মৃত্যুর মিছিলে আলোর মুখ

কালের যাত্রা

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২১     আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২১

২০২০ সালে শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, ক্রীড়া, চিকিৎসা, প্রশাসন, আইন বিভাগ, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন অঙ্গনে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার কৃতী সন্তানদের। বার্ধক্যজনিত কারণ ছাড়াও বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক গুণীজন ইহলোক ছেড়ে অনন্তযাত্রা করেছেন...

আনিসুজ্জামান

১৪ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃতদেহ থেকে নমুনা নিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হলে জানা যায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরী

প্রখ্যাত প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী গত ২৮ এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এবং ২০১২ থেকে আমৃত্যু ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য।

মুর্তজা বশীর

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন মুর্তজা বশীর। তিনি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট এবং ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে।

মোহাম্মদ নাসিম

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জুন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মৃত্যুবরণ করেন। মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং '৭৫-এর ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

২৪ অক্টোবর ৮৪ বছর বয়সে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তিনি ছিলেন একজন আইনজীবী এবং বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল।

আলী যাকের

২৭ নভেম্বর মারা যান বাংলাদেশের টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকে সমানভাবে জনপ্রিয় অভিনেতা আলী যাকের। তিনি অভিনেতা ছাড়াও ছিলেন সফল ও দেশীয় বিজ্ঞাপন শিল্পের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

সি আর দত্ত

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত যুক্তরাষ্ট্র্রের ফ্লোরিডায় মারা যান ২৫ আগস্ট। তিনি সি আর দত্ত নামেই বিশেষ পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চিত্তরঞ্জন দত্ত বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত হন।

কামাল লোহানী

২০ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক কামাল লোহানী। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গঠিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

কবি, কথাসাহিত্যিক, শিল্প সমালোচক এবং শিক্ষাবিদ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ২৩ মার্চ। প্রবন্ধ, গবেষণা, ছোটগল্প, কবিতা, অনুবাদ, সম্পাদনাসহ দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

রাহাত খান

প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খান প্রয়াত হন ২৮ আগস্ট। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় তিনি ষাটের দশক থেকে কর্মরত ছিলেন। বাংলা ছোটগল্প ও উপন্যাস এই উভয় শাখাতেই তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

মাহবুবে আলম

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবে আলমের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

রশীদ হায়দার

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে ১৩ অক্টোবর মারা যান প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক রশীদ হায়দার। গবেষক হিসেবে তার অনন্য কাজ 'স্মৃতি: ১৯৭১' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক গ্রন্থ।

সাহারা খাতুন

৯ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন কিডনি ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভুগে মারা যান।

এমাজউদ্দীন আহমদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ১৭ জুলাই মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর প্রশাসন-ব্যবস্থা, বাংলাদেশের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করেছেন।

লতিফুর রহমান

প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও দৈনিক প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা দুটির প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমান মারা যান ১ জুলাই। তার নেতৃত্বে পরিচালিত ট্রান্সকম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান।

একেএম মোশাররফ হোসেন

বিএনপি নেতা ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৭ অক্টোবর মারা যান।

জাফর আলম

১৯ জুন দেশের অন্যতম প্রধান অনুবাদক জাফর আলম মারা যান। বহু বিখ্যাত গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি।

সাইদা খানম

বাংলাদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম মারা যান ১৮ আগস্ট। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার আজিমপুর এলাকায় অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণরত নারীদের ছবি তোলেন সাইদা খানম।

আবুল হাসনাত

কবি ও প্রখ্যাত সাহিত্য সম্পাদক আবুল হাসনাত প্রয়াত হয়েছেন ১ নভেম্বর। দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতা এবং সাহিত্য সাময়িকি কালি ও কলমের সম্পাদক ছিলেন। মাহমুদ আল জামান নামে তিনি কাব্যচর্চা করতেন।

শুদ্ধানন্দ মহাথের

সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৩ মার্চ। তিনি ছিলেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় পণ্ডিত। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ছিলেন।

নুরুল ইসলাম বাবুল

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম বাবুল করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৩ জুলাই মারা যান। তিনি দৈনিক যুগান্তর, যমুনা টেলিভিশন এবং যমুনা ফিউচার পার্কের কর্ণধার ছিলেন।

জিয়াউদ্দিন তারিক আলী

মুক্তিযুদ্ধে যে গানের দলটি ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধা, শরণার্থী ও অসহায় মুক্তিকামী মানুষদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, সেই দলের সদস্য এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী মারা গেছেন ৭ সেপ্টেম্বর।

আলাউদ্দিন আলী

বরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্ব আলাউদ্দিন আলী মারা যান ৯ আগস্ট। বহু জনপ্রিয় বাংলা গানের সুরকার আলাউদ্দিন আলী ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন।

এন্ড্রু কিশোর

বাংলা চলচ্চিত্রের 'প্লে ব্যাক সম্রাট'খ্যাত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৬ জুলাই। বহু শ্রোতাপ্রিয় বাংলা গানের জন্য তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

সাদেক বাচ্চু

ঢাকার চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ সাদেক বাচ্চু করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার অভিনীত নাটক ও সিনেমার সংখ্যা হাজারেরও বেশি।

বাদল রায়

আশির দশকের অন্যতম সেরা ফুটবলার বাদল রায় মারা যান ২২ নভেম্বর। ক্রীড়ানৈপুণ্যে তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হন।

মান্নান হীরা

২৩ ডিসেম্বর আরণ্যক নাট্যদলের সভাপতি নাট্যকার মান্নান হীরা মারা যান। দীর্ঘদিন তিনি নানা রোগে ভুগছিলেন।

আবদুল কাদের

২৬ ডিসেম্বব না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদের। বাংলাদেশের টিভি নাটকে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

সাদ'ত হুসাইন

২০ এপ্রিল ৭৩ বছর বয়সে মারা যান সাদ'ত হুসাইন। তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য আমলা এবং 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন'-এর নবম চেয়ারম্যান। মুক্তিযোদ্ধা সাদ'ত হুসাইন ১৯৭১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারে কাজ করেছেন।