশু অধিকার নিয়ে যারা কাজ করছে, তাদের নিয়ে একটি জয়েনিং কমিটি গঠন করে দিতে পারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। তাতে শিশুদের নানা অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সমন্বিত উদ্যোগে সবার সামনে উঠে আসবে। সমন্বয়ের বিষয়ে ঘাটতি এখনও রয়েই গেছে।



মার্ক পিয়ার্স

১৯১৯ সালে শিশুর কল্যাণেই সেভ দ্য চিলড্রেনের জন্ম। ইতোমধ্যে আমরা একশ' বছর অতিক্রম করে ফেলেছি। এর মধ্যে প্রায় ৫০ বছর আমরা বাংলাদেশের দরিদ্রতাসহ নানা ইস্যুতে কাজ করছি। শুরুর দিক থেকে কাজ এগিয়ে নেওয়াটা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। বাংলাদেশে নানা বিষয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে। কিছু জায়গায় এখনও বৈষম্য বিরাজমান। শিশুদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তুলে আনতে হবে। তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে। তাদের আলাদা করে জায়গা করে দিতে হবে, যেন তারা নিজেরা একটা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। এসব কঠিন কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হলো বাল্যবিয়ে। এটি বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।



লরা ক্রাডিয়া

শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের নানা অর্জন রয়েছে সত্যি, কিন্তু বাজেটসহ নানা বিষয়ে শিশুদের বিষয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে। কারণ, চলতি বছরের আট মাসে শিশুর ওপর সহিংসতার যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে ২৫ বছর ধরে কাজ করছে। এ সময়ে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। চলতি বছরের আট মাসের যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটির প্রভাব সমাজে ব্যাপকভাবে রয়েছে। আমরা চাই, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড অচিরেই বন্ধ হোক। এর জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর উচিত, সরকারের কাছে সময়োপযোগী পরামর্শ তুলে ধরা। সরকারেরও উচিত বাজেট বরাদ্দসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতে শিশুর বিষয়টি আরও বিশেষ বিবেচনায় ভাবা।

ক্রিস্টাইন জিইথেন ইপ্পেসেন

শিশুদের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ৩০ বছরে বিশ্বব্যাপী অনেক কাজ হয়েছে। তবে আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে। জাতিসংঘ শিশু সনদের নীতি অনুযায়ী দেশগুলো উন্নতি ও অগ্রগতি সাধনের সর্বাত্মক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের গতি আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে এটি পুরোপুরি বন্ধ হওয়া জরুরি। কারণ, বাল্যবিয়ে শিশুদের নানা উন্নতি ও অগ্রগতিকে থমকে দেয়। এ বিষয়ে সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা চাই। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর তৎপরতায় বাল্যবিয়ে পুরোপুরি নিরোধ করা সম্ভব।



ভ্যালেন্টিনা লুচেসি

গত আট মাসের তথ্যে শিশু নির্যাতন, সহিংসতা, বাল্যবিয়ে এবং শিশুমৃত্যুর যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি খুবই উদ্বেগজনক। এটি গভীরভাবে বিশ্নেষণ করে দেখতে হবে। জানতে হবে ঘাটতিগুলো কোথায়। কোন জায়গায় বেশি মনোযোগ দিতে হবে। মাঠপর্যায়ে শিশুদের পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করতে হবে। আমি উত্তরবঙ্গে শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করেছি। সাবরিনা নামে ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসে। মেয়েটি রাজি হয়নি। পরে বাবা-মা তাকে জোর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেয়। এতে খুব দ্রুতই সে গৃহিণী হয়ে ওঠে। অথচ ওই সময়টা তার কৈশোর এবং দুরন্তপনার। তার মানসিক বিকাশের সময়টা এভাবে আটকে গেল। এতে তার মানসিক এবং স্বাস্থ্যহানির ব্যাপক ক্ষতি হবে। এখন সময় বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।



মাহমুদুল কবির

৫০ বছর আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। সেটি ছিল খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এরপর জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও সই করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ভূমিকা শুরু থেকেই দেখার মতো ছিল। এত কিছুর মধ্যেও শিশু নির্যাতন ধারাবাহিকভাবে চলছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। আমাদের দেখতে হবে ঘাটতিগুলো কোথায়। আমাদের দেখতে হবে শেষ ৩০ বছরে বাংলাদেশে শিশুদের ওপর চলমান নির্যাতন, সহিংসতা কোন পর্যায়ে রয়েছে। শিশুনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন হোক। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে গুরুত্ব না দিলে এবং তাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ না হলে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হয়ে উঠবে। যৌনপল্লিতে বেড়ে ওঠা শিশুর মানসিক বিকাশ এবং তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।



চন্দন ডেজ গোমেজ

রাজধানীসহ দেশের সব জেলা-উপজেলায় শিশুর জন্য শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শিশুর অবস্থান কোথায়? 'শিশু অধিকার' কেন প্রয়োজন? কারণ এটা এখন সময়ের দাবি। প্রায় ছয় কোটি শিশু রয়েছে বাংলাদেশে। অথচ তাদের মতামত গ্রহণের কোনো ব্যবস্থা নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই, যেখানে শিশু তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরবে। তাই মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শিশুর অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর দাবি-দাওয়া মেটানো শুধু বাধ্যতার কাজ নয়, এর অর্থনৈতিক অর্থও রয়েছে। যেসব দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, তারা শিশুর পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছে। প্রকৃতপক্ষে, শিশুর জন্য বিনিয়োগ না করার ফলে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি, তা শিশুর অধিকার পূরণ করার ব্যয়ের চেয়েও অনেক অনেক গুণ বেশি। শিশুর ভোটাধিকার না থাকায় তারা সকল পর্যায়ের নেতা, সংসদ সদস্য, কাউন্সিলর, সরকারি চাকরিজীবী, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা, বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সমাজকর্মী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকের ওপর নির্ভর করে, যারা তাদের অধিকারকে সম্মান করা, সংরক্ষণ করা ও পূরণ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। অথচ তা হচ্ছে না। তাই জেলা-উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিশুকে জায়গা করে দিতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রশাসনে যেসব কাঠামো আছে, সবক্ষেত্রেই এ জায়গা তৈরি করে দিতে হবে শিশুকে। এ ছাড়া সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো- কিশোর-কিশোরীর উন্নয়নে ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ক্লাব গঠন করা। বরাবরের মতো এবারও সরকারের কাছে আবেদন, শিশুর মতামত প্রকাশে ভিন্ন একটা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত করা অথবা শিশুকল্যাণ বোর্ড গঠন করার দাবি জানাচ্ছি।



জনী এম সরকার

শিশুদের বিষয়ে তিনটি পয়েন্ট নিয়ে আমি কথা বলতে চাই। শিশুর ক্ষেত্রে বৈষম্য, ঘাটতি এবং তা উত্তরণের উপায়। আমাদের দেশে শিক্ষা, গতি, রং, ভাষা, ধর্ম, রাজনীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধিতা এবং জন্মগত নানা বিষয়ে বৈষম্য লক্ষণীয়। কিন্তু সব শিশুকে সমান বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের সমানভাবে নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই হলো, কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। হাওর, চর, চা-বাগানসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় অনেক শিশু বসবাস করছে। মোট শিক্ষার্থীর শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ নানা শ্রেণির প্রতিবন্ধী। ইউনিসেফের ২০১৪ সালের তথ্যমতে, প্রতিবন্ধীদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ শিশু শিক্ষা গ্রহণ করছে। কেবল নানা জায়গায় শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বসে থাকলে চলবে না, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



গোলাম আহমেদ ইসহাক

প্রতিটি শিশুই পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠবে, এটাই কাম্য। তারপরও সারা পৃথিবীতে প্রায় ১৩০ লাখ শিশু পিতা-মাতার যত্নবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পিতামাতার স্নেহবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, এমন শিশুর প্রকৃত সংখ্যা আমাদের দেশে কত, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশ এসব শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করছে। এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশ-এর ফ্যামিলি কেয়ার প্রকল্পের আওতায় পিতৃমাতৃহীন শিশুরা পায় একটি স্নেহশীল ও সুরক্ষিত পরিবার। একটি পূর্ণাঙ্গ যত্নকাঠামো ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় থেকে শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে, যা তাকে মর্যাদার সঙ্গে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে। এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশ-এর গৃহীত সব কর্মসূচি জাতিসংঘ প্রণীত শিশু অধিকার সনদ, শিশুদের বিকল্প সেবাযত্নের জন্য নির্দেশিকা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ভিত্তিতে পরিচালিত। জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদিত শিশুদের জন্য বিকল্প পরিচর্যা নির্দেশিকার আলোকে বাংলাদেশের বিকল্প পরিচর্যার আওতায় থাকা শিশুদের জন্য একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।



সৈয়দ মতলুবর রশীদ

জয়েনিং ফোর্সেস হচ্ছে বিশ্বব্যাপী একটি উদ্যোগ। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন ছয়টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এটি। সংস্থাগুলো হলো- এডুকো, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ বাংলাদেশ, তেরে দাস হোমস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন। 'চাইল্ড রাইটস নাও' এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ধরা হয়েছে, এগুলো মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সম্ভব। ছোট ছোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সহিংসতা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও এ লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে। জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমানে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করলেও ভবিষ্যতে অন্য বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করব। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা কী কী কাজ করব, তা নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জয়েনিং ফোর্স সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করছে।

প্রধান অতিথি



ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা

প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক



আলোচক



মাহজাবিন খালেদ

চেয়ারম্যান, খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম

ট্রাস্ট এবং সাবেক সংসদ সদস্য



মো. আকরাম-আল-হোসেন

সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়



খাদিজা নাজনীন

উপসচিব (কার্যক্রম অধিশাখা), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়



আফসান চৌধুরী

অধ্যাপক, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি



এম আই নাহিল

প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন, অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন



এম রবিউল ইসলাম

সদস্য সচিব, শিশু অধিকার বিষয়ক কমিটি ও উপপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন



জনী এম সরকার

কান্ট্রি ডিরেক্টর, এডুকো



লরা ক্রাডিয়া

ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল



মার্ক পিয়ার্স

কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন



গোলাম আহমেদ ইসহাক

ন্যাশনাল ডিরেক্টর এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ



মাহমুদুল কবির

কান্ট্রি ডিরেক্টর, টিডিএইচ নেদারল্যান্ডস



চন্দন ডেজ গোমেজ

প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড ভিশন



ক্রিস্টাইন জিইথেন ইপ্পেসেন

কান্ট্রি ডিরেক্টর, টিডিএইচ লুসান



ভ্যালেন্টিনা লুচেসি

কান্ট্রি ডিরেক্টর, টিডিএইচ ইতালি



মো. আজিজুর রহমান

সোশ্যাল পলিসি স্পেশালিস্ট, ইউনিসেফ



নাজমুল হুদা শামীম

আইন কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন



সৈয়দ মতলুবর রশীদ

অ্যাডভাইজার এডুকো



সঞ্চালক



মুস্তাফিজ শফি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সমকাল



অনুলিখন



সাজিদা ইসলাম পারুল

স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল



জয়নাল আবেদীন

স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল