আরও একটি টি২০ বিশ্বকাপ সামনে। সত্যি বলতে কি, টুর্নামেন্টটি নিয়ে দারুণ এক্সাইটেড আমি। দু-দু'বার এই শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলাম আমি (২০১২ ও ২০১৬)। মনে হয়, এই তো সেদিন ইডেন গার্ডেন্সে ট্রফি তুলে ধরেছি, সতীর্থদের মুখগুলো মনে পড়ছে খুব। এবার হয়তো দলের সঙ্গে নেই, আবার বাইরেও নেই। কারণ একজন গর্বিত ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে সব সময় এ দলটির সঙ্গে আমার আত্মিক একটা সম্পর্ক থাকেই। একটু বলতে পারি, আমরা টি২০ বিশ্বকাপের ট্রফিটি অন্য কাউকে দিচ্ছি না। এবারও আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো। আমার বিশ্বাস, দলের প্রত্যেকে এই বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। কভিডকালীন এই সময়ে টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। এটা ভেবেও ভালো লাগে।

যেটা বলছিলাম, আমার চোখে এবারও টুর্নামেন্টের ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সঙ্গে ইংল্যান্ডকে রাখব আমি। আমার মনে হয়, গতবারের মতো (২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপ) এবারও ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুটি দল। নিজে ক্যারিবিয়ান বলেই শুধু বলছি না, একজন ক্রিকেট বিশ্নেষক হিসেবেও বলতে পারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন শিরোপার দাবিদার। আমাদের স্কোয়াডে একবার চোখ বোলালেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। অধিনায়ক পোলার্ড এবার কাকে কাকে পাচ্ছেন, একবার দেখুন- ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, জেসন হোল্ডার, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, এভিন লুইস... আর কত নাম বলব। লম্বা তালিকা আমার হাতে, যারা কিনা বিশ্বের যে কোনো বোলারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দল যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। আন্দ্রে রাসেলকেই দেখুন, স্ট্রাইক রেট দেড়শর ওপর। যে কিনা প্রয়োজনের সময়ে দারুণ বোলিংও করে। এ ধরনের অলরাউন্ডার দিয়ে যে কোনো ম্যাচ বের করে আনা যায়। তবে হ্যাঁ, ইংল্যান্ডের সঙ্গেই আমাদের প্রথম ম্যাচ- আর সেটাই আমার একমাত্র চিন্তার কারণ। অক্টোবরের ২৩ তারিখটিই হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই ফরম্যাটে ইংল্যান্ড বেশ কয়েক বছর ধরেই দারুণ খেলছে। তার ওপর তারা বছর দুয়েক আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপও জিতেছে। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে ইংলিশরা। তবে ইংলিশদের জন্য আরব আমিরাতের কন্ডিশন একটু কঠিন হয়ে যেতে পারে। আমার মনে হয়, আমিরাতের কয়েকটি পিচ ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ধরনের পিচে ভারতও ভালো করবে। তা ছাড়া এখানে আইপিএল হচ্ছে, যেটা কোহলিদের সত্যিকারের একটা অ্যাডভান্টেজ দিতে পারে। তাই ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে উঠলে অবাক হবো না। তবে যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ওই ১৪ নভেম্বর ট্রফি কিন্তু উঠবে পোলার্ডের হাতেই। ট্রফি আমরা কাউকে দেবো না।

মন্তব্য করুন